রাজধানীতে ১ হাজার ৭২১ ঈদ জামাত, নিরাপত্তায় সতর্ক পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় ঈদগাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীতে এবার ১ হাজার ৭২১টি স্থানে হবে ঈদের জামাত। এসব ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানীতে ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় নেওয়া পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর ১২১ ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯ মসজিদে ঈদের জামাত হবে। সব স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

মো. সরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ৩৫ হাজারের বেশি মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে এই ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫টি ঈদ জামাত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়।’

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘এ ছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন তিনটি এবং শিয়া সম্প্রদায়ের ৮টি ঈদ জামাত হবে।’

নিরাপত্তা পরিকল্পনা

ডিএমপি কমিশনার সরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহের কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ময়দানসহ আশেপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার পর্যবেক্ষণে থাকবে। মাঠে ঢোকার প্রধান ৩টি রাস্তায় থাকবে ব্যারিকেড। প্রধান তিন প্রবেশমুখ মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় থাকবে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর।’

নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে সরওয়ার বলেন, জাতীয় ঈদ ময়দানের চারপাশের বেষ্টনীর বাইরে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশের পিকেট, পেট্রোলিং ও পুলিশ লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ পথ এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসি ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম ও ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। এ ছাড়া স্পেশাল ফোর্স সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকা মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে ডিএমপি।

ফায়ার ব্রিগেডের ফায়ার টেন্ডার, ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম ও বায়তুল মোকাররমকেন্দ্রিক প্রায় কাছাকাছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য ঈদগাহে যথারীতি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

ট্রাফিক ও পার্কিং

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহকেন্দ্রিক কিছু পয়েন্টে গাড়ি চলাচলে ডাইভারশন থাকবে। এগুলো হলো– জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, জাতীয় প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ ও মৎস্য ভবন ক্রসিং। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে পারবেন।

পার্কিং পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, গণপূর্ত (পিডব্লিউডি) ভবনের আঙিনা ও তার ভেতরে সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। আইইবি ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে। এ ছাড়া জিরো পয়েন্ট ক্রসিং থেকে ইউবিএলের উভয় পাশের রাস্তার এক লাইন পার্কিং করা যাবে। দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে পার্কিং করা যাবে। ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে পার্কিং থাকবে। মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিংয়ের পাশে রাস্তার উভয় পাশে পার্কিং থাকবে। মৎস্য ভবন হতে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পাশে এক লাইনে পার্কিং থাকবে।

জাতীয় ঈদগাহের মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। আর্চওয়ে গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ঈদগাহ ময়দানে কোনো ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসা যাবে না। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ জানাতে হবে।

বিষয়:

ঈদুল-ফিতর

সম্পর্কিত