জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সাগরে ৫৮ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ হচ্ছে, সুফল নিয়ে প্রশ্ন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ২২: ০৬
সাগরে ৫৮ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ হচ্ছে। সংগৃহীত ছবি

মাছের বংশবিস্তার, বেড়ে ওঠা ও টেকসই আহরণের জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে, মাছ ধরার অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সফল হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে বুধবার (১১ মার্চ) মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশের জলসীমায় বিদেশি ট্রলার ব্যবহার করে অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গেল বছরেও একই সময়ে সাগরে মাছ ধরায় একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার আগে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ৬৫ দিন।

অতীতের পর্যালোচনায় সরকারের এই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে জানতে চাইলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘উপকূলে যদি অবৈধ জাল বন্ধ না করা যায়, তাহলে এমন সিদ্ধান্তে কোনো লাভ হবে না। এ জন্য অবৈধ জাল কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে এরপর অবরোধটা সফল হবে। পাশাপাশি জনগণকেও এতে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশ একসাথে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত বলেও জানান এই গবেষক।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা একটি ভালো উদ্যোগ। এতে আমাদের মৎস্যসম্পদ রক্ষা পাবে। তবে অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছ রক্ষায় সবাইকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে।

বঙ্গোপসাগরে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। প্রতিবছর বাংলাদেশের জলসীমায় এ নিষেধাজ্ঞা ছিল ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই, মোট ৬৫ দিন। আর ভারতের জলসীমায় তা থাকে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন, মোট ৬১ দিন।

জেলেদের অভিযোগ, বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার মধ্যে ভারতীয় জেলেরা দেদারে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশের লাখ লাখ জেলে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই সঙ্গে সরকার যে উদ্দেশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত, তা শুধু ব্যাহতই হয় না; বরং দেশের সমুদ্র ও অভ্যন্তরীণ উৎসে মাছের মজুতও হুমকিতে পড়ে।

এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করে গত বছর যে প্রজ্ঞাপন জারি করে, তাতে প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের ভারতের জলসীমায়ও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের নিষেধাজ্ঞা থাকার দুই দিন আগে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাবে।

মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো। শুরুতে শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও ২০১৯ সাল থেকে সব ধরনের নৌযানকে এর আওতায় আনা হয়। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে উপকূলের কয়েক লাখ জেলে দুর্বিষহ অবস্থার মুখোমুখি হন।

নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করার জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল এবং দেশের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নৌ-অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের দাবি তুলে ধরে আসছিলেন। পরে গত বছরের মার্চে নিষেধাজ্ঞার সময় পুনর্বিন্যাস করে ৫৮ দিন করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত