ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ব্যাংকের মালিকানায় থাকা সিকদার পরিবারের চার সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদসহ ২৬ জনকে আসামি করা হচ্ছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিগগিরই দুদকের উপপরিচালক জি এম আহসানুল কবীর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট’ বা নির্মাণকাজের চুক্তির নামে ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রথমে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করেন।
পরে পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকায়।
মামলার ২৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদকে। ন্যাশনাল ব্যাংকে এই অনিয়মের সময় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে সেখানে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।
দুদক বলছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন পর্যবেক্ষক হয়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। উল্টো অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে লাভবান হতে বা অন্যকে লাভবান করতে এই জালিয়াতিতে সহায়তা করেছেন।
মামলায় ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানায় থাকা সিকদার পরিবারের চার সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—সাবেক পরিচালক রন হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার, মনোয়ারা সিকদার ও জন হক সিকদার।
এছাড়া ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিস ও পরিচালক খাদিজা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদসহ ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারাও আসামির তালিকায় রয়েছেন।
দুদক জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি দমন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।