জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাকায় ১ হাজার ৭২১ ঈদ জামাত, নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৭: ০৮
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় ঈদগাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ও ঢাকার অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১ হাজার ৭২১টি ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সমন্বিত, সুদৃঢ় ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত ঘিরে গৃহিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সমে্মলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা মহানগরীর ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে মোট ১ হাজার ৭২১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহসহ এসব জামায়াতে পুলিশ মোতায়ন করা হবে।

মো. সরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ৩৫ হাজারের বেশি মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করবেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে এই ভেন্যু চেঞ্জ হতে পারে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।’

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘এ ছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে উত্তর সিটি করোপেরশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন রাজধানীতে ৩টি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের ৮টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’

নিরাপত্তা পরিকল্পনা

ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহের কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা হবে। ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান ৩টি রাস্তার প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড থাকবে। সেখানে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। এই ৩টি পয়েন্ট হলো মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন।’

নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে সরওয়ার বলেন, জাতীয় ঈদ ময়দানের চারপাশের বেষ্টনীর বাইরে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশের পিকেট, পেট্রোলিং এবং পুলিশ লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসি ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম ও ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। এ ছাড়া স্পেশাল ফোর্স সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা মোতায়ন থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকা মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে ডিএমপি।

ফায়ার ব্রিগেডের ফায়ার টেন্ডার, ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম ও বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক প্রায় কাছাকাছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ঈদগাহে যথারীতি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

ট্রাফিক ও পার্কিং

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ কেন্দ্রিক কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন দেওয়া থাকবে। ডাইভারশনগুলো হলো, জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ, মৎস্য ভবন ক্রসিং। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে পারবেন।

পার্কিং পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, গণপূর্ত (পিডব্লিউডি) ভবনের আঙ্গিনা ও তার ভেতরে সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। আইইবি ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে। এছাড়া জিরো পয়েন্ট ক্রসিং থেকে ইউবিএলের উভয় পাশের রাস্তার এক লাইন পার্কিং করা যাবে। দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে পার্কিং করা যাবে। ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে পার্কিং থাকবে। মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিংয়ের পাশে রাস্তার উভয় পাশে পার্কিং থাকবে। মৎস্য ভবন হতে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পাশে এক লাইনে পার্কিং থাকবে।

জাতীয় ঈদগাহের মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। আর্চওয়ে গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ঈদগাহ ময়দানে কোনো ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসা যাবে না। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে পুলিশ বা ৯৯৯ নাম্বারে জানাতে হবে।

বিষয়:

ঈদুল-ফিতর

সম্পর্কিত