চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যুব পদযাত্রায় বক্তারা এলএনজি আমদানিকে ‘দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন। তারা এলএনজি আমদানির পরিবর্তে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ব্রিজঘাটা এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই-বাংলাদেশ ও জেটনেটবিডির সহযোগিতায় এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে এলএনজি ও পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ দেশের অর্থনীতিকে আরও বিপদে ফেলবে। তারা জানান, প্রতি বছর প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ঘাটতি থাকার পরও সরকার গত চার বছরে ১১টি নতুন এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরেই ছিল ১৭ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এছাড়া, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে সরকারের লোকসান হচ্ছে প্রায় ৬৫ টাকা।
জ্বালানি আমদানি ও ক্যাপাসিটি চার্জের এই বিশাল চাপ মেটাতে গিয়ে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অতি জরুরি খাতে বরাদ্দ কমছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তারা ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, এর ফলে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে তিন দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল, যা দেশের জ্বালানি খাতের ভঙ্গুরতাকে স্পষ্ট করে।
বক্তারা অবিলম্বে এলএনজি আমদানি বাতিল করে সমপরিমাণ অর্থ সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের জন্য বরাদ্দ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
যুব পদযাত্রায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সিআরসিডির নির্বাহী পরিচালক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো. জানে আলম, আইএসডিই-এর কর্মসূচি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলামসহ ক্যাব যুব গ্রুপের নেতারা।