কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সংগৃহীত ছবি

দেশের তরুণদের মানবসম্পদে রূপান্তর এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনে কাজ চলছে।

তরুণ সমাজকে দেশের প্রধান শক্তি উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড”। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা নারী ও যুবকদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েছি। বিশ্ববাজারে শ্রমের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে।’

সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে নীতি বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’ মাঠপর্যায়ে এসব উদ্যোগ সফল করতে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের ওপর গুরুদায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মাহদী আমিন জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জন করতে পারবে।

শিল্প খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের কাজ জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার ও জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে আমরা এমন কর্মপরিবেশ গড়তে চাই, যেখানে কর্মীরা সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তার ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসিরাই মাঠপর্যায়ের নীতি বাস্তবায়নের মূল শক্তি। তাঁদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সম্পর্কিত