কারাগারে থেকেও ডাকাতির আসামি, ১০ বছরেও শেষ হয়নি মামলা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

ছবি:সংগৃহীত
ছবি:সংগৃহীত

ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৪ নভেম্বর ২০১৬। অথচ ওই সময় রাজশাহী কারাগারে বন্দি ছিলেন নাটোরের ইমরান হোসেন। পরে জামিনে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। এর কয়েকমাস পর সেই ডাকাতি মামলায় তাঁকে আসামি করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয় কারাগারে। ১০ বছর পরও সেই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে।

ইমরানের জানান, ঘটনার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন— এ তথ্য পুলিশের জানা থাকার কথা। এরপরও কীভাবে তাঁকে ডাকাতি মামলায় আসামি করা হলো, কেনই বা নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তৎকালীন নাটোর সদর থানার এসআই আবু সাদাত তাঁকে মামলায় জড়িয়েছিলেন।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর একটি অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ইমরানকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে থাকা অবস্থায় ৪ নভেম্বর নাটোরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২২ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। এরপর ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই তাঁকে ওই ডাকাতি মামলায় আসামি করা হয়। ২৪ জুলাই তিনি জামিন পান।

মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আলী আকবর। তদন্ত শেষে তিনি ইমরানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ইমরান জানান, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ইমরানের চাচা আনোয়ার হোসেনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁর ভাতিজাকে হয়রানি করতে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। জেলা যুবদলের সভাপতি এক হাই তালুকদার ডালিমও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, যে সময়ের ডাকাতি মামলায় ইমরানকে আসামি করা হয়েছে, তখন তিনি রাজশাহী কারাগারে ছিলেন। পুলিশের তদন্তে এমন গাফিলতি কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সাদাত বলেন, ইমরান কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে ডাকাতি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এটিকে তদন্তের ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। ইমরানকে নির্যাতন ও টাকা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন আবু সাদাত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী পুলিশ একাডেমি, সারদায় কর্মরত।

দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলী আকবর বলেন, প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পরে তিনি তদন্তভার নিয়ে শুধু অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে ইমরান কারাগারে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে ইমরান বা তাঁর কোনো স্বজন তাঁকে অবহিত করেননি।

কারাগারে থাকা অবস্থায় ডাকাতি মামলায় আসামি করার অভিযোগে, মামলা থেকে মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ইমরান হোসেন। বর্তমানে অভিযোগটির তদন্ত করছেন নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার।

ইমরানের অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত