জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

টেকনাফে সম্পদের জন্য দুই ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৯: ০৩
টেকনাফে দুই ছেলের মারধরে নিহত বাবার মরদেহ নিয়ে স্বজনের আহাজারি। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধে দুই ছেলের মারধরে বাবা কালা মিয়ার (৭০) মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কালা মিয়া নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুতে দুই ছেলে শাকের আলম ও মনির আলমকে অভিযুক্ত করেছে তাঁদের বোন। নিহতের বড় মেয়ে এলম বাহার বলেন, ‘সামান্য জমির লোভে আমার দুই ভাই বাবাকে মারধর করে হত্যা করেছে। আমি বিচার চাই।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই তাঁরা বাড়ি থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ছেলে মিলে তাঁদের বাবাকে মারধর করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, কালা মিয়ার পরিবারে ছেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে মায়ের জমির ভাগ নিয়ে দুই ছেলে প্রায়ই বাবার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। এর আগে বৃদ্ধের বড় মেয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি ছেলেদের ডেকে বুঝিয়েছিলেন। এরপরও গত দুই দিন ধরে তারা সম্পত্তির জন্য বাবাকে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবুল ফয়েজ আরও জানান, সোমবার রাতে কালা মিয়াকে বাড়ির উঠোনে বেহুঁশ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কালা মিয়ার মেয়ে এলম বাহার জানান, ‘রোববার মনিরুল আলম বাবাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর সারা দিন বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রাত ১২টার দিকে বাবাকে বেহুঁশ অবস্থায় বাড়ির উঠোনে পাওয়া গেলে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সম্পর্কিত