হোলি আর্টিজান হামলার এক দশক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দশ বছর আগে ঢাকার গুলশানের এক নিরিবিলি সন্ধ্যা হঠাৎ রূপ নেয় বিভীষিকায়। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ মারা যান ২২ জন মানুষ।
ওই হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানে গুলশান থানার সামনে তৈরি করা হয় ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাস্কর্যটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পরে আর সংস্কার করা হয়নি।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান ২২ জন মানুষ। এর মধ্যে ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭ জন, ভারতের ১ জন, বাংলাদেশের ২ জন এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ১ জন নাগরিক। এই হামলা ঠেকাতে গিয়েই নিহত হন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। সেই সঙ্গে আহত হন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য।
নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানে গুলশান থানার সামনে ভাস্কর মৃণাল হক তৈরি করেন ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য। জঙ্গি হামলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১ জুলাই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
গত সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশান থানার সামনে ভাস্কর্য বলে আর কিছু নেই। ভাস্কর্যের জায়গাটি শিকলে ঘেরা থাকলেও নেই ভাস্কর্যটি। শুধু ভাঙা অংশের কয়েকটি রড সেখানে দেখা যাচ্ছে।
ভাস্কর্যের পাশে থাকা নামফলকের লেখাগুলোও প্রায় মুছে গেছে। উদ্বোধনের সময় নামফলকে লেখা ছিল, ‘‘হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্য স্মরণে ‘দীপ্ত শপথ’।’’ কিন্তু এখন ‘দীপ্ত শপথ’ আর উদ্বোধকের নাম ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। নিহত পুলিশ সদস্যদের নামও মুছে গেছে।
এদিকে কারা ভাস্কর্যটি ভেঙেছেন, সে ব্যাপারে তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। এ ঘটনায় হয়নি কোনো মামলাও। ভাস্কর্যটি কবে সংস্কার করা হবে তাও জানাতে পারেনি পুলিশ। জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসাইন ‘মন্তব্য নেই’ বলে জানান।
একই সঙ্গে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইন মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ‘এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার কথা বলবেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ তবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের ধারণা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্যটি ভাঙা হয়েছে। তবে তখন পুলিশের অবস্থা ভঙ্গুর থাকায় এ ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডি হয়নি। তাই এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা চিহ্নিত করা যায়নি।’
প্রতি জুলাইয়ের ১ তারিখ ভাস্কর্যটিতে শ্রদ্ধা জানাতেন নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীরা। তবে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে এই কার্যক্রম। এ ঘটনায় ব্যথিত পরিবারের সদস্যরা। তবে তাঁরা মনে করেন, পুলিশ-প্রশাসনের ওপর ক্ষোভের কারণে ভাস্কর্যটি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এই ২ পুলিশ কর্মকর্তা ‘মানবতা ও দায়িত্ববোধ’ থেকে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ভাস্কর্যটি না থাকলেও মানুষের মনে তাঁরা আছেন এবং দেশের মানুষের দোয়া তাঁদের সঙ্গে আছে।
অন্যদিকে ভাঙার পর নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানো হয় ভাস্কর্যটির পেছনে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার মর্মাহত হয়েছেন। যোগাযোগ করলে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের স্ত্রী উম্মে সালমা স্ট্রিমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার আসলে কিছু বলার নেই। কারণ যাকে হারিয়েছি তাকে তো আর ফেরত পাব না। আর মানুষ তো তাঁকে শ্রদ্ধা করে, দোয়া করে, ফুল নিয়ে আসে। ভাস্কর্য ভেঙে ফেললেও মানুষের মন থেকে তাঁকে ভোলাতে পারবে না। মানুষ ওকে যথেষ্ট ভালোবাসে, সম্মান করে। সারাজীবন মনে রাখবে।’
ভাস্কর্যের পুনঃসংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হোলি আর্টিজানে বিভিন্ন দেশের নাগরিক জীবন দিয়েছেন। তাঁদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দেশের মানুষ যদি চায় ভাস্কর্য থাকা ভালো, এটা আবার তৈরি করা প্রয়োজন—তাহলে সেটা অবশ্যই চিন্তাভাবনার বিষয়।’
রবিউল ইসলামের ভাই শামসুজ্জামান শামস স্ট্রিমকে বলেন, ‘রবিউল এবং সালাউদ্দিন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সেদিন জিম্মিদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। জঙ্গি হামলায় তাঁরা শহীদ হন। তাঁদের এই বীরোচিত আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, দেশ-বিদেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান এবং পদক্ষেপের একটি ইতিবাচক ধারণা জোরালো হয়েছিল। এ ঘটনায় সারা বিশ্ব শহীদদের প্রতি সমবেদনা যেমন দেখিয়েছিল, তেমনি পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু রবিউলের ভাই হিসেবেই নয়, এ দেশের মানুষ হিসেবে আমার কষ্ট হয় যখন দেখি হোলি আর্টিজান হামলায় পুলিশ সদস্যদের দেশ ও মানবপ্রেমে বীরোচিত আত্মোৎসর্গের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে গুলশান থানার সামনে নির্মিত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি গোষ্ঠী সেটি ভেঙে ফেলে সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার টাঙিয়ে দিয়েছিল। ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছি যখন দেখলাম এরপর থেকে সেখানে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
ভাস্কর্যটি না থাকায় এবারও শ্রদ্ধা জানানো হবে না দুই কর্মকর্তাকে। নেওয়া হয়নি ভিন্ন কোনো আয়োজনের উদ্যোগও। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘হোলি আর্টিজানে নিহত কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা জানাতে পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা বা অন্য কোনো আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ইতালি দূতাবাস থেকে একটি আয়োজন করা হবে। তাঁরা এ দিন নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবেন।’
এ ব্যাপারে রবিউল ইসলামের ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর থেকে সেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আসলে রবিউল ও সালাউদ্দিনকে পুলিশ বাহিনী বা রাষ্ট্রের সম্পদ থেকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন ও পরের কয়েক দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও তাঁর নামের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে হামলার শিকার হয় মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভাস্কর্য, ম্যুরাল, স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর ও বধ্যভূমি কেন্দ্রিক স্থাপনা। জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সও হামলার শিকার হয়। ধ্বংস করা হয়েছে ময়মনসিংহের শশীলজের ভেনাসের মূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের থেমিস ও শিশু একাডেমির ‘দুরন্ত’ ভাস্কর্যটিও।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯টি জেলায় প্রায় দেড় হাজার ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ধ্বংস করা হয়েছে। বেশির ভাগ ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিমুল খবিরের মতে, এসব ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং ভাস্কর্যগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্ট্রিমকে এই ভাস্কর বলেন, ‘দেশে যত ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, প্রথম থেকেই আমরা এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছি। ভাঙচুরে নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা বলছি, ভেঙে দেওয়া ভাস্কর্যগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এই ধরনের কাজ যারা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের ভাস্কর্যগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, তারা যদি সেগুলো সংরক্ষণ, পুনর্নির্মাণ করতে চান অথবা সংস্কার করতে চান, সে ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আমরা করতে পারি।’
২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যায় খবর আসে, গুলশানে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে’ পুলিশের গোলাগুলি হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর থেকে জানা যায়, হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে কয়েকজনকে জিম্মি করেছেন হামলাকারীরা। পরে জানা গেল, ওই রেস্তোরাঁয় থাকা বিদেশি নাগরিকদেরও জিম্মি করেছেন তাঁরা। এরপর জানা যায়, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে গুলশান ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা।
রাত ৯টা ৫ মিনিটে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার খবর পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। রাত ৯টা ২০ মিনিটে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক এ সময় টুইট করেন, ‘পুলিশ ইজ সারাউন্ডিং দ্য এরিয়া, গানফায়ার স্টিল অন’।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোলাগুলিতে আহত হন বনানী থানার ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে পুলিশ, র্যাব এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কয়েক শ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয়। এদিকে রাত সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালে মারা যান ওসি সালাউদ্দিন।
রাতভর এ অবস্থা চলমান থাকে। রাত ৪টা পর্যন্ত অস্ত্রধারীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এলাকাটি ঘিরে রাখে তারা। পরে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সেনা, নৌ, পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো দল অভিযান শুরু করে।
সকাল সোয়া ৮টায় প্রথম দফায় রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে আসে নারী ও শিশুসহ ৬ জন। ৮টা ৫৫ মিনিটে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভিযানকারীরা। গোয়েন্দা দল ভবনের ভেতর বিস্ফোরকের জন্য তল্লাশি শুরু করে। ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকটের অবসান হয়। সকাল ১০টায় ৪ জন বিদেশিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর জানানো হয়। রেস্তোরাঁর ভেতরে অজ্ঞাত ৫ জনের মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। ১১টা ৫০ মিনিটে জঙ্গিদের ৬ জন নিহত এবং একজন ধরা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, রেস্তোরাঁ থেকে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

দশ বছর আগে ঢাকার গুলশানের এক নিরিবিলি সন্ধ্যা হঠাৎ রূপ নেয় বিভীষিকায়। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ মারা যান ২২ জন মানুষ।
ওই হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানে গুলশান থানার সামনে তৈরি করা হয় ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাস্কর্যটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পরে আর সংস্কার করা হয়নি।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান ২২ জন মানুষ। এর মধ্যে ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭ জন, ভারতের ১ জন, বাংলাদেশের ২ জন এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ১ জন নাগরিক। এই হামলা ঠেকাতে গিয়েই নিহত হন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। সেই সঙ্গে আহত হন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য।
নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানে গুলশান থানার সামনে ভাস্কর মৃণাল হক তৈরি করেন ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য। জঙ্গি হামলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১ জুলাই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
গত সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশান থানার সামনে ভাস্কর্য বলে আর কিছু নেই। ভাস্কর্যের জায়গাটি শিকলে ঘেরা থাকলেও নেই ভাস্কর্যটি। শুধু ভাঙা অংশের কয়েকটি রড সেখানে দেখা যাচ্ছে।
ভাস্কর্যের পাশে থাকা নামফলকের লেখাগুলোও প্রায় মুছে গেছে। উদ্বোধনের সময় নামফলকে লেখা ছিল, ‘‘হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্য স্মরণে ‘দীপ্ত শপথ’।’’ কিন্তু এখন ‘দীপ্ত শপথ’ আর উদ্বোধকের নাম ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। নিহত পুলিশ সদস্যদের নামও মুছে গেছে।
এদিকে কারা ভাস্কর্যটি ভেঙেছেন, সে ব্যাপারে তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। এ ঘটনায় হয়নি কোনো মামলাও। ভাস্কর্যটি কবে সংস্কার করা হবে তাও জানাতে পারেনি পুলিশ। জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসাইন ‘মন্তব্য নেই’ বলে জানান।
একই সঙ্গে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইন মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ‘এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার কথা বলবেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ তবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের ধারণা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্যটি ভাঙা হয়েছে। তবে তখন পুলিশের অবস্থা ভঙ্গুর থাকায় এ ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডি হয়নি। তাই এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা চিহ্নিত করা যায়নি।’
প্রতি জুলাইয়ের ১ তারিখ ভাস্কর্যটিতে শ্রদ্ধা জানাতেন নিহত ২ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীরা। তবে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে এই কার্যক্রম। এ ঘটনায় ব্যথিত পরিবারের সদস্যরা। তবে তাঁরা মনে করেন, পুলিশ-প্রশাসনের ওপর ক্ষোভের কারণে ভাস্কর্যটি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এই ২ পুলিশ কর্মকর্তা ‘মানবতা ও দায়িত্ববোধ’ থেকে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ভাস্কর্যটি না থাকলেও মানুষের মনে তাঁরা আছেন এবং দেশের মানুষের দোয়া তাঁদের সঙ্গে আছে।
অন্যদিকে ভাঙার পর নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানো হয় ভাস্কর্যটির পেছনে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার মর্মাহত হয়েছেন। যোগাযোগ করলে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের স্ত্রী উম্মে সালমা স্ট্রিমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার আসলে কিছু বলার নেই। কারণ যাকে হারিয়েছি তাকে তো আর ফেরত পাব না। আর মানুষ তো তাঁকে শ্রদ্ধা করে, দোয়া করে, ফুল নিয়ে আসে। ভাস্কর্য ভেঙে ফেললেও মানুষের মন থেকে তাঁকে ভোলাতে পারবে না। মানুষ ওকে যথেষ্ট ভালোবাসে, সম্মান করে। সারাজীবন মনে রাখবে।’
ভাস্কর্যের পুনঃসংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হোলি আর্টিজানে বিভিন্ন দেশের নাগরিক জীবন দিয়েছেন। তাঁদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দেশের মানুষ যদি চায় ভাস্কর্য থাকা ভালো, এটা আবার তৈরি করা প্রয়োজন—তাহলে সেটা অবশ্যই চিন্তাভাবনার বিষয়।’
রবিউল ইসলামের ভাই শামসুজ্জামান শামস স্ট্রিমকে বলেন, ‘রবিউল এবং সালাউদ্দিন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সেদিন জিম্মিদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। জঙ্গি হামলায় তাঁরা শহীদ হন। তাঁদের এই বীরোচিত আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, দেশ-বিদেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান এবং পদক্ষেপের একটি ইতিবাচক ধারণা জোরালো হয়েছিল। এ ঘটনায় সারা বিশ্ব শহীদদের প্রতি সমবেদনা যেমন দেখিয়েছিল, তেমনি পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু রবিউলের ভাই হিসেবেই নয়, এ দেশের মানুষ হিসেবে আমার কষ্ট হয় যখন দেখি হোলি আর্টিজান হামলায় পুলিশ সদস্যদের দেশ ও মানবপ্রেমে বীরোচিত আত্মোৎসর্গের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে গুলশান থানার সামনে নির্মিত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি গোষ্ঠী সেটি ভেঙে ফেলে সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পোস্টার টাঙিয়ে দিয়েছিল। ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছি যখন দেখলাম এরপর থেকে সেখানে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
ভাস্কর্যটি না থাকায় এবারও শ্রদ্ধা জানানো হবে না দুই কর্মকর্তাকে। নেওয়া হয়নি ভিন্ন কোনো আয়োজনের উদ্যোগও। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘হোলি আর্টিজানে নিহত কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা জানাতে পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা বা অন্য কোনো আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ইতালি দূতাবাস থেকে একটি আয়োজন করা হবে। তাঁরা এ দিন নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবেন।’
এ ব্যাপারে রবিউল ইসলামের ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর থেকে সেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আসলে রবিউল ও সালাউদ্দিনকে পুলিশ বাহিনী বা রাষ্ট্রের সম্পদ থেকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন ও পরের কয়েক দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও তাঁর নামের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে হামলার শিকার হয় মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভাস্কর্য, ম্যুরাল, স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর ও বধ্যভূমি কেন্দ্রিক স্থাপনা। জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সও হামলার শিকার হয়। ধ্বংস করা হয়েছে ময়মনসিংহের শশীলজের ভেনাসের মূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের থেমিস ও শিশু একাডেমির ‘দুরন্ত’ ভাস্কর্যটিও।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯টি জেলায় প্রায় দেড় হাজার ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ধ্বংস করা হয়েছে। বেশির ভাগ ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিমুল খবিরের মতে, এসব ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং ভাস্কর্যগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্ট্রিমকে এই ভাস্কর বলেন, ‘দেশে যত ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে, প্রথম থেকেই আমরা এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছি। ভাঙচুরে নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা বলছি, ভেঙে দেওয়া ভাস্কর্যগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এই ধরনের কাজ যারা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের ভাস্কর্যগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, তারা যদি সেগুলো সংরক্ষণ, পুনর্নির্মাণ করতে চান অথবা সংস্কার করতে চান, সে ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আমরা করতে পারি।’
২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যায় খবর আসে, গুলশানে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে’ পুলিশের গোলাগুলি হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর থেকে জানা যায়, হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে কয়েকজনকে জিম্মি করেছেন হামলাকারীরা। পরে জানা গেল, ওই রেস্তোরাঁয় থাকা বিদেশি নাগরিকদেরও জিম্মি করেছেন তাঁরা। এরপর জানা যায়, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে গুলশান ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা।
রাত ৯টা ৫ মিনিটে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার খবর পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। রাত ৯টা ২০ মিনিটে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক এ সময় টুইট করেন, ‘পুলিশ ইজ সারাউন্ডিং দ্য এরিয়া, গানফায়ার স্টিল অন’।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোলাগুলিতে আহত হন বনানী থানার ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে পুলিশ, র্যাব এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কয়েক শ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয়। এদিকে রাত সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালে মারা যান ওসি সালাউদ্দিন।
রাতভর এ অবস্থা চলমান থাকে। রাত ৪টা পর্যন্ত অস্ত্রধারীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এলাকাটি ঘিরে রাখে তারা। পরে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সেনা, নৌ, পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো দল অভিযান শুরু করে।
সকাল সোয়া ৮টায় প্রথম দফায় রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে আসে নারী ও শিশুসহ ৬ জন। ৮টা ৫৫ মিনিটে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভিযানকারীরা। গোয়েন্দা দল ভবনের ভেতর বিস্ফোরকের জন্য তল্লাশি শুরু করে। ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকটের অবসান হয়। সকাল ১০টায় ৪ জন বিদেশিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর জানানো হয়। রেস্তোরাঁর ভেতরে অজ্ঞাত ৫ জনের মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। ১১টা ৫০ মিনিটে জঙ্গিদের ৬ জন নিহত এবং একজন ধরা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, রেস্তোরাঁ থেকে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
.png)

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৬০০ কেজি হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালি জাতের আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান আগরতলা স্থলবন্দরে পৌঁছে।
১ মিনিট আগে
ঠিক ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দেশ।
১ ঘণ্টা আগে
রাঙ্গাবালীতে তিন বছরেও শেষ হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ। এতে অসুস্থ হলে নদ ও সাগর পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। উপজেলা ঘোষণার ১৪ বছরেও স্থানীয়দের এই চিকিৎসা সংকট মিটছে না।
২ ঘণ্টা আগেনির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে বৃহত্তর স্বপ্ন তরুণেরা দেখেছিলেন, তা কার্যত থমকে রয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে