স্ট্রিম সংবাদদাতা

দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গাইবান্ধায় মারা গেছেন দুই কিশোরসহ পাঁচজন। এছাড়া জামালপুর, সিরাজঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন করে মারা গেছেন। বগুড়া, পঞ্চগড় ও নাটোরে একজন করে মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোনায় ১, হবিগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে ১ জন ছিল।
গাইবান্ধায় দুই কিশোরসহ পাঁচজন
রোববার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে দুই কিশোরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় দুই কিশোরসহ চারজন বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। এ সময় পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে ছুটে যান।
এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মানিক মিয়ার (২৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে। তাঁকে পার্শ্ববর্তী সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম।
জামালপুরে দুজনের মৃত্যু, আহত চার
জামালপুরে বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মর্জিনা বেগম (২২) নামে দুজন মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
বিকাল ৩টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের মারা যান হাসমত আলী হাসু। তিনি ওই এলাকার হাবিবর রহমান মন্ডলের ছেলে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বরাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর ইউএনও নাজনীন আখতার।
একই সময় ওই এলাকার নূর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসন (৩৪), রুমান মিয়ার ছেলে শাওন (২৫) ও সুমনের মেয়ে সুখী (১৪) আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলায় বাড়িতে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এক সন্তানের জননী মর্জিনা বেগম ওই এলাকার রাজিবের স্ত্রী। এ সময় আহত হয়েছেন শেফালী (২৮) নামে আর এক নারী। তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান।
সিরাজগঞ্জে দুজন কৃষকের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বজ্রপাতের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা যাওয়া আব্দুল হামিদ (৫০) তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে গফুর আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, বিকেলে আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন বলে জানান তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।
একই দিন বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৫) বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে কাটা ধান জড়ো করছিলেন। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও মাঠেই দুজনের মৃত্যু
ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জে দুপুরে দিকে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুরে দুপুর দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন লাবণী আক্তার। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কোষাডাঙ্গীপাড়ার বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে দুপুরে বজ্রপাতের শিকার হন ইলিয়াস। এতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
বগুড়ায় যুবকের মৃত্যু
বগুড়ার গাবতলীতে বাড়ির পাশে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুল করিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের জমি থেকে ছাগল আনতে যান সুমন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান।
পঞ্চগড়ে চা-শ্রমিক হতাহত
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর একটি বাগানে চা-পাতা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২১) নামে একজন চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তফা (৪৫) নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় ওই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার সোনাপাতিলা মাধগজ এলাকার আব্দুস ছামাদের ছেলে। আহত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সোনাপাতিলা এলাকার একটি বাগানে সোহরাওয়ার্দীসহ তিনজন শ্রমিক চা-পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পাশে থাকা মোস্তফা। তবে তাঁদের সঙ্গে থাকা জাহেরুল ইসলামের (৪৩) কোনো ক্ষতি হয়নি।
হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মনি দেবী বলেন, বজ্রপাতে নিহত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। পরিবারটির খোঁজ খবর রাখছে প্রশাসন।
নাটোরে শ্রমিক নিহত
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, রোববার সকালে দলবদ্ধভাবে ধান কেটে বিকেলে সেই ধান গ্রামের আউয়ালে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সম্রাটসহ কয়েকজন। এ সময় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেন তাঁরা। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে সম্রাট গুরুতর আহত হন। অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
[এই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন স্ট্রিম-এর গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাও, বগুড়া, পঞ্চগড় ও নাটোর সংবাদদাতা]

দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গাইবান্ধায় মারা গেছেন দুই কিশোরসহ পাঁচজন। এছাড়া জামালপুর, সিরাজঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন করে মারা গেছেন। বগুড়া, পঞ্চগড় ও নাটোরে একজন করে মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোনায় ১, হবিগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে ১ জন ছিল।
গাইবান্ধায় দুই কিশোরসহ পাঁচজন
রোববার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে দুই কিশোরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় দুই কিশোরসহ চারজন বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। এ সময় পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে ছুটে যান।
এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মানিক মিয়ার (২৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে। তাঁকে পার্শ্ববর্তী সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম।
জামালপুরে দুজনের মৃত্যু, আহত চার
জামালপুরে বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মর্জিনা বেগম (২২) নামে দুজন মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
বিকাল ৩টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের মারা যান হাসমত আলী হাসু। তিনি ওই এলাকার হাবিবর রহমান মন্ডলের ছেলে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বরাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর ইউএনও নাজনীন আখতার।
একই সময় ওই এলাকার নূর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসন (৩৪), রুমান মিয়ার ছেলে শাওন (২৫) ও সুমনের মেয়ে সুখী (১৪) আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলায় বাড়িতে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এক সন্তানের জননী মর্জিনা বেগম ওই এলাকার রাজিবের স্ত্রী। এ সময় আহত হয়েছেন শেফালী (২৮) নামে আর এক নারী। তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান।
সিরাজগঞ্জে দুজন কৃষকের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বজ্রপাতের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা যাওয়া আব্দুল হামিদ (৫০) তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে গফুর আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, বিকেলে আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন বলে জানান তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।
একই দিন বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৫) বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে কাটা ধান জড়ো করছিলেন। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও মাঠেই দুজনের মৃত্যু
ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জে দুপুরে দিকে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুরে দুপুর দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন লাবণী আক্তার। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া কোষাডাঙ্গীপাড়ার বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে দুপুরে বজ্রপাতের শিকার হন ইলিয়াস। এতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।
বগুড়ায় যুবকের মৃত্যু
বগুড়ার গাবতলীতে বাড়ির পাশে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুল করিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের জমি থেকে ছাগল আনতে যান সুমন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান।
পঞ্চগড়ে চা-শ্রমিক হতাহত
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর একটি বাগানে চা-পাতা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২১) নামে একজন চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তফা (৪৫) নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় ওই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার সোনাপাতিলা মাধগজ এলাকার আব্দুস ছামাদের ছেলে। আহত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সোনাপাতিলা এলাকার একটি বাগানে সোহরাওয়ার্দীসহ তিনজন শ্রমিক চা-পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পাশে থাকা মোস্তফা। তবে তাঁদের সঙ্গে থাকা জাহেরুল ইসলামের (৪৩) কোনো ক্ষতি হয়নি।
হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে।
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মনি দেবী বলেন, বজ্রপাতে নিহত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। পরিবারটির খোঁজ খবর রাখছে প্রশাসন।
নাটোরে শ্রমিক নিহত
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, রোববার সকালে দলবদ্ধভাবে ধান কেটে বিকেলে সেই ধান গ্রামের আউয়ালে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সম্রাটসহ কয়েকজন। এ সময় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেন তাঁরা। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে সম্রাট গুরুতর আহত হন। অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
[এই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন স্ট্রিম-এর গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাও, বগুড়া, পঞ্চগড় ও নাটোর সংবাদদাতা]

বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যুবদল নেতা মনির খানের (৩৮) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে স্বজনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
নিজের চারটি গাড়ি ও চারজন চালক থাকার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১০ জুন) সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য নজিবুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে নিজের সম্পত্তির হিসাব জানাতে তিনি এই তথ্য দেন।
৭ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন এ কমিটি দুইটি গঠন করা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে