বগুড়ায় চোর অপবাদে মারধরে যুবক নিহত, স্বজনদের বিক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

বগুড়ায় চোর অপবাদে রাতভর মারধরে নিহত যুবক শামিম হোসেন। স্ট্রিম গ্রাফিকস
বগুড়ায় চোর অপবাদে রাতভর মারধরে নিহত যুবক শামিম হোসেন। স্ট্রিম গ্রাফিকস

বগুড়া ভায়রার জানাজায় অংশ নিতে আসা শামিম হোসেন নামে এক যুবককে চোর অপবাদে রাতভর মারধরে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ভোরের দিকে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনসহ স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সর্বশেষ সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানার মামলার প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে।

নিহত শামিম হোসেন (৩৫) সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) ভায়রার দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি উপজেলার নুনগোলা গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে শামিমের এক ভায়রা মারা যান। বিকেলে তাঁর দাফনে অংশ নেওয়ার পর রাতে শামিম শ্বশুর বাড়িতেই থাকবেন বলে ঠিক হয়। তবে রাতে বাড়ির অদূরে নুনগোলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় চোর সন্দেহে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে আটকে মারধর করে। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায় তারা।

নিহতের আরেক ভায়রা মো. শামীম বলেন করেন, শামিমকেও নির্যাতনের একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেয় আক্রমণকারীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ইউপি কার্যালয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে গ্রাম-পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এতে ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর এক মেয়ের জামাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে গতকাল শামিম এসেছিলেন। রাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে নুনগোলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন তিনি। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে আটকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করে।

নিহতের স্ত্রী রুমানা বলেন, ‘আমার দুটো সন্তানের এখন কী হবে। পরিবারের একমাত্র আয়-উপার্জনের মানুষ তিনি। তাকে ওরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমি বিচার চাই।’

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এ বি এম শাফিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি বাড়িতেই আছেন। গতকাল রাত তিনটার দিকে দুজন ফোনে তাঁকে জানান, এলাকায় চোর ধরা হয়েছে। তিনি মারপিট না করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ, তাই নিজে যেতে পারিনি। আমি বারবার মারপিট করতে নিষেধ করেছি। একটি মহল আমাকে জড়িত করার অপচেষ্টা করছে।’ তিনি ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত