বঙ্গোপসাগরে ধরা ২৫ মণ করাতি হাঙ্গর, পটুয়াখালীতে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পটুয়াখালী

বঙ্গোপসাগরে ধরা করাত হাঙ্গরটি বিক্রি হয় মঠবাড়িয়া পৌর আড়তে। স্ট্রিম ছবি

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে প্রায় ২৫ মণ ওজনের একটি করাত হাঙ্গর (স’ফিস) ধরা পড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া বাজারে তোলা হলো মাছটি দেখতে ভিড় করেন ক্রেতারা। পরে মাছটি কেটে ভাগ হিসেবে প্রায় ৮ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন দুজন ব্যবসায়ী। বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের প্রতি ভাগ ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন তারা।

এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে বঙ্গোপসাগরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কয়েকজন জেলের চালে ধরা পড়ে করাত হাঙ্গরটি। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘খটক মাছ’ হিসেবেও পরিচিত।

মাছটি কেনা-বেচায় জড়িত ব্যবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরের দিকে কাঁঠালিয়ার আমুয়া মৎস্য বন্দরে মাছ নিমালে তোলা হলে প্রথম তিন লাখ টাকা মাছটি কেনেন স্থানীয় এক আড়তদার। পরে সেখান থেকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার মাছ বাজারের ইজারাদার মো. মোস্তফা কামাল ও মো. জসিম শরীফ মাছটি ৫ লাখ টাকায় কিনে আনেন।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে হাঙ্গরটি একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে মঠবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করে ভাগ হিসেবে বিক্রির জন্য মাইকিং করা হয়। এ সময় মাছটি দেখার জন্য ভিড় করে এলাকার লোকজন।

বঙ্গোপসাগরে ধরা করাত হাঙ্গরটি বিক্রি হয় মঠবাড়িয়া পৌর আড়তে। স্ট্রিম ছবি
বঙ্গোপসাগরে ধরা করাত হাঙ্গরটি বিক্রি হয় মঠবাড়িয়া পৌর আড়তে। স্ট্রিম ছবি

পাইকারি ক্রেতা মো. জসিম শরীফ বলেন, ‘মাছটি আমরা ৫ লাখ টাকায় কেনেছি। পরে কেটে আমি ২ হাজার টাকা ভাগা দরে বিক্রি করেছি। স্থানীয়রা এত বড় মাছ মাত্র ২ হাজার টাকা ভাগে পেয়ে খুশি হয়ে নিয়েছে।’ মাছটি জেলার পাথরঘাটা বাজারে তোলা হলে প্রতি ভাগ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতো বলে দাবি করেন তিনি।

মাছের ক্রেতা হান্নান মিয়া বলেন, ‘এত বড় মাছ আমরা আগে কখনো পাইনি। ২ হাজার টাকা ভাগে বিক্রি হয়েছে। তাই সবাই মাছ কিনতে পেরেছে।’

আরেক ক্রেতা মিরাজ বলেন, ‘মাছটি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। এটা কি মাছ, নাকি জলজ দানব। এমন আকৃতির মাছের দেখতে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ‘এমন দানব আকৃতির করাত হাঙ্গর মাছ সহজে দেখা মেলে না। এটি গভীর সাগরে থাকে। একে জালে আটকানো অনেকটা অসম্ভব। তারপরও কাঁঠালিয়া জেলেদের জালে এটি ধরা পড়েছে।’

সম্পর্কিত