একমাসে ৫ হাজার অভিযান, পৌনে ৪ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

নাসিরনগরে মুদি দোকানে থেকে জব্দ করা হয় ড্রামে অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল। সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে এক মাসব্যাপী অভিযানে প্রায় পৌনে ৪ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযানে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশে পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ডিজেল নিয়েও কোনো সংকট নেই। বর্তমানে সরকারের কাছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন সরবরাহযোগ্য ডিজেল মজুদ রয়েছে। তবে প্যানিক বায়িং এবং অস্বাভাবিক মজুতের প্রবণতা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষিখাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করা হচ্ছে। সেখানে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় ডিজেল পাবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্যও কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ দিকে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কিছু যানবাহনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অস্বাভাবিক মজুতের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না।

সম্পর্কিত