ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও ওয়াটার বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ১৭
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিএমও

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করা এবং বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাব্যতা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো নিশ্চিত করেছেন।

সভায় নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রস্তাব বিবেচনা করে চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নৌপথে ওয়াটার বাস চালু করা হবে। এই পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুই থেকে তিন মাস পর আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, পূর্বে বিআইডব্লিউটিসি ওয়াটার বাস চালিয়ে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়া, নদীদূষণ ও পরিচালন ব্যয়ের কারণে ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান গুনে সেবাটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তবে এবার বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী। নদীদূষণ মুক্তকরণই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। নিচু সেতু (যেমন টঙ্গী রেলসেতু) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা করা হতে পারে। এ কাজের জন্য আপাতত আলাদা বাজেট ধরা হয়নি, দপ্তরগুলো নিজ দায়িত্বে কাজ শুরু করবে।

এদিকে ঢাকার চারপাশের নৌপথ পুনরুদ্ধার করে ১১২ কিলোমিটার চক্রাকার নৌপথ, ১৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৮৮ কিলোমিটার চক্রাকার রেললাইন এবং ১১টি আধুনিক সেতু নিয়ে একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, সড়কে ট্রাক চলাচল ২০ শতাংশ কমবে এবং বছরে ৩ থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত