বরিশালে হামে আক্রান্ত ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৭

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫: ০৫
বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে হাম আক্রান্ত অনেক শিশু। স্ট্রিম ছবি

বরিশালেও বেড়েছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন আছে ৭৭ জন। এই বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে ভোলায় টিকার সংকট থাকলেও বাকি পাঁচ জেলায় টিকার সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে তথ্য বলছে, সারা দেশে দ্রুত হাম ছড়িয়ে পড়ায় এ অঞ্চলেও উদ্বেগ বাড়ছে। রোগীদের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার মধ্যেই চলছে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে হাসপাতালে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চেই ৮৯ জন ভর্তি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে এক শিশু মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন অনুসারে, হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছে।

বরিশাল নগরীর হরিণাফুলিয়ার বাসিন্দা রাশিদা বেগম তাঁর দুই বছরের শিশুকে নিয়ে এসেছেন শেবাচিম হাসপাতালে। নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে ভর্তি করানোর পর শয্যা দেওয়া হয়েছে হাম আক্রান্ত দেড় বছরের এক শিশুর পাশে। এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১ শয্যার কথা থাকলেও ভর্তি থাকছে চার শতাধিক শিশু।

রাশিদা বলেন, ‘হাম ছোঁয়াচে রোগ। তা ছাড়া হাম আক্রান্ত শিশুটিকে যেভাবে সবার সঙ্গে রাখা হয়েছে, তাতে ওই শিশুটিও বেশ কষ্ট পাচ্ছে। আমরাও আছি আতঙ্কে, যদি আমার ছেলেও আক্রান্ত হয়!’

হাম আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু রোগীর মা বলেন, ‘এখানেও বেড পাওয়াও মুশকিল। প্রথমে বেড পাচ্ছিলাম না। পরে ম্যানেজ করতে হয়েছে। রোগীর চাপ থাকায় এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট না থাকায় আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।’

হাম আক্রান্ত ৭৭ জন চিকিৎসাধীন আছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে ৭ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

বিভাগের ভোলা ছাড়া অন্য জেলায় হামের টিকার সংকট নেই জানিয়ে শ্যামল কৃষ্ণ বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার সঙ্গে হাম মোকাবিলা করতে হবে। শিশুদের নিরাপদে রাখাটা প্রথম কাজ।

সম্পর্কিত