‘ঢাবির শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব প্রাধান্য পেয়েছে’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২০: ৫৬
ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময়। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়াম এই মতবিনিময় হয়।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এটি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের নানা উন্নয়ন কাজ করা যেত। যতটা সম্ভব দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে চাই।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

সভার শুরুতে সরকারপ্রধান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশ্ন নেন এবং সেগুলোর উত্তর দেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইউট্যাব) মহাসচিব মোর্শেদ হাসান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এই কর্মশালায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুঁথিগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডাটা ও ন্যানো টেকনোলজিসহ আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এর ফলে যেমন প্রচলিত চাকরির বাজারে পরিবর্তন আসছে, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এখন অপরিহার্য।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম প্রমুখ বক্ততৃা করেন।

সম্পর্কিত