বজ্রপাতে দুই কিশোরসহ ছয়জনের ‍মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়

অটোয়ারীতে বজ্রপাতে মারা যাওয়া চা-শ্রমিকের বাড়িতে লোকজনের ভিড়। সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও বগুড়ায় বজ্রপাতে দুই কিশোরসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে পঞ্চগড়ের অটোয়ারীতের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটায় মারা যান দুই কিশোরসহ চারজন। এছাড়া বগুড়ার গাবতলীতে মারা গেছেন এক যুবক এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। এছাড়া মারা গেছে একটি গরু।

রোববার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে দুই কিশোরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় দুই কিশোরসহ চারজন বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। এ সময় পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে ছুটে যান। এছাড়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ায় যুবকের মৃত্যু

বগুড়ার গাবতলীতে বাড়ির পাশে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের জমি থেকে ছাগল আনতে যান সুমন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান।

পঞ্চগড়ে চা-শ্রমিক হতাহত

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর একটি বাগানে চা-পাতা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২১) নামে একজন চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তফা (৪৫) নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় ওই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার সোনাপাতিলা মাধগজ এলাকার আব্দুস ছামাদের ছেলে। আহত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সোনাপাতিলা এলাকার একটি বাগানে সোহরাওয়ার্দীসহ তিনজন শ্রমিক চা-পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পাশে থাকা মোস্তফা। তবে তাঁদের সঙ্গে থাকা জাহেরুল ইসলামের (৪৩) কোনো ক্ষতি হয়নি।

হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মনি দেবী বলেন, বজ্রপাতে নিহত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। পরিবারটির খোঁজ খবর রাখছে প্রশাসন।

সম্পর্কিত