সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে লংমার্চের ঘোষণা পাটওয়ারীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২০: ৫৭
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংগৃহীত ছবি

সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মো. মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা যদি আরও বাড়ে এবং সরকার যদি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তবে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে লংমার্চ করব। ইনশাআল্লাহ, দেখি আমাদের কে ঠেকায়। এর আগে সরকারকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বন্ধে এনসিপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এনসিপি কোনো সময় সরকার গঠন করতে পারলে মাদকপাচার রোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এ সময় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা কীভাবে আসে—এই জবাব স্বরাষ্ট্র বিভাগকে দিতে হবে। সীমান্ত হত্যা যদি বন্ধ করা না যায়, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চুড়ি পরে বসে থাকতে হবে।’

দেশে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এখানে এক সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সাংবাদিকেরাও যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ? আমি কসবায় আসার পথেও বিভিন্ন জায়গায় বাধার মুখে পড়েছি। আমি এ দেশের নাগরিক, আমি কোথায় যাব তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।’

পরে এনসিপির প্রতিনিধি দল নিহত মোরসালিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ভারতের ভেতরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন।

সম্পর্কিত