কাজী নিশাত তাবাসসুম

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের সরু এক জলপথ। নাম তার ‘বাব এল-মান্দেব’। আরবিতে এর অর্থ —‘কান্নার দুয়ার’ বা ‘গেট অব টিয়ার্স’। এই জলপথের একদিকে ইয়েমেনের উপকূল, অন্যদিকে জিবুতি আর ইরিত্রিয়ার তীর।
সংকীর্ণ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন পাড়ি দেয় শত শত জাহাজ—তেলের ট্যাংকার, গ্যাসবাহী কনটেইনার, খাদ্যশস্যের চালান। এতদিন এই পথটা ছিল স্রেফ বাণিজ্যের এক ব্যস্ত করিডর। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই শান্ত জলপথ পরিণত হয়েছে ভূরাজনীতির এক টানটান মঞ্চে।
গল্পের শুরুটা মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো উত্তেজনা থেকে। সম্প্রতি সেই উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বহুদিনের আলোচনার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাব এল-মান্দেব। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা এই জলপথ বন্ধ করে দেবে।
গত সোমবারের (১৩ জুলাই) কথা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেল, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কড়া ভাষায় বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। তার আশঙ্কা, এমন কিছু ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ছুঁয়ে ফেলতে পারে ২০০ ডলার। সংখ্যাটা শুনতে নিছক পরিসংখ্যান মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝাঁকুনি দেওয়ার ক্ষমতা।
মানচিত্রে তাকালে বাব এল-মান্দেবকে নেহাতই একটা সরু ফোকর মনে হয়। কিন্তু এই ফোকর দিয়েই লোহিত সাগর থেকে জাহাজ এডেন উপসাগর পেরিয়ে পৌঁছায় আরব সাগরে, তারপর ভারত মহাসাগরে। আবার এই পথ ধরেই সুয়েজ খাল হয়ে জাহাজ পা রাখে ইউরোপের বন্দরে। এশিয়া আর ইউরোপের মাঝে সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপথগুলোর একটি এই বাব-এল মান্দেব।
তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, ভোগ্যপণ্য, খাদ্যশস্য, শিল্পের কাঁচামাল—এসবের বিশাল একটা অংশ প্রতিদিন এই জলপথ পাড়ি দেয়। কল্পনা করুন, যদি এই পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়? জাহাজগুলোকে তখন ঘুরপথে যেতে হবে আফ্রিকার একদম দক্ষিণ প্রান্ত ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে। পথ বাড়বে, সময় বাড়বে, খরচ বাড়বে। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ওপর, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার-সদাইয়ের থলিতে।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, ইরানের তো নিজস্ব উপকূল নেই এই প্রণালির তীরে, তাহলে তারা এত জোর গলায় হুমকি দিচ্ছে কীভাবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে। গত কয়েক বছর ধরে লোহিত সাগরে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এসব হামলার জেরে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানিকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হয়েছে বিকল্প পথ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার পর তেহরান এখন বাব এল-মান্দেবকেও দেখছে চাপ সৃষ্টির আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে ইরান সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্যমতে, তেহরান আসলে ওয়াশিংটনকে একটা বার্তা দিতে চাইছে। সেটি হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথকেই (হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব) একসঙ্গে ঝুঁকিতে ফেলার সামর্থ্য তাদের আছে।
এই কৌশলের পেছনে থাকতে পারে কয়েকটি হিসাব। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা, কিংবা পশ্চিমা শক্তিগুলোকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করা।
এই গল্পটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়। যদি সত্যিই বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তার ঢেউ গিয়ে লাগবে ইউরোপ, এশিয়া আর আফ্রিকার পণ্য পরিবহনেও। সরবরাহ শৃঙ্খলে টান পড়বে, বাড়বে পরিবহন খরচ আর জ্বালানি তেলের দাম। আর এই সবকিছুর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছাবে বিশ্বের নানা প্রান্তের বাজারে। এমনকি অতি সাধারণ একজন মানুষের বাজারের ব্যাগেও।
এই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় দেশগুলো লোহিত সাগরে বাড়িয়েছে নৌ টহল, জোরদার করেছে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা। কারণ তারা জানে, এই সরু জলপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার আঁচ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে লাগবে না, গোটা বিশ্ব অর্থনীতির গায়েই লাগবে।
কান্নার দুয়ার নামের এই জলপথ তাই এখন শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্ষমতার টানাপোড়েনের এক নীরব সাক্ষী। এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকাকে যুক্ত করা এই প্রবেশদ্বার যদি সত্যিই একদিন বন্ধ হয়ে যায়, তার প্রতিধ্বনি শোনা যাবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরের বাজারেও।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের সরু এক জলপথ। নাম তার ‘বাব এল-মান্দেব’। আরবিতে এর অর্থ —‘কান্নার দুয়ার’ বা ‘গেট অব টিয়ার্স’। এই জলপথের একদিকে ইয়েমেনের উপকূল, অন্যদিকে জিবুতি আর ইরিত্রিয়ার তীর।
সংকীর্ণ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন পাড়ি দেয় শত শত জাহাজ—তেলের ট্যাংকার, গ্যাসবাহী কনটেইনার, খাদ্যশস্যের চালান। এতদিন এই পথটা ছিল স্রেফ বাণিজ্যের এক ব্যস্ত করিডর। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই শান্ত জলপথ পরিণত হয়েছে ভূরাজনীতির এক টানটান মঞ্চে।
গল্পের শুরুটা মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো উত্তেজনা থেকে। সম্প্রতি সেই উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বহুদিনের আলোচনার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাব এল-মান্দেব। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা এই জলপথ বন্ধ করে দেবে।
গত সোমবারের (১৩ জুলাই) কথা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা গেল, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কড়া ভাষায় বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। তার আশঙ্কা, এমন কিছু ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ছুঁয়ে ফেলতে পারে ২০০ ডলার। সংখ্যাটা শুনতে নিছক পরিসংখ্যান মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝাঁকুনি দেওয়ার ক্ষমতা।
মানচিত্রে তাকালে বাব এল-মান্দেবকে নেহাতই একটা সরু ফোকর মনে হয়। কিন্তু এই ফোকর দিয়েই লোহিত সাগর থেকে জাহাজ এডেন উপসাগর পেরিয়ে পৌঁছায় আরব সাগরে, তারপর ভারত মহাসাগরে। আবার এই পথ ধরেই সুয়েজ খাল হয়ে জাহাজ পা রাখে ইউরোপের বন্দরে। এশিয়া আর ইউরোপের মাঝে সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপথগুলোর একটি এই বাব-এল মান্দেব।
তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, ভোগ্যপণ্য, খাদ্যশস্য, শিল্পের কাঁচামাল—এসবের বিশাল একটা অংশ প্রতিদিন এই জলপথ পাড়ি দেয়। কল্পনা করুন, যদি এই পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়? জাহাজগুলোকে তখন ঘুরপথে যেতে হবে আফ্রিকার একদম দক্ষিণ প্রান্ত ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে। পথ বাড়বে, সময় বাড়বে, খরচ বাড়বে। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ওপর, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজার-সদাইয়ের থলিতে।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, ইরানের তো নিজস্ব উপকূল নেই এই প্রণালির তীরে, তাহলে তারা এত জোর গলায় হুমকি দিচ্ছে কীভাবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে। গত কয়েক বছর ধরে লোহিত সাগরে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এসব হামলার জেরে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানিকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হয়েছে বিকল্প পথ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার পর তেহরান এখন বাব এল-মান্দেবকেও দেখছে চাপ সৃষ্টির আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে ইরান সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্যমতে, তেহরান আসলে ওয়াশিংটনকে একটা বার্তা দিতে চাইছে। সেটি হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথকেই (হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব) একসঙ্গে ঝুঁকিতে ফেলার সামর্থ্য তাদের আছে।
এই কৌশলের পেছনে থাকতে পারে কয়েকটি হিসাব। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা, কিংবা পশ্চিমা শক্তিগুলোকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করা।
এই গল্পটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়। যদি সত্যিই বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তার ঢেউ গিয়ে লাগবে ইউরোপ, এশিয়া আর আফ্রিকার পণ্য পরিবহনেও। সরবরাহ শৃঙ্খলে টান পড়বে, বাড়বে পরিবহন খরচ আর জ্বালানি তেলের দাম। আর এই সবকিছুর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছাবে বিশ্বের নানা প্রান্তের বাজারে। এমনকি অতি সাধারণ একজন মানুষের বাজারের ব্যাগেও।
এই আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় দেশগুলো লোহিত সাগরে বাড়িয়েছে নৌ টহল, জোরদার করেছে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা। কারণ তারা জানে, এই সরু জলপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার আঁচ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে লাগবে না, গোটা বিশ্ব অর্থনীতির গায়েই লাগবে।
কান্নার দুয়ার নামের এই জলপথ তাই এখন শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্ষমতার টানাপোড়েনের এক নীরব সাক্ষী। এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকাকে যুক্ত করা এই প্রবেশদ্বার যদি সত্যিই একদিন বন্ধ হয়ে যায়, তার প্রতিধ্বনি শোনা যাবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরের বাজারেও।
.png)

ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) টানা ষষ্ঠ রাতে তেহরানে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে পেন্টাগন। জবাবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।
১৭ জুলাই ২০২৬
মাঠে তখন তুমুল উল্লাস। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। দর্শকদের হর্ষধ্বণি, সতীর্থদের আলিঙ্গন, ক্যামেরার ঝলকানি—সে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য।
১৬ জুলাই ২০২৬
দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক হাসপাতাল। শয্যা ৭৫০টি। রয়েছে পাঁচটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র। তবে উদ্বোধনের প্রায় চার বছর পরও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।
১৫ জুলাই ২০২৬
একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বাড়ির আঙিনায় দু-চারটি দেশি মুরগি পালন করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য ডিম ও মাংসের জোগান। বাজারের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল খুবই সীমিত।
১৪ জুলাই ২০২৬