মহাসড়কের গাজীপুর অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক, দীর্ঘ জট যমুনার পূর্ব প্রান্তে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাজীপুর

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ১৩: ৪৩
স্ট্রিম ছবি

রাতভর তীব্র যানজটের পর গাজীপুর মহাসড়কে বুধবার সকালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি আর বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

গাজীপুরের দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ প্রায় আড়াই হাজার কারখানায় গত মঙ্গলবার একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে দুপুরের পর থেকে ঘরমুখো লাখো মানুষ একসঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে ভিড় করেন। মানুষের চাপের সঙ্গে মহাসড়কে পাল্লা দিয়ে বাড়ে যানবাহনের সংখ্যা। ট্রাফিক বিভাগ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

ঢাকা থেকে রওনা হয়ে চন্দ্রা পার হতে যাত্রীদের ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে। বৃষ্টির কারণে এই দুর্ভোগ মারাত্মক রূপ নেয়। অনেক যাত্রীকে কাঙ্ক্ষিত গাড়ি না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

বুধবার সকালে গাজীপুর অংশের মহাসড়কে স্বস্তি ফিরলেও টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে দীর্ঘ যানজট পরিস্থিতি এখনো বিদ্যমান। শেষ সময়ের যাত্রীরা চন্দ্রা স্টেশন হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ কারণে ওই স্টেশনে যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

বগুড়া জেলার বাসিন্দা সাঈদ বলেন, 'শেষ সময়ে এসে চার গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। একদিকে বৃষ্টিতে ভোগান্তি, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস কর্তৃপক্ষ। ভোগান্তি আমাদের পিছু ছাড়ল না।'

মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি পরিবহন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, 'বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় ও গাড়ির চাপ অতিরিক্ত থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। সকাল থেকে মহাসড়কে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাধ্যমতো কাজ করছে।'

তিনি আরও জানান, বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনেও সমস্যা হচ্ছে।

সম্পর্কিত