চড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, অজুহাত বৃষ্টি-বন্যা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

কাঁচাবাজারে সবকিছুর দাম চড়া। স্ট্রিম ছবি

টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজার আবারও চড়েছে। ধান, চাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মুরগিসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা। দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা বৈরী আবহাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতিকে দায়ী করলেও ক্রেতারা বলছেন, নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম এবং বন্যায় খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ছোট আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ এবং মাঝারি আকারের রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী জামিল হোসেন জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সবজির বাজারে পরিস্থিতি আরও চড়া। বেগুন ৯০-১২০, করলা ৮০-১০০, বরবটি ১০০, ঝিঙা ৮০-৯০, চিচিঙ্গা ৭০-৮০, শসা ১২০-১৬০ এবং লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি সাধারণ মানের ক্ষেত্রে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালো মানের মরিচ ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে (২০-৪০ টাকা), পটল ও ঢ্যাঁড়স (৪০-৬০ টাকা)। আমদানি বাড়ায় টমেটোর দাম কিছুটা কমে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

পেঁয়াজ ও আলুর দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশি ও হাইব্রিড পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ এবং আলু ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে রসুনের দাম বেড়েছে। দেশি রসুন কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ এবং আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইলসহ উন্নত মানের চাল প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের ব্রি-২৮ ও পাইজাম চালের দাম ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা। মোটা চাল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পোলাও চালের দাম প্রতি কেজিতে ১৯০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

কারওয়ান বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কামরান আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই বাজারে এসে দামের ধাক্কা খেতে হচ্ছে। আমাদের আয় বাড়ছে না, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে।’

হাতিরপুল কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক গৃহিণী বলেন, ‘আমাদের সীমিত আয়ের সংসারে হিসাব করে মাস চালাতে হয়। তাই এই মাসে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম মাছ-মাংস কিনেছি। সবজি খাওয়াও কমাতে হয়েছে।’

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা বর্ষণ ও বন্যায় দেশের ৪৩ জেলার প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আগামী মৌসুমের ধান উৎপাদনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের মতে, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নদীবন্দর দিয়ে পণ্য খালাস এবং খাতুনগঞ্জ ও কারওয়ান বাজারের মতো বড় পাইকারি বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত