স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলকে অগ্রিম আয়করের (এআইটি) আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই নিয়মে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বার্ষিক কর আরোপ হতে পারে। এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যেই অপ্রচলিত ও দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতগুলোকে করজালের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
দেশে বর্তমানে ৫০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ১০-১২ লাখ। এতদিন এগুলোর সুনির্দিষ্ট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত রিকশায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২ হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা বার্ষিক কর আরোপ করা হতে পারে। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখন থেকে সিটি করপোরেশনই এসব যানের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা পাবে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কর না থাকলেও ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি সক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা বার্ষিক অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের রিকশা ও ইজিবাইক চালক সম্প্রদায় অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরা নিয়মিত উপার্জনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের নতুন কর বা শুল্ক চাপানো হলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। রিকশা ও ই-বাইক চালকেরা সরকারকে কর দিতে অনাগ্রহী নন, তবে কর আদায়ের পদ্ধতি হওয়া উচিত বিজ্ঞানসম্মত ও সহনশীল।’
ঢালাওভাবে ট্যাক্স বা ভ্যাট আরোপ না করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধন ফি প্রবর্তন করা যেতে পারে বলে মত দেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই ফি বাৎসরিক বা পাঁচ বছর মেয়াদি হতে পারে, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। এভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে যানবাহনগুলো বৈধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ট্যাক্সের হার ভিন্ন হওয়াটাও বৈষম্যমূলক এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বড় পুঁজিকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস না হয়। স্থানীয় পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বিষয়টিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এই খাতটি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।’
অন্যদিকে রিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিবন্ধন না থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে অনেক হয়রানি হয়। সরকার নিবন্ধন দিলে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু করের বোঝা দিলে মালিকেরা আমাদের থেকেই তা নেবেন। তাই আমরা চাই, এই ধরনের কর যাতে না বসে।’
তবে অর্থনীতিবিদ ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সরকার এখন রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নানা জায়গায় কর আরোপের চিন্তা করছে। রাজস্ব বাড়ানোর চাপে সর্বত্র এভাবে কর আরোপ করা ঠিক না।’ ব্যাটারিচালিত রিকশার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যদি ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর কর আরোপ করা হয়, তবে এই রিকশাগুলো বৈধ হয়ে যাবে। নিবন্ধন দিলে তাঁদের আর থামানো যাবে না। এসব রিকশা তো নিষিদ্ধ করাই উচিত। শুধু লাভের চিন্তা করলে হবে না, সরকারকে জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে ভাবতে হবে। এই রিকশাগুলো দুর্ঘটনাপ্রবণ।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী গাড়ির মালিকেরা ফিটনেস নবায়নের সময় যে অগ্রিম আয়কর দেন, তা বার্ষিক আয়কর রিটার্নে মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। প্রস্তাবিত রিকশা ও মোটরসাইকেল মালিকেরাও একইভাবে তাঁদের রিটার্নে এই কর সমন্বয় করতে পারবেন। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য আড়াই হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বা জিপের জন্য ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর প্রচলিত রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে রাজস্ব ভাণ্ডারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে এনবিআর।

রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলকে অগ্রিম আয়করের (এআইটি) আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই নিয়মে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বার্ষিক কর আরোপ হতে পারে। এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যেই অপ্রচলিত ও দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতগুলোকে করজালের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
দেশে বর্তমানে ৫০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ১০-১২ লাখ। এতদিন এগুলোর সুনির্দিষ্ট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত রিকশায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২ হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা বার্ষিক কর আরোপ করা হতে পারে। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখন থেকে সিটি করপোরেশনই এসব যানের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা পাবে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কর না থাকলেও ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি সক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা বার্ষিক অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের রিকশা ও ইজিবাইক চালক সম্প্রদায় অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরা নিয়মিত উপার্জনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের নতুন কর বা শুল্ক চাপানো হলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। রিকশা ও ই-বাইক চালকেরা সরকারকে কর দিতে অনাগ্রহী নন, তবে কর আদায়ের পদ্ধতি হওয়া উচিত বিজ্ঞানসম্মত ও সহনশীল।’
ঢালাওভাবে ট্যাক্স বা ভ্যাট আরোপ না করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধন ফি প্রবর্তন করা যেতে পারে বলে মত দেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই ফি বাৎসরিক বা পাঁচ বছর মেয়াদি হতে পারে, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। এভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে যানবাহনগুলো বৈধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ট্যাক্সের হার ভিন্ন হওয়াটাও বৈষম্যমূলক এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বড় পুঁজিকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস না হয়। স্থানীয় পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বিষয়টিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এই খাতটি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।’
অন্যদিকে রিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিবন্ধন না থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে অনেক হয়রানি হয়। সরকার নিবন্ধন দিলে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু করের বোঝা দিলে মালিকেরা আমাদের থেকেই তা নেবেন। তাই আমরা চাই, এই ধরনের কর যাতে না বসে।’
তবে অর্থনীতিবিদ ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সরকার এখন রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নানা জায়গায় কর আরোপের চিন্তা করছে। রাজস্ব বাড়ানোর চাপে সর্বত্র এভাবে কর আরোপ করা ঠিক না।’ ব্যাটারিচালিত রিকশার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যদি ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর কর আরোপ করা হয়, তবে এই রিকশাগুলো বৈধ হয়ে যাবে। নিবন্ধন দিলে তাঁদের আর থামানো যাবে না। এসব রিকশা তো নিষিদ্ধ করাই উচিত। শুধু লাভের চিন্তা করলে হবে না, সরকারকে জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে ভাবতে হবে। এই রিকশাগুলো দুর্ঘটনাপ্রবণ।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী গাড়ির মালিকেরা ফিটনেস নবায়নের সময় যে অগ্রিম আয়কর দেন, তা বার্ষিক আয়কর রিটার্নে মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। প্রস্তাবিত রিকশা ও মোটরসাইকেল মালিকেরাও একইভাবে তাঁদের রিটার্নে এই কর সমন্বয় করতে পারবেন। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য আড়াই হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বা জিপের জন্য ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর প্রচলিত রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে রাজস্ব ভাণ্ডারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে এনবিআর।

আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয়ে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ শেষ হয়েছে।
৬ মিনিট আগে
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চার শতাধিক চিকিৎসক নিয়ে ম্যারাথনের আয়োজন করেছে লিপিড সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এলএসবি)।
৮ মিনিট আগে
হামে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও টিকা অবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিও জানায়। বুধবার (১৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ হয়।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে জানিয়েছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
২ ঘণ্টা আগে