২৪৫ টাকার কাঁচা মরিচ আড়ৎ-ফড়িয়া ঘুরেই ৩০০ পার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফরিদপুর

কাঁচা মরিচ। স্ট্রিম ছবি

ফরিদপুরের খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। কিন্তু এই মরিচই ২৪০-২৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন চাষি। সেই হিসাবে শুধু আড়তদার ও মধ্যসত্ত্বভোগীর দুই হাত ঘুরতেই কেজিতে বাড়ছে অন্তত ৫৫ টাকা, মণে দুই-আড়াই হাজার টাকার বেশি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, চলতি মাসে টানা বৃষ্টিতে জেলায় মরিচ খেতের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। অনেক খেতের সব গাছই মরে গেছে। এত বাজারে আসা মরিচের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আড়তদার ও ফড়িয়ারা এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছেন। মূল ক্ষতি কৃষকের হলেও তারা সরবরাহ সংকটের সুযোগে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভ করছেন।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে প্রশাসনের কোনো ধরনের মনিটরিং নেই। এ কারণে চাষিরা যেখানে প্রতি মণ মরিচ বিক্রি করছেন ৯ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৮০০ টাকা দরে, সেখানে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকায়। অথচ স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হওয়ায় পরিবহন খরচ নেই বললেই চলে।

ফরিদপুরে সবচেয়ে বেশি মরিচ আবাদ হয় মধুখালী উপজেলায়। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচ চাষিরা। মরিচের সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা মিষ্টি কুমড়া গাছও নষ্ট হয়েছে।

রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের টুকু মণ্ডল জানান, এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। যে খরচ হয়েছে তার অর্ধেকও তুলতে পারেননি।

আরেক কৃষক খসরু মিয়া সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান। তিনি বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। এর ওপর বৃষ্টিতে খেত নষ্ট হওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

মেকচামী ইউনিয়নের বামুন্দি গ্রামের চাষি ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এবার মরিচের ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু গাছ পচে যাওয়ায় এখন খেতে মরিচ নেই বললেই চলে। ক্ষতি হয়েছে কৃষকের, কিন্তু লাভ করছেন আড়তদার ও ফড়িয়ারা।

তবে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধুখালী মরিচ বাজারের আড়তদার আলম মোল্লা। তিনি বলেন, বাজারে মরিচের আমদানি কম। প্রতি মণ মরিচ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামেই মরিচ কেনা হচ্ছে।

ভোক্তারা অবশ্য আড়তদারদের সঙ্গে একমত নন। সালথা উপজেলার বাসিন্দা বিধান মন্ডল বলেন, আজ আড়াইশো গ্রাম মরিচ কিনছি ৮০ টাকা দিয়ে। প্রতিদিনই যেন দাম বাড়ছে। তবে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অথবা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায় না।

ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় এলাকার হোটেল মালিক দাউদ আকন্দ বলেন, গতকাল যে মরিচ ২৫০ টাকা কেজিতে কিনেছি সেই মরিচ আজ ৩০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, খারাপ আবহাওয়ায় মরিচ খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। বাজারে মরিচ কম আসায় দাম আরও বাড়তে পারে। মাস খানেক বাজারে এমন অস্থির পরিস্থিতি থাকবে। তবে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব ইলাহি বলেন, উপজেলায় অর্ধেকের বেশি মরিচ খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কৃষককে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত