‘আগের সরকারের গাফিলতিতেই টিকা সংকট, তদন্তের কিছু নেই’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। স্ট্রিম ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতিতে দেশে টিকা কর্মসূচিতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, সরকারের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। তাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।

রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাবের শিকার অধিকাংশ শিশুই ওই সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া।

মার্চে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে এর আওতায় আনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তদন্তের বিষয়ে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। কী কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সরকারের কাছে স্পষ্ট।

আগের সরকারের গাফিলতি নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ এই সহকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড মিস হয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহ হয়নি, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও কেনা হয়নি। এসব ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবার এমন অবস্থার কারণ নিয়ে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, ডিপিপিগুলো দ্রুত অনুমোদন পাবে—এমন ধারণা থেকে ওপি পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প কার্যালয় গঠন করা সম্ভব হয়নি। এতে পূর্বের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু হয়নি। এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে, যার বোঝা এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত