৫৪ বছরের বঞ্চনার নিরসন চান উর্দুভাষীরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

‘মিডিয়া অ্যাডভোকেসি অন দ্য কারেন্ট সিচুয়েশন এন্ড দ্য ওয়ে অফ রিহ্যাবিলিটেশন অফ উর্দু স্পিকিং কমিউনিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভা। ছবি: সংগৃহীত

৫৪ বছরের বঞ্চনার অবসান ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন উর্দুভাষী বাংলাদেশিরা। সোমবার (৪ মে) রাজধানীতে এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসিতে আইনি অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে কাউন্সিল অফ মাইনোরিটিজের এই সভায় উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়।

মূল বক্তব্যে আইনজীবী আহমেদ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশে উর্দুভাষীদের ইতিহাস ১৯৭১ সাল থেকে নয় বরং, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু। ১৯৪৬ সালে ভারতের বিহারে দাঙ্গায় ৩০ হাজার মুসলমান মারা যাওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সাল নাগাদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ভারতীয় মুহাজির তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সাল নাগাদ পাকিস্তান সরকার কেবল তাদেরই ফেরত নিয়েছে যাদের সরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়। বাকিরা নাগরিক অধিকার ছাড়াই এ বাংলাদেশে রয়ে গেছেন। তাদের কেবল দারিদ্র্য বা অসহায়ত্বের লেন্সে দেখি, কিন্তু বাস্তবে এই জনগোষ্ঠীকে ৫৪ বছর ধরে আইনি ভিত্তিতে নিপীড়ন করা হয়েছে। তাই তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।’

কাউন্সিল অফ মাইনোরিটিজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী খালিদ হোসেন বলেন, ‘২০০১ ও ২০০৮ সালে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার উর্দুভাষীদের নাগরিকত্ব দিলেও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে আমরা এখনও বঞ্চিত।’

ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘মুহাজিরদের জন্য ৩৮ জেলায় অ্যাকোয়ার করা ৩৪ হাজার একর জমি উদ্ধারে ডিসিদের অর্ডার দেওয়া হলেও তা হয়নি। ১৯৯৬ সালে নন্দীপাড়ায় ১১৭ পরিবারকে জমি দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও ক্যাম্পবাসীরা তা পায়নি।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের ২০১৬ সালের একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে খালিদ হোসেন জানান, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় ২৪ হাজার ২১২ উর্দুভাষী পরিবার আছে। তাদের পুনর্বাসনে নতুন জমির প্রয়োজন নেই, কারণ ঢাকার প্রাইম লোকেশনেই (মিরপুর ও তেজগাঁও) ১১২ দশমিক ৩৫ একর জমি মুহাজিরদের জন্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিত্রাণ চাই। এই জমি হোক বা অন্য কোনো নতুন সেটেলমেন্ট—উর্দুভাষীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার ব্যবস্থা নিক।’

ক্যাম্পবাসীদের পক্ষ থেকে স্টাফ কোয়ার্টার ক্যাম্পের বাসিন্দা কাজল বলেন, ‘খোপ খোপ ছোট রুমে বড় ফ্যামিলি নিয়ে থাকতে হয়। বাড়ির অবস্থা এত খারাপ যে ভূমিকম্পে ফাটল ধরেছে, বাইরে গাড়ি চললে বিল্ডিং কাঁপে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে।’

মিরপুর মাদরাসা ক্যাম্পের মেহরাজ অভিযোগ করেন, ‘ভোটের সময় আমাদের ব্যবহার করা হয়, কিন্তু নাগরিক অধিকারের বেলায় কারও মাথাব্যথা নেই।’

মোহাম্মদপুর মার্কেট ক্যাম্পের রুমা বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্ট অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের। ক্যাম্পের সরু সিঁড়ি দিয়ে প্রসব ব্যথায় কাতর মহিলাদের নামাতে গিয়ে অনেক সময় এক্সিডেন্ট ঘটে। এমনকি মানুষ মারা গেলে লাশ বের করার রাস্তা থাকে না, কোলে করে মেইন রাস্তায় আনতে হয়।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা দাবি জানান, উর্দুভাষীদের আইনি ও স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পুনর্বাসন কাঠামো তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৩৪ হাজার একর জমি হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি ২০১৩ সালের মুহাজির পুনর্বাসন নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিষয়:

উর্দু

সম্পর্কিত