স্ট্রিম প্রতিবেদক

ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘কোনো ধরনের দরকষাকষি’ ছাড়াই ১৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের এ চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে নিরীক্ষা চালায়। গত বছরের এপ্রিলে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কোনো ধরনের দরকষাকষি’ ছাড়াই বিপুল অঙ্কের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে ১ হাজার মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের একটি চুক্তি অনুস্বাক্ষরিত হয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রুশ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল চুক্তি স্বাক্ষর করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক প্রকল্প দেশে প্রথমবারের মতো হওয়ায়, ব্যয় ‘কিছুটা বেশি’। একাধিক বিবৃতিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কমিশনও (রোসাটম)।
অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি ছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর আগে প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য আরও প্রায় দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল।
রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ভিভিআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। রোসাটম তুরস্কে একই প্রযুক্তিতে চার ইউনিটের আক্কুইউ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। চুক্তি অনুযায়ী এর সর্বমোট ব্যয় ২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ভারতের কুদামকুলামে রাশিয়ার ভিভিইআর ১০০০ প্রযুক্তিতে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রয়েছে। সেখানে আরও দুটি করে চারটি ইউনিটের ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
২০১২ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় জানানো হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যমতে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র নির্মাণে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। প্রকল্প ব্যয় চূড়ান্ত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দরকষাকষি টিম গঠন করে রাশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে সেই দরকষাকষির কোনো দালিলিক প্রমাণ বা ওয়ার্কিং পেপার পায়নি নিরীক্ষা দল। তাঁরা বলেছে, পরবর্তীতে ২ হাজার মেগাওয়াটের বদলে কোনো যৌক্তিকতা ছাড়াই ২৪০০ মেগাওয়াটের (প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বলা হয়েছে, কোনো ধরনের দরকষাকষি ছাড়াই ১৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ইপিসি চুক্তি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ। ২০০০ মেগাওয়াটের স্থলে ২৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং দরকষাকষির মাধ্যমে চুক্তিমূল্য নির্ধারণের কোন প্রমাণ পায়নি নিরীক্ষা দল।
এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান স্ট্রিমকে বলেন, সরকারি নিরীক্ষায় যেহেতু দরকষাকষি বা এ-সংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়া যায়নি, তার মানে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তি হয়নি।
তিনি বলেন, ফলে প্রকল্পের আকার ও ব্যয় বাড়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এ প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ পুরনো। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজগুলো হয়নি বলেও প্রশ্ন আছে। দুদকেও মামলা চলছে। ফলে কেন নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে জানতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। গত বছর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিবৃতি দিয়ে রোসাটম বলেছিল, তারা সব প্রকল্পে উন্মুক্ত কর্মপন্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধ নীতি এবং ক্রয় পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসা প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ততা বাহ্যিক নিরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হয়ে থাকে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘কোনো ধরনের দরকষাকষি’ ছাড়াই ১৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের এ চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে নিরীক্ষা চালায়। গত বছরের এপ্রিলে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কোনো ধরনের দরকষাকষি’ ছাড়াই বিপুল অঙ্কের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে ১ হাজার মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের একটি চুক্তি অনুস্বাক্ষরিত হয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রুশ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল চুক্তি স্বাক্ষর করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক প্রকল্প দেশে প্রথমবারের মতো হওয়ায়, ব্যয় ‘কিছুটা বেশি’। একাধিক বিবৃতিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কমিশনও (রোসাটম)।
অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি ছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর আগে প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য আরও প্রায় দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল।
রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ভিভিআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। রোসাটম তুরস্কে একই প্রযুক্তিতে চার ইউনিটের আক্কুইউ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। চুক্তি অনুযায়ী এর সর্বমোট ব্যয় ২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ভারতের কুদামকুলামে রাশিয়ার ভিভিইআর ১০০০ প্রযুক্তিতে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রয়েছে। সেখানে আরও দুটি করে চারটি ইউনিটের ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
২০১২ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় জানানো হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যমতে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র নির্মাণে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। প্রকল্প ব্যয় চূড়ান্ত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দরকষাকষি টিম গঠন করে রাশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে সেই দরকষাকষির কোনো দালিলিক প্রমাণ বা ওয়ার্কিং পেপার পায়নি নিরীক্ষা দল। তাঁরা বলেছে, পরবর্তীতে ২ হাজার মেগাওয়াটের বদলে কোনো যৌক্তিকতা ছাড়াই ২৪০০ মেগাওয়াটের (প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বলা হয়েছে, কোনো ধরনের দরকষাকষি ছাড়াই ১৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ইপিসি চুক্তি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ। ২০০০ মেগাওয়াটের স্থলে ২৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং দরকষাকষির মাধ্যমে চুক্তিমূল্য নির্ধারণের কোন প্রমাণ পায়নি নিরীক্ষা দল।
এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান স্ট্রিমকে বলেন, সরকারি নিরীক্ষায় যেহেতু দরকষাকষি বা এ-সংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়া যায়নি, তার মানে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তি হয়নি।
তিনি বলেন, ফলে প্রকল্পের আকার ও ব্যয় বাড়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এ প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ পুরনো। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজগুলো হয়নি বলেও প্রশ্ন আছে। দুদকেও মামলা চলছে। ফলে কেন নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে জানতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। গত বছর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিবৃতি দিয়ে রোসাটম বলেছিল, তারা সব প্রকল্পে উন্মুক্ত কর্মপন্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধ নীতি এবং ক্রয় পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসা প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ততা বাহ্যিক নিরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হয়ে থাকে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উচ্চ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে শনিবার (২ মে) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান এই ঘোষণা দেন।
৭ মিনিট আগে
ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই চার বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
১৯ মিনিট আগে
পানির যথাযথ ব্যবহারের জন্য সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টিতে যেন জলাবদ্ধতা না হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়, সেজন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
৩২ মিনিট আগে
ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জাল ভোট, বুথে টেম্পারিং এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে নজিরবিহীন বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল। সংগঠনটির দাবি, প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।
৩৭ মিনিট আগে