খানকা ভাঙলেও মামলা করেননি আজিজুর ভান্ডারী, এখনও অনুষ্ঠান করতে বাধা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ২৬
ছয় মাস পরও পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারির খানকায় হামলা-ভাঙচুরের চিহ্ন। স্ট্রিম ছবি

বিশেষ দিবসগুলোতে খানকা শরিফে মিলাদ-মাহফিলের পর ভান্ডারী গান করেন পীর আজিজুর রহমান। আগে এসব অনুষ্ঠানে কেউ বাধা না দিলেও এখন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর খানকা শরিফটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি মামলা করেননি। সেই ঘটনার ছয় মাস পরও সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারছেন না তিনি।

আজিজুর ভান্ডারীর অভিযোগ, এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, আব্দুল ওহাব, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁর খানকা উঠিয়ে দিতে চাইছেন। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বরের খানকায় হামলা-ভাঙচুরে তাঁরাই নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সম্পর্কে তাঁর চাচা। এখনও তাঁরা বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছেন।

আজিজুর রহমান ভান্ডারী রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির পাশেই গড়ে তোলা তাঁর খানকার নাম ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই খানকাটি পরিচালনা করেন তিনি। জীবিকা নির্বাহ করেন এলাকায় একটি মুদিদোকান চালিয়ে। আজিজুরের দাবি, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর তিন শতাধিক ভক্ত রয়েছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভাঙচুর করা হয় পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারির খানকা। স্ট্রিম ছবি
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভাঙচুর করা হয় পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারির খানকা। স্ট্রিম ছবি

আজিজুর ভান্ডারীর খানকা শরিফে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিবছর ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। গত বছরের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ঈদে মিল্লাদুন্নবীর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সেখানে ভান্ডারী ও মুর্শিদী গান পরিবেশন করছিলেন নারী শিল্পীরা। জুমার নামাজের পর সেখানে হামলা চালান প্রায় দেড় শতাধিক লোক। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় খানকা শরিফটি। হামলার আশঙ্কায় আগের রাতে আজিজুর ভান্ডারী পবা থানায় গিয়েছিলেন। পরদিন সকাল থেকে সেখানে পুলিশ থাকলেও তারা ঠেকাতে পারেনি।

হামলার পর আজিজুর ভান্ডারী জানিয়েছিলেন, কয়েকদিন ধরেই কিছু লোক তাদের অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছিলেন। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হামলার আগের রাতে তারা পবা থানায় গিয়েছিলেন। পরদিন সকাল থেকে পুলিশ থাকলেও জুমার নামাজের পর হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করেননি আজিজুর ভান্ডারী। এ বিষয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে তিনি বলেন, ‘আমরা ওই সময় আতঙ্কে ছিলাম। যাদের কোনো জ্ঞান নেই, বিবেক নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে কী করব? আমি ওদের মাফ করে দিয়েছি।’

খানকা ভাঙা ও উচ্ছেদ পরিকল্পনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এসবের মধ্যে নাই। এলাকার লোকজনই আজিজুর রহমান ভান্ডারীর এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। আজিজুর আমাকে তাঁর পাশে পায় না। এ জন্য আমাকে তাঁর সন্দেহ হতে পারে।’

‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’ এর প্রতিষ্ঠাতা পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী। স্ট্রিম ছবি
‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’ এর প্রতিষ্ঠাতা পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী। স্ট্রিম ছবি

আজিজুর ভান্ডারী জানান, ৫ সেপ্টেম্বর হামলা-ভাঙচুরের পর থেকে তাঁর খানকা বন্ধ ছিল। কিছু দিন আগে খানিকটা সংস্কার করেছেন। এরপর ঈদুল ফিতরের পরের দিন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পর পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে আয়োজকদের বললেন— অনুষ্ঠান বন্ধ করেন, তা না হলে তিনি ফোর্স পাঠাবেন।

আজিজুর ভান্ডারী বলেন, ‘আমি ওসিকে বলি, আমি কি এখানে অন্যায় কিছু করছি? তখন তিনি বলেন— আমার এলাকার লোকজন থানায় এসে বসে আছে। পরে অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান করলে তিনি পাহারা দেবেন। রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। সেটা সন্ধ্যার পরেই শেষ করতে হয়।’ এখনো সন্ধ্যায় ভাঙা খানকায় নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না।

জানতে চাইলে পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান শুরুর পর এলাকার লোকজন থানায় আসেন। অনুষ্ঠান বন্ধ না করলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। পুলিশের অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠান করলে আমরা নিরাপত্তা দেব।’

৫ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমি ওই সময় এই থানায় ছিলাম না। কাজেই ওই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

সম্পর্কিত