জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে যা হবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ২২: ৩৪
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। সংগৃহীত ছবি

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এবার ‘স্পিকারের শূন্য আসন নিয়ে’ শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনের প্রথম কাজই হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, বিদায়ী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনের পর থেকেই অনেকের মধ্যেই এই কৌতূহল আছে যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের সূচনায় কে সভাপতিত্ব করবেন। ধারণা করা হচ্ছিল যে অধিবেশনের আগের দিন সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে। কিন্তু ওই সভায় বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—এসব কিছুই চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দিন পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিরা শপথ নেন। সেদিন বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয় এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেহেতু পুরনো স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকার নেই। আমরা সংসদে একটি খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সংসদ নেতা, তিনি ঘোষণা করবেন এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে… প্রস্তাব করার পর কোনো একজন সমর্থন করবেন, তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় আমরা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব।’

স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরে তাঁর আসনগ্রহণ, সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জুলাই যোদ্ধা ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের নিয়ে আলোচনা হবে।

এরপরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, অধ্যাদেশগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। ২০২৪ সালের কর্ম কমিশনের প্রতিবেদন উত্থাপন হবে এবং এরপরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন।

সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি, বিশেষ কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, সংসদ কমিটি—এসব কমিটি করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কালকে না করা যায়, আমরা পরবর্তী দিনে এসব কমিটি করব।’

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। এছাড়া এদিন সংসদে রাষ্ট্রপতিও ভাষণ দেবেন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় সাত মাসের মাথায় গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। বিলুপ্ত করা হয় সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় বছরের মাথায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগ এবার ভোট করতে পারেনি।

৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুটি আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে।

বাকি ২৯৭ আসনের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। বিএনপির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।

বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলাম ৬৮ আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসছে। অভ্যুত্থানের নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে পেয়েছে ৬টি আসন। জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।

সম্পর্কিত