leadT1ad

পৌনে দুই কোটি টাকার মনোনয়ন-বাণিজ্য: রাঙ্গা ও পনিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৪৬
মশিউর রহমান রাঙ্গা। সংগৃহীত ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও পাচারের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে রাঙ্গার সম্পদের হিসাব চেয়ে আলাদা নোটিশ জারি করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, মশিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য থাকাকালে পনির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে জড়ান। কোনো বৈধ ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়।

অনুসন্ধানে পর্যালোচিত ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, পনির উদ্দিন আহমেদ তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি ও পরিবহন প্রতিষ্ঠান হক স্পেশালের ব্যাংক হিসাব থেকে এই অর্থ প্রদান করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মশিউর রহমান রাঙ্গার ব্যক্তিগত হিসাবে জমা ও স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি নগদ হিসেবে জমা দেওয়া হয়।

দুদক জানায়, পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এই অর্থ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে মামলার পাশাপাশি মশিউর রহমান রাঙ্গার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তার নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবরণী দাখিল না করলে বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে পৃথক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত