জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আড়াই শ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী ফুলবাড়িয়ার খানবাড়ি মসজিদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১০
খানবাড়ি মসজিদ। স্ট্রিম ছবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া পূর্বভাটিপাড়া গ্রামে ছিমছাম গ্রামীণ পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন একগম্বুজ বিশিষ্ট ‘খানবাড়ি জামে মসজিদ’। প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করা এই স্থাপনাটি আজও তার স্থাপত্যশৈলী আর নান্দনিক কারুকাজ দিয়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১২০০ হিজরি মোতাবেক ১৭৮৫ সালের দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ও দানশীল ব্যক্তি হায়াত খান মসজিদটি নির্মাণ করেন। চুন-সুরকি ও বিশেষ কষ দিয়ে নির্মিত এই মসজিদের দেয়াল প্রায় ৪০ ইঞ্চি পুরু, যা প্রচণ্ড গরমেও ভেতরের পরিবেশকে শীতল রাখে। মসজিদের চার কোণে চারটি কারুকার্যময় পিলার রয়েছে, যার উপরিভাগ কলস আকৃতির নকশায় অলংকৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এই নান্দনিক স্থাপনাটি নির্মাণের জন্য তৎকালীন সময়ে ফ্রান্স থেকে কারিগর আনা হয়েছিল।

মসজিদটির চারপাশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। সামনে ও পেছনে রয়েছে দুটি বড় পুকুর। সামনের পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে যখন মসজিদের ছায়া পড়ে, তখন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মসজিদের পাশেই রয়েছে ‘বিবিঘর’ নামে একটি পুরনো মানতের ঘর। যদিও আগের মতো মানত বা শিন্নি বিতরণের প্রথা এখন আর নেই, তবে ঘরটি এখনো টিকে আছে ইতিহাসের অংশ হিসেবে।

মসজিদটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বনির্ভরতা। প্রতিষ্ঠাতা হায়াত খান মৃত্যুর আগে মসজিদের নামে সাত একর জমি দান করে গিয়েছিলেন। সেই জমির আয় থেকেই বর্তমানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো হয়। ফলে পরিচালনার জন্য বাইরের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম খান বলেন, ‘এটি শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, আমাদের এলাকার গৌরবের প্রতীক। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে আসেন। দেয়াল অত্যন্ত পুরু হওয়ায় এখানে নামাজ পড়তে অন্যরকম প্রশান্তি পাওয়া যায়।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত