ঈদযাত্রায় ট্রেনে নারীদের আলাদা বগির নির্দেশ হাইকোর্টের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহায় যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি বগি বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১২ মে) এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।

আইনজীবী আজমল হোসেন জানান, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরার বিষয়টি বাস্তবায়নের দাবিতে করা একটি রুল বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় ঈদে নারীদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘবে আদালতে সম্পূরক আবেদনটি করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

২০২১ সালের রিট ও রুল জারির প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী আজমল হোসেন বলেন, ‘সে সময় রুল হয়েছিল যে কেন প্রতিটি ট্রেনে নারীদের আলাদা কামরা বরাদ্দ করা হবে না। এ ছাড়া শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য কেন আলাদা আসন বরাদ্দ করা হবে না, সে বিষয়েও উনাদের কাছে জানতে চেয়ে রুল ইস্যু হয়েছিল।’

গত কয়েকটি ঈদে নারী কামরা বরাদ্দ থাকলেও সবশেষ ঈদুল ফিতরে তা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে ২০২২-২৩ সাল পর্যন্ত আন্তনগর ট্রেনগুলোতে ঈদের মধ্যে নারীদের জন্য অন্তত একটি কামরা দেওয়া হতো। গত ঈদুল ফিতরে কোনো কামরা ছিল না। যে কারণে আমরা দেখলাম, নারীরা ট্রেনের ছাদে উঠছেন, কোনো স্বামী বা ভাই তার বোনকে কাঁধে করে নামাচ্ছেন।’

আদালতে নতুন করে আবেদনের প্রেক্ষাপট জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “অনেক মহিলা ট্রেন ছাড়া জার্নি করতে পারেন না, তাদের নানা রকম শারীরিক সমস্যা হয়। বাচ্চাদেরও সমস্যা হয়। তাই আমরা কোর্টের কাছে প্রেয়ার নিয়ে এলাম, অন্তত ঈদগুলোতে যেন একটি করে কামরা দেওয়া হয়।’

শুনানি শেষে বেঞ্চ রেলওয়েকে নির্দেশ দিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাতে যেন সব যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আদেশে শিশুদের বিষয়টি কেন আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তার ব্যাখ্যায় আজমল হোসেন বলেন, ‘আদেশে শিশুদেরসহ দেওয়ার কথা প্রথমে বলা হলেও পরে আদালত বলেন, স্বামীর সঙ্গে শিশু থাকলে সে কার কাছে যাবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে মহিলারা তো আর শিশু ছাড়া যাবেন না, শিশু নিয়েই যাবেন।’

উল্লেখ্য, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে, প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলেও আইনে উল্লেখ আছে। আর ওই কামরায় বিনা অনুমতিতে কেউ প্রবেশ করলে তাকে জরিমানা করার কথা বলা আছে আইনের ১১৯ ধারায়।

এই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারি করেন। আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই বিচারাধীন রুলের ওপর ভিত্তি করেই মঙ্গলবার সম্পূরক আবেদনে নতুন এই আদেশ দিল আদালত।

বিষয়:

হাইকোর্ট

সম্পর্কিত