জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শেষ সময়ে স্বস্তিতে কমলাপুর ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আজ কমলাপুর প্রায় ফাঁকাই বলা যায়। স্ট্রিম ছবি

ঈদযাত্রার অষ্টম দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনের চিত্র ছিল আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তির। বাইরে বৃষ্টি, ভেতরে ঘরমুখো মানুষের চাপ নেই—সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে শেষ মুহূর্তে ট্রেন ধরতে আসা যাত্রীদের মুখে ভিন্ন ভিন্ন গল্প। কেউ ব্যবসার কাজ সেরে, কেউ পরিবারের টানে, কেউ আবার ছুটি দেরিতে পাওয়ায় একেবারে শেষ দিকে ঢাকা ছাড়ছেন।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) কমলাপুরে গিয়ে এমনটাই দেখা যায়। গত বুধবারের সান্তাহারের ট্রেন দুর্ঘটনার জেরে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও আজ সেই কমলাপুরে বেশ স্বস্তির দৃশ্যই চোখে পড়ে।

এর আগে, গত বুধবার বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের রেল চলাচলে এবার সাময়িক বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সংস্কার করা লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের দুই দিনের তুলনায় যাত্রীচাপ কম। গেটে প্রবেশ, প্ল্যাটফর্মে ওঠা কিংবা ট্রেনের অপেক্ষা, সব জায়গাতেই চাপ ছিল তুলনামূলক কম। যাত্রীরাও স্বস্তির কথাই জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জগামী যাত্রী মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জানান, তিনি জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে যাবেন। আগের দিনের চাপ এড়াতেই শেষ দিনে রওনা হয়েছেন।

তিনি জানান, ব্যবসার চাপ ছিল, স্টাফদের বিদায় করা, পাওনা-দেনার কাজ শেষ করা এবং কিছুটা বিশ্রামের পর আজ রওনা হয়েছেন। এছাড়া, আগের দুইদিন অনেক চাপ ছিল, তাই তিনি তখন যাননি। আজ যাত্রীর চাপ কম দেখছেন। ট্রেনওে সময়মতো আসছে এবং আজকের যাত্রা স্বস্তিতেই হবে বলে তার ধারণা।

হাবিবুল্লাহ আরও জানান, তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তান আগে চলে গেলেও তিনি কাজের কারণে আজ যাচ্ছেন। একদিন আগে বা পরে ফিরলে তাঁর তেমন সমস্যা হয় না। আশুগঞ্জ পর্যন্ত জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে যেতে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা লাগবে তাঁর।

আরেক যাত্রী মো. কামরুল হাসান জানান, ১৭ তারিখে ছুটি ঘোষণার কারণে অনেকেই আগেই চলে গেছেন। ফলে আজ চাপ কম। পুরো ট্রেনই প্রায় ফাঁকা। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় তিনি দেখেছেন, ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি আসন ফাঁকা ছিল।

কেন শেষ মুহূর্তে যাচ্ছেন, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করছেন, আর তিনি নিজের বাড়িতে ঈদ করবেন। এর আগে শ্বশুরবাড়ি ঘুরে এখন বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

খুলনাগামী যাত্রী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. সোহেল মিয়া জানান, ছুটি ও কাজের চাপের কারণে তিনি একদম শেষ দিকে রওনা হয়েছেন। আগে বের হতে পারেননি। তবে আজ স্টেশনে এসে বড় ধরনের ভিড় দেখেননি। শেষ দিনে যাত্রীচাপ কম থাকায় যাত্রাটা তুলনামূলক স্বস্তিতে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী রুবিনা আক্তার জানান, আগের দুই দিনের তুলনায় আজ স্টেশনে ভিড় কম থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।

তিনি বলেন, ‘গেটে খুব বেশি চাপ না থাকায় ভেতরে ঢুকতেও সমস্যা হয়নি। অনলাইনে টিকিট কেটেছি। শেষ দিনে যাত্রা করায় ঝামেলা একবারেই কম হয়েছে।’

শেষ দিনের কমলাপুরে সবচেয়ে চোখে পড়েছে চাপ কমে যাওয়ার পরের বদলে যাওয়া পরিবেশ। শেষ সময়ে বাড়ির পথে রওনা হওয়া যাত্রীদের মুখে ছিল তাড়া, তবে ছিল না আগের মতো ভোগান্তির ছাপ। ঈদের আগে তাই আজ কমলাপুরের ছবিতে ভিড়ের চেয়ে বেশি ধরা পড়েছে স্বস্তি।

সম্পর্কিত