জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কাঠমান্ডুতে কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা

ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এখন সময়ের দাবি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭: ২০
কর্মশালায় ইউনেস্কো প্রণীত টুলকিটের মাধ্যমে ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত প্রসারের ফলে জনমত গঠন, নাগরিক অংশগ্রহণ ও তথ্য প্রাপ্তির সুযোগের পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি কার্যকর ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স’ এখন সময়ের দাবি বলে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিচালনায় ইউনেস্কো নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার’ শীর্ষক কর্মশালায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মাধ্যমের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কর্মশালায় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সংসদ সদস্য, নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, যুব প্রতিনিধি এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ভুলতথ্য, অপতথ্য, অনলাইনে হয়রানি, প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহির অভাব এবং নাগরিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জগুলো প্রকট হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ‘গাইডলাইনস ফর দ্য গভর্ন্যান্স অব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস’ প্রণয়ন করেছে।

এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ‘টুলকিট’কে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে উপযোগী করে তোলা। এই টুলকিটে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নিয়ন্ত্রক পরিসর এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য ‘আইডেন্টিফিকেশন চেকলিস্ট’ রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি ‘কনটেন্ট ক্লাসিফিকেশন ম্যাট্রিক্স’ ও ‘ডিসিশন ফ্লোচার্ট’ যুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কুন্দন আরিয়াল বলেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন একধরনের গভর্ন্যান্স প্রয়োজন, যা মানবাধিকারকে সম্মান ও সুরক্ষা দেবে এবং ক্ষতিকর কনটেন্টকে নিরুৎসাহিত করবে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এই সমস্যাগুলোর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ প্রায় একই রকম।’ এই কারণেই দেশগুলোর জন্য একই ধরনের কৌশল প্রণয়নের কথা ভাবা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেপালের সাবেক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী সুমনা শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সমাজব্যবস্থা মূলত পিতৃতান্ত্রিক হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী মনোভাব রয়েছে। একজন রাজনীতিক হিসেবে শুধু আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর দিক থেকে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এলেও তাকে “না” বলাটা জরুরি। এভাবেই সমাজকে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব।’

রাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুমনা শ্রেষ্ঠা আরও বলেন, অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সমস্যা রিপোর্ট করা থেকে শুরু করে সমাধান ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া যত দ্রুত ও যন্ত্রণামুক্ত হবে, তত বেশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসবে। এর মাধ্যমেই সমাজ থেকে নারীবিদ্বেষ দূর করার প্রক্রিয়া গতিশীল হবে।

শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য হাসারা লিয়ানাগে বলেন, ‘আইনপ্রণেতা হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তবে জেন-জি এবং আগামীর আলফা প্রজন্মের দিকেও আমাদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মানসিকতা এবং তারা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তা আমাদের বুঝতে হবে।’

ডিজিটাল অর্থনীতি ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয়ের কথা উল্লেখ করে শ্রীলঙ্কা সঠিক পথে রয়েছে জানিয়ে লিয়ানাগে আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ডিজিটাল সাক্ষরতা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইন্টারনেট সংযোগ নেই। তাই যখন আমরা গভর্ন্যান্স নিয়ে আলোচনা করি, তখন তথ্যের অধিকার এবং ইন্টারনেট প্রাপ্তির বিষয়ও বুঝতে হবে। শ্রীলঙ্কার সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এনে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে শাসনব্যবস্থায় জনগণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ে।’

কর্মশালায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকিব আহম্মেদ জানান, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউনেস্কোর নির্দেশিকায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা। অংশীজনদের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স প্রয়োজনীয়, তবে আমরা নিশ্চিত করছি যে তা যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণমূলক বা স্বাধীনতাবিরোধী না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই টুলকিটের মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল গভর্ন্যান্সকে আরও সহজ করতে চাই এবং জনবহুল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিরাপদ করে তুলতে চাই।’

কাঠমান্ডুর বালখুতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ডিপার্টমেন্ট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশনস (ক্যামেরা বিল্ডিং)-এ আয়োজিত এই কর্মশালা আগামীকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত