সাদা-কালো পতাকা বিতর্কে এএফপির প্রতিবেদন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

এএফপির প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা বিতর্ক নিয়ে এবার প্রতিবেদন করেছে ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপি। এতে বাংলাদেশকে সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পতাকা ইস্যুতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এএফপি বলেছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশটির লাখ লাখ মানুষ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামভিত্তিক কওমি ধারার আলেম মুফতি হারুন ইজহার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা নামানো আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি এগুলো না নামালে সেখানে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানান।

এরপর বাংলাদেশের বহু জেলায় এই ধরনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে পুলিশ জানিয়েছে, এই পতাকা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা দেখা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র (মিডিয়া) এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

হারুন ইজহারের বক্তব্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর সমর্থকেরা সাদা-কালো পতাকা বহন করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাও করে। হারুন ইজহার এএফপিকে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা অন্য যেকোনো দেশের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সংযম থাকা উচিত।’

তিনি জানান, তাঁর সমর্থকদের তোলা পতাকার সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবান কিংবা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকার কোনো সম্পর্ক নেই বা গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। হারুন ইজহার আরও বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা এই পতাকাগুলোকে সহজেই তালেবান বা আইএসের পতাকা বলে আখ্যা দেয়, এটি সঠিক নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি ভুল বার্তা দিতে পারে।’

ব্রাজিলের সমর্থক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান চিশতী বলেন, ‘ফুটবল মানুষকে কিছু সময়ের জন্য দুঃখ-কষ্ট ও জীবনের চ্যালেঞ্জ ভুলতে সাহায্য করে। আমাদের কাছে ফুটবল বিনোদনের চূড়ান্ত মাধ্যম।’

নতুন সময়ের গণমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’ গত ২৩ জুন ‘সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করে ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে নানা হুমকিধমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজধানীর কলাবাগান থানায় জিডি করেছে ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত