সংবাদের ভাষা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের হুঁশিয়ারি রাকসু ভিপির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২: ২০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। ছবি : স্ট্রিম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে রাকসু ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলে।

রাকসু ভিপির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম একপাক্ষিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে কয়েকজন সাংবাদিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জাহিদ বলেন, ‘আপনারা সংবাদে যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। গতকাল অনেকেই এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, যাতে ছাত্রলীগকে ডিফেন্ড করা হয়েছে। এখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে যারা এ ধরনের সংবাদ করেছেন, আমরা সেগুলো সংগ্রহ করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বলেছেন আমরা হামলা করেছি। এটা কীভাবে হামলা হয়? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। ‘প্রতিরোধ’ শব্দটি ব্যবহার করতে আপনাদের এত সংকোচ কেন? ছাত্রলীগের প্রতি এত মায়াকান্না কেন? সাংবাদিকদের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

একই সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের সাংবাদিকতা শেখাব না। এটা আমার থেকে আপনারা ভালো জানেন। কীভাবে শব্দ দিয়ে মানুষকে তৈরি করতে হয়, কীভাবে শব্দ দিয়ে মানুষকে ধ্বংস করতে হয়। আমার এই জায়গায় আসার পেছনে আপনাদের অবদান আছে। আপনারা প্রত্যেকে জুলাইয়ে খুব সামনে থেকে কাজ করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যেটাকে প্রতিরোধ বলছি, সেটিকে আপনারা প্রতিরোধ হিসেবে দেখতে পারছেন না কেন?’

সোমবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আম্মার দাবি করেন, তারা রাকসু ভবনে যাওয়ার পর সাতজন ব্যক্তি সেখানে এসে অতর্কিত হামলা চালান। সেখানে একজন ভিডিও ধারণ করেন এবং অন্যরা মারধর করেন ও অস্ত্র প্রদর্শন করেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করা নয়, সামাজিকভাবে হেয় করে একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠা করা।

আম্মার আরও দাবি করেন, ‘আনাস’ নামে ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিষয়টি প্রশাসনিকভাবেও প্রমাণিত। তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রক্টর অফিসেও তিনি নিজের ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।’ এরপরও তাঁর প্রতি নমনীয় অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় ছাত্রদলের সমালোচনা করেন রাকসুর জিএস। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিচ্ছে ছাত্রদল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবিও জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; রাকসু ভবনে হামলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা; দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া; ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অতীতে নির্যাতন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত