গাইবান্ধা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

দেশের উত্তর জনপদের পিছিয়ে পড়া জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেগুলোর পাঠদান প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অভাবে এসব চরের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে চরম অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। অনেক শিক্ষক চরে নিয়োগ পেলেও বসবাস করেন জেলা শহরে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পরিবর্তে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব পালন কিংবা মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, শিক্ষকেরা নিয়মিত না আসায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে শিক্ষকেরা বলছেন, মাইলের পর মাইল বালুচর হাঁটা এবং বর্ষায় উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের ফলে তাঁরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, যা তাঁদের পাঠদানের স্পৃহা কমিয়ে দেয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি, গাইবান্ধা সদরে ১৫টি, ফুলছড়িতে ৫৮টি এবং সাঘাটায় ১৩টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ৪৭২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শূন্য পদের সংখ্যা ২২৪টি। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৯১৫ জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য খেয়াঘাটগুলোতে কর্মজীবীদের ভিড়। এসব মানুষের মধ্যে কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউবা এনজিও কর্মী। তাঁদের সবার উদ্দেশ্য চরের নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়া। জীবিকার তাগিদে মানুষ এক চর থেকে অন্য চরে ছুটছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এড়েন্ডাবাড়ী ধলীপাটাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে দূর থেকে দেখে এটি যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, চার কক্ষের একটি ঘর। অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক লডলিস সুলতানা এবং সহকারী শিক্ষিকা মারুফা আকতার ও নুরজাহান লায়লা এবং নৈশপ্রহরী মমিনুর বসে আছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের আনতে বাড়ি বাড়ি ছোটাছুটি শুরু করেন। এক ঘণ্টা চেষ্টার পর তাঁরা মাত্র চারজন শিক্ষার্থী সংগ্রহ করতে পারেন। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৭ জন।
ধলীপাটাধোয়া চরের বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে চরের শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে না এবং বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
ধলীপাটাধোয়া চরের স্থানীয় বাসিন্দা ও গৃহিণী শাহিনুর বলেন, 'শিক্ষকেরা না আসলে ছেলেমেয়েরা কি স্কুলে যাবে? শিক্ষকেরা মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর আসেন। এতে কি ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে থাকবে? এ জন্য সব ছেলেমেয়েকে শহরে পড়ার জন্য পাঠিয়েছি।'
চরের আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, 'মাস্টার আসলে ছাত্র আসে না, আর ছাত্র আসলে মাস্টার আসে না। এভাবেই চরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চলছে।' চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার এই অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এড়েন্ডাবাড়ী ধলীপাটাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লডলিস সুলতানা বলেন, 'আমি একজন নারী হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী আনা কি সম্ভব? তাছাড়া গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে যাতায়াত করতে কী পরিমাণ সময় লাগে, আপনারা সেটা তো জানেন? এখানে দুজন নারী শিক্ষক আছেন। তাঁদেরই বা কী বলব। সবারই তো একই সমস্যা। সবাই আমরা কষ্ট করে নদীর বালু-পানি পার হয়ে আসি। শিক্ষার্থী না আসায় আমাদেরও খারাপ লাগে।' চেয়ার-বেঞ্চ নেই, ক্লাস নেবেন কীভাবে? জবাবে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থী আগে আসুক, পরে দেখা যাবে।'
সদর উপজেলার চিতুলিয়া চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ জন। সেখানে কোনো শিক্ষক নেই। রহিম নামে এক যুবক ক্লাস নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষক নেই, রয়েছেন শুধু একজন প্রধান শিক্ষক। তিনি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছেন। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের নিয়োগ দিলে কেউ যোগদান করেন না। আর কেউ যোগদান করলেও দুই মাসের মধ্যে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট নিয়ে একটি সংবাদ লেখেন। আমি উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে গেলেই একটি ছেলেকে রেখে যেতে হয়। কাউকে না রেখে গেলে স্কুলটি একেবারে বন্ধ থাকবে।'
কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার চর ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১১টায় কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসান অভিযোগ করেন, শিক্ষকেরা মাসে একবার বা দুবার আসেন এবং যাতায়াতের অজুহাত দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রক্সি শিক্ষক বলেন, ‘আমাকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছেন। যে শিক্ষকের পরিবর্তে আমি ক্লাস নিই, মাস শেষে এই টাকাটা তিনি আমাকে দেন। আর যিনি মূল শিক্ষক, তিনি মাসে এক-দুইবার স্কুলে আসেন। বাকি দিনগুলো জেলা শহরে থাকেন। বিশেষ কোনো দিবসে আসেন, আবার অনেক সময় আসেনও না।’
ফুলছড়ি উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) আবু সুফিয়ান বলেন, 'চরাঞ্চলে যাতায়াত কষ্টের কারণে সব স্কুল নিয়মিত পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। ফুলছড়িতে ছয়জন এটিইওর কাজ মাত্র দুজনকে সামলাতে হচ্ছে।'
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, 'চরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা যেতে চান না। কেউ চাকরি পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেন। কেউ কোনো কর্মকর্তার স্ত্রী বা নেতার আত্মীয়স্বজন হিসেবে লবিং করে অন্যত্র বদলি হন। এ ছাড়া অনলাইন বদলির কারণে আমরা নিজেরাই বলতে পারি না কোন শিক্ষক কোথায় যোগদান করলেন।'
তিনি সমস্যা তুলে ধরে বলেন, 'যাঁরা চরে পোস্টিং নেন, তাঁরা যাতায়াতের সমস্যাসহ নানা অজুহাত দেখান।' তিনি আরও বলেন, 'তারপরও কেউ ইচ্ছা করে স্কুলে না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সচেতন হলে শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

দেশের উত্তর জনপদের পিছিয়ে পড়া জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেগুলোর পাঠদান প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অভাবে এসব চরের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে চরম অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। অনেক শিক্ষক চরে নিয়োগ পেলেও বসবাস করেন জেলা শহরে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পরিবর্তে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব পালন কিংবা মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, শিক্ষকেরা নিয়মিত না আসায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে শিক্ষকেরা বলছেন, মাইলের পর মাইল বালুচর হাঁটা এবং বর্ষায় উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের ফলে তাঁরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, যা তাঁদের পাঠদানের স্পৃহা কমিয়ে দেয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি, গাইবান্ধা সদরে ১৫টি, ফুলছড়িতে ৫৮টি এবং সাঘাটায় ১৩টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ৪৭২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শূন্য পদের সংখ্যা ২২৪টি। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৯১৫ জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য খেয়াঘাটগুলোতে কর্মজীবীদের ভিড়। এসব মানুষের মধ্যে কেউ সরকারি চাকরিজীবী, কেউবা এনজিও কর্মী। তাঁদের সবার উদ্দেশ্য চরের নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়া। জীবিকার তাগিদে মানুষ এক চর থেকে অন্য চরে ছুটছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এড়েন্ডাবাড়ী ধলীপাটাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে দূর থেকে দেখে এটি যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, চার কক্ষের একটি ঘর। অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক লডলিস সুলতানা এবং সহকারী শিক্ষিকা মারুফা আকতার ও নুরজাহান লায়লা এবং নৈশপ্রহরী মমিনুর বসে আছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের আনতে বাড়ি বাড়ি ছোটাছুটি শুরু করেন। এক ঘণ্টা চেষ্টার পর তাঁরা মাত্র চারজন শিক্ষার্থী সংগ্রহ করতে পারেন। অথচ বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৭ জন।
ধলীপাটাধোয়া চরের বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে চরের শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে না এবং বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
ধলীপাটাধোয়া চরের স্থানীয় বাসিন্দা ও গৃহিণী শাহিনুর বলেন, 'শিক্ষকেরা না আসলে ছেলেমেয়েরা কি স্কুলে যাবে? শিক্ষকেরা মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর আসেন। এতে কি ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে থাকবে? এ জন্য সব ছেলেমেয়েকে শহরে পড়ার জন্য পাঠিয়েছি।'
চরের আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, 'মাস্টার আসলে ছাত্র আসে না, আর ছাত্র আসলে মাস্টার আসে না। এভাবেই চরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চলছে।' চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার এই অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এড়েন্ডাবাড়ী ধলীপাটাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লডলিস সুলতানা বলেন, 'আমি একজন নারী হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী আনা কি সম্ভব? তাছাড়া গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে যাতায়াত করতে কী পরিমাণ সময় লাগে, আপনারা সেটা তো জানেন? এখানে দুজন নারী শিক্ষক আছেন। তাঁদেরই বা কী বলব। সবারই তো একই সমস্যা। সবাই আমরা কষ্ট করে নদীর বালু-পানি পার হয়ে আসি। শিক্ষার্থী না আসায় আমাদেরও খারাপ লাগে।' চেয়ার-বেঞ্চ নেই, ক্লাস নেবেন কীভাবে? জবাবে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থী আগে আসুক, পরে দেখা যাবে।'
সদর উপজেলার চিতুলিয়া চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ জন। সেখানে কোনো শিক্ষক নেই। রহিম নামে এক যুবক ক্লাস নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষক নেই, রয়েছেন শুধু একজন প্রধান শিক্ষক। তিনি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছেন। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের নিয়োগ দিলে কেউ যোগদান করেন না। আর কেউ যোগদান করলেও দুই মাসের মধ্যে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট নিয়ে একটি সংবাদ লেখেন। আমি উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে গেলেই একটি ছেলেকে রেখে যেতে হয়। কাউকে না রেখে গেলে স্কুলটি একেবারে বন্ধ থাকবে।'
কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার চর ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১১টায় কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসান অভিযোগ করেন, শিক্ষকেরা মাসে একবার বা দুবার আসেন এবং যাতায়াতের অজুহাত দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রক্সি শিক্ষক বলেন, ‘আমাকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছেন। যে শিক্ষকের পরিবর্তে আমি ক্লাস নিই, মাস শেষে এই টাকাটা তিনি আমাকে দেন। আর যিনি মূল শিক্ষক, তিনি মাসে এক-দুইবার স্কুলে আসেন। বাকি দিনগুলো জেলা শহরে থাকেন। বিশেষ কোনো দিবসে আসেন, আবার অনেক সময় আসেনও না।’
ফুলছড়ি উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) আবু সুফিয়ান বলেন, 'চরাঞ্চলে যাতায়াত কষ্টের কারণে সব স্কুল নিয়মিত পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। ফুলছড়িতে ছয়জন এটিইওর কাজ মাত্র দুজনকে সামলাতে হচ্ছে।'
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, 'চরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা যেতে চান না। কেউ চাকরি পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেন। কেউ কোনো কর্মকর্তার স্ত্রী বা নেতার আত্মীয়স্বজন হিসেবে লবিং করে অন্যত্র বদলি হন। এ ছাড়া অনলাইন বদলির কারণে আমরা নিজেরাই বলতে পারি না কোন শিক্ষক কোথায় যোগদান করলেন।'
তিনি সমস্যা তুলে ধরে বলেন, 'যাঁরা চরে পোস্টিং নেন, তাঁরা যাতায়াতের সমস্যাসহ নানা অজুহাত দেখান।' তিনি আরও বলেন, 'তারপরও কেউ ইচ্ছা করে স্কুলে না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সচেতন হলে শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসইভাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে জাতীয় কর্মশালা' উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৪ মিনিট আগে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি ক্যানাল থেকে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫) নামে ওই দুই কিশোর স্থানীয় গুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
১ ঘণ্টা আগে
ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রতিদিন মাঠে যেতেন ৬৫ বছরের কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল। কয়েক মাসের শ্রমে গড়া সয়াবিন ও বাদামের ক্ষেত দেখে বুক ভরে যেত তাঁর। স্বপ্ন ছিল, এবার ভালো ফলন হলে এনজিওর ঋণ শোধ করবেন, মেয়ের বিয়ের খরচ দেবেন, ঘরের টিনও বদলাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পানির নিচে।
২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের টঙ্গীর মিল গেট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২ ঘণ্টা আগে