স্ট্রিম সংবাদদাতা

ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন গৃহবধূ নাসরিন আক্তার। কাতার প্রবাসী স্বামী আবুল কাসেমের পাঠানো টাকায় চলে তাঁর সংসার। তাঁদের আট বছরের মেয়ে পড়াশোনা করে ফেনী শাহীন একাডেমিতে। তবে হঠাৎ করেই ভাড়া বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি সোনাগাজীতে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। নাসরিন জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে চাকরি হারিয়েছেন তাঁর স্বামী। এখন তিনি আর প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে পারেন না। তবে স্বামী সুস্থভাবে বেঁচে আছেন, এতেই খুশি তাঁরা।
আবুল কাসেমের মতো ফেনীর অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। ওই অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা ছড়িয়ে পড়ায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রবাসী-অধ্যুষিত এই জেলার হাজার হাজার পরিবার। যুদ্ধে অনেকে কাজ হারিয়েছেন, আবার অনেকের কর্মঘণ্টা কমে গেছে। ফলে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর পরিমাণ কমেছে। এর প্রভাবে আসন্ন ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ব্যবসায়ীরা।
ইসলামী ব্যাংক ফেনীর এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কম রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনীতে সারা বছরই রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে কেন্দ্র করে এর পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রবাসীদের আয়ের ওপরই তাঁদের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচ থেকে শুরু করে উৎসবের ব্যয় নির্ভর করে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেনীতে প্রবাসীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৩ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। জেলার ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৪টি পরিবারের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ পরিবার রেমিট্যান্স পেয়ে থাকে। জেলার মোট জনসংখ্যার ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশই রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি প্রবাসী রিয়াদ হোসেন মোল্লা জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর তাঁরা চরম আতঙ্কে ছিলেন। তখন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করেছিল সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁকে বাসাতেই থাকতে বলেছে। এতে তাঁর নিয়মিত কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সৌদি আরবের দাম্মামে একটি গ্যাস প্লান্টে কর্মরত ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের প্রবাসী শরিফুল ইসলাম সাগর।
ফুলগাজীর আমজাদ হাট ইউনিয়নের মো. হাসান মির্জা বলেন, ২ মার্চ তাঁর বাংলাদেশে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল, কিন্তু তিনি যেতে পারেননি। দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার কারণে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এখন তাঁকে নিয়ে তাঁর পরিবার গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
দুবাইয়ের শারজাহতে অবস্থানরত রিয়াদ হোসেন শুভ জানান, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কয়েকজন প্রবাসী সেখানে একসঙ্গে থাকছেন। যুদ্ধ চলাকালে কোম্পানি থেকে তাঁদের নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কারণে কয়েক দিন তাঁরা কাজে যেতে পারেননি।
এদিকে জেলার গ্রামাঞ্চলে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে ইরান ও আশপাশের দেশগুলোর যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর নিচ্ছেন স্বজনরা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা একাধিক প্রবাসীর পরিবার জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে কাজ করার জন্য প্রিয়জনদের মোবাইল ফোনে বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন তাঁরা।
পরশুরাম পৌরসভার বাসিন্দা আবু আহাম্মদ বলেন, তাঁর দুই ছেলে সৌদি আরবে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিয়মিত ফোনে তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন। সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মোরশেদ আলম জানান, তাঁর চাচা, মামা ও খালু দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁদের নিয়ে পরিবার খুব দুশ্চিন্তায় আছে।
দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মোবারক হোসেন বলেন, আমার তিন ছেলে দুবাই ও সৌদি আরবে থাকে। তাঁদের নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। পরিস্থিতি খারাপ হলে যেন দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যায়, সেই পরামর্শই দিচ্ছি।
ফেনী জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিদার মিয়া জানান, ২০০৫ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখের বেশি বিদেশগামী কর্মীর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গার ইম্প্রেশন গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৫৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৩৭১ জন, ২০২৪ সালে ১৫ হাজার ৪০০ জন এবং ২০২৩ সালে ২২ হাজার ৮১৫ জন রয়েছেন।
দিদার মিয়া আরও জানান, গত দুই দশকে ফেনী জেলা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ জন বিদেশে গেছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে দেশের মধ্যে ফেনী জেলার অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু বৈধ চ্যানেলেই এই জেলায় ৮৭৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীরা চেষ্টা করেন এই মাসে অন্তত অন্য সময়ের চেয়ে বেশি টাকা পাঠাতে। গত বছর ঈদের মাস মার্চে ফেনীতে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা চলতি বছরের তুলনায় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলের বাইরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পথেও প্রবাসী আয় আসে, যার পরিমাণ ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসায় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ফেনীর প্রবাসী-নির্ভর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পিপল বলেন, ঈদুল আযহায় সাধারণত ব্যবসা কিছুটা কম থাকে। যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের টাকা পাঠানো কমে যাওয়ায় এর প্রভাব ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়েছে।
ফেনী শহরের দৌলতপুর ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছরের বন্যায় ফেনীতে ব্যবসার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত বছর এই সময়ে শতাধিক ফ্রিজ বিক্রি হলেও এবার বিক্রি অনেক কম।

ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন গৃহবধূ নাসরিন আক্তার। কাতার প্রবাসী স্বামী আবুল কাসেমের পাঠানো টাকায় চলে তাঁর সংসার। তাঁদের আট বছরের মেয়ে পড়াশোনা করে ফেনী শাহীন একাডেমিতে। তবে হঠাৎ করেই ভাড়া বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি সোনাগাজীতে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। নাসরিন জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে চাকরি হারিয়েছেন তাঁর স্বামী। এখন তিনি আর প্রতি মাসে টাকা পাঠাতে পারেন না। তবে স্বামী সুস্থভাবে বেঁচে আছেন, এতেই খুশি তাঁরা।
আবুল কাসেমের মতো ফেনীর অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। ওই অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা ছড়িয়ে পড়ায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রবাসী-অধ্যুষিত এই জেলার হাজার হাজার পরিবার। যুদ্ধে অনেকে কাজ হারিয়েছেন, আবার অনেকের কর্মঘণ্টা কমে গেছে। ফলে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর পরিমাণ কমেছে। এর প্রভাবে আসন্ন ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ব্যবসায়ীরা।
ইসলামী ব্যাংক ফেনীর এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কম রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনীতে সারা বছরই রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে কেন্দ্র করে এর পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রবাসীদের আয়ের ওপরই তাঁদের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচ থেকে শুরু করে উৎসবের ব্যয় নির্ভর করে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেনীতে প্রবাসীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৩ জন, যা জেলার মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। জেলার ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৪টি পরিবারের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ পরিবার রেমিট্যান্স পেয়ে থাকে। জেলার মোট জনসংখ্যার ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশই রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি প্রবাসী রিয়াদ হোসেন মোল্লা জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর তাঁরা চরম আতঙ্কে ছিলেন। তখন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করেছিল সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁকে বাসাতেই থাকতে বলেছে। এতে তাঁর নিয়মিত কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সৌদি আরবের দাম্মামে একটি গ্যাস প্লান্টে কর্মরত ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের প্রবাসী শরিফুল ইসলাম সাগর।
ফুলগাজীর আমজাদ হাট ইউনিয়নের মো. হাসান মির্জা বলেন, ২ মার্চ তাঁর বাংলাদেশে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল, কিন্তু তিনি যেতে পারেননি। দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার কারণে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এখন তাঁকে নিয়ে তাঁর পরিবার গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
দুবাইয়ের শারজাহতে অবস্থানরত রিয়াদ হোসেন শুভ জানান, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কয়েকজন প্রবাসী সেখানে একসঙ্গে থাকছেন। যুদ্ধ চলাকালে কোম্পানি থেকে তাঁদের নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কারণে কয়েক দিন তাঁরা কাজে যেতে পারেননি।
এদিকে জেলার গ্রামাঞ্চলে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে ইরান ও আশপাশের দেশগুলোর যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর নিচ্ছেন স্বজনরা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা একাধিক প্রবাসীর পরিবার জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে কাজ করার জন্য প্রিয়জনদের মোবাইল ফোনে বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন তাঁরা।
পরশুরাম পৌরসভার বাসিন্দা আবু আহাম্মদ বলেন, তাঁর দুই ছেলে সৌদি আরবে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিয়মিত ফোনে তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন। সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মোরশেদ আলম জানান, তাঁর চাচা, মামা ও খালু দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁদের নিয়ে পরিবার খুব দুশ্চিন্তায় আছে।
দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মোবারক হোসেন বলেন, আমার তিন ছেলে দুবাই ও সৌদি আরবে থাকে। তাঁদের নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। পরিস্থিতি খারাপ হলে যেন দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যায়, সেই পরামর্শই দিচ্ছি।
ফেনী জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিদার মিয়া জানান, ২০০৫ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখের বেশি বিদেশগামী কর্মীর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গার ইম্প্রেশন গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৫৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৩৭১ জন, ২০২৪ সালে ১৫ হাজার ৪০০ জন এবং ২০২৩ সালে ২২ হাজার ৮১৫ জন রয়েছেন।
দিদার মিয়া আরও জানান, গত দুই দশকে ফেনী জেলা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ জন বিদেশে গেছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে দেশের মধ্যে ফেনী জেলার অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু বৈধ চ্যানেলেই এই জেলায় ৮৭৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীরা চেষ্টা করেন এই মাসে অন্তত অন্য সময়ের চেয়ে বেশি টাকা পাঠাতে। গত বছর ঈদের মাস মার্চে ফেনীতে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা চলতি বছরের তুলনায় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলের বাইরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পথেও প্রবাসী আয় আসে, যার পরিমাণ ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসায় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ফেনীর প্রবাসী-নির্ভর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পিপল বলেন, ঈদুল আযহায় সাধারণত ব্যবসা কিছুটা কম থাকে। যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের টাকা পাঠানো কমে যাওয়ায় এর প্রভাব ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়েছে।
ফেনী শহরের দৌলতপুর ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছরের বন্যায় ফেনীতে ব্যবসার অবস্থা এমনিতেই খারাপ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত বছর এই সময়ে শতাধিক ফ্রিজ বিক্রি হলেও এবার বিক্রি অনেক কম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে ধরিয়ে দিতে ও তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
১ ঘণ্টা আগে
আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হিসাববিদদের ‘স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণ’ বা সেলফ-রেগুলেশনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১ ঘণ্টা আগে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’।
২ ঘণ্টা আগে
ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই মেহেরপুর শহরের উপকণ্ঠ বারাদির হাটে শুরু হয় কোলাহল। ব্ল্যাক বেঙ্গল, কোথাও খয়েরি বা বাদামি জাতের ছাগল। হাটে ছাগল বিক্রি করতে আসা কেউ খামারি, কেউ মৌসুমি ব্যাপারী, আবার কেউ সারা বছর সংসারের সঞ্চয় হিসেবে একটি-দুটি ছাগল লালন করা কৃষক।
২ ঘণ্টা আগে