leadT1ad

প্রতি পাঁচ প্রার্থীর একজন ফৌজদারি মামলার আসামি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের একটি বড় অংশের উপর ঝুলছে মামলার খড়গ। প্রতি পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত একজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। আর অতীতে মামলা ছিল– এমন প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক মামলা থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে কোনো অপরাধী যেন মনোনয়ন না পান তা নিশ্চিতে যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী এ বিষয়ে বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতিপক্ষ থাকে, তাঁরা বিভিন্ন সময় হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে থাকে। যেমন, বিএনপি বা যেসব দলগুলো এখন নির্বাচন করছে তাঁদের নেতারা তো দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন, ফলে সরকারি দল তাঁদের বিরুদ্ধে নানা মামলা দিয়েছে। মূলত মামলাগুলো বিবেচনার ক্ষেত্রে দেখা হয়, আদৌ প্রমাণিত হয় কি না কিংবা সাজা হয়েছে কি না।

ফৌজদারি মামলায় আসামি ৫৩০ প্রার্থী

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৯৮১ প্রার্থী। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৫৩০ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এই হার সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে মাত্র ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী কোনো না কোনো সময় ছিলেন আসামি

টিআইবি জানাচ্ছে, অতীতে মামলা ছিল এমন প্রার্থীর সংখ্যা এবার ৭৪০ জন, যা মোট প্রার্থীর ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সেই হিসাবে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীই জীবনের কোনো না কোনো সময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন।

অথচ সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমন প্রার্থীর হার ছিল ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দুই বছর পরের নির্বাচনে তা বেড়ে ৩১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

মারামারি ও শান্তিভঙ্গের মামলা বেশি

মামলার ধরন বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি আঘাতের জন্য, জনগণের শান্তিভঙ্গের জন্য, জীবন বিপন্নকারী অপরাধ, ভীতিপ্রদর্শন, অপমান ও উৎপাত, প্রতারণা– এসব অভিযোগে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘বিবিধ’ অপরাধের (৪৫১ জন) পরেই সবচেয়ে বেশি আসামি রয়েছে আঘাত বা মারামারির মামলায়– ২৫২ জন। এ ছাড়া জনগণের শান্তিভঙ্গের অভিযোগে মামলা আছে ২৫৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। জীবন বিপন্নকারী অপরাধের অভিযোগ আছে ১৯২ জনের বিরুদ্ধে। আর মামলা ভীতি প্রদর্শনের দায়ে ১৭৫ এবং প্রতারণার অভিযোগে ৬৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত