মোহাম্মদ রোমেল

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট থেকে শুরু করে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ ও নোবেলের কনসার্ট বাতিল হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের নানা প্রান্তে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধাদানের খবর পত্রিকায় আসছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে এসব আয়োজনে কোনো বাধা নেই, অথচ মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করে দিচ্ছে। এই দৃশ্যপট আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে: বাধাটা আসলে কোথায়? এই সংকটের শেকড় কোথায়?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সমাজে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করার কথা ছিল, যেখানে সকল মত-পথের মানুষের যার যার বিশ্বাস চর্চার পরিসর থাকার কথা কিন্তু বাস্তবে আমরা তার বড় ঘাটতি দেখছি। এই যে নানা ধরনের বাধার খবর আমরা দেখছি, এটি নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের যে দৃঢ় ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তার অভাব স্পষ্ট। প্রশাসনের কাজ হলো সরকারের নীতিকে বাস্তবায়ন করা, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা বা দৃঢ়তার অভাবেই প্রশাসন আজ নানা জায়গায় একটি উগ্র গোষ্ঠীর কাছে নতজানু ভূমিকা পালন করছে।
গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা একটি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির দাপট দেখেছি। আর এখন দেখছি, ধর্মের দোহাই দিয়ে আরেকটি গোষ্ঠী উগ্রতা প্রকাশ করছে, ভিন্নমতের ওপর বাধা দিচ্ছে। মাজারে হামলা করছে। এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষের আনন্দ-ফুর্তির উৎসব নৌকা বাইচ—যার সঙ্গে এদেশের কৃষিজীবী, মৎস্যজীবী মানুষের জীবিকা ও নদীমাতৃক জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে—সেখানেও যখন বাধা আসে, তখন বুঝতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক পরিসর ভয়াবহভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর যে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখার কথা, প্রজ্ঞা ও কৌশল দেখানোর কথা ছিল, সেখানেও তারা চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ‘তৌহিদি জনতা’ বা স্থানীয় ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর নাম। কিন্তু এই শব্দবন্ধটির ব্যবহার বেশ রহস্যজনক। আমরা যদি সম্প্রতিকালের কুষ্টিয়ায় তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে পীর শামীমকে হত্যার ঘটনাটি বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব সেখানে স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীরাও যুক্ত ছিল। তারা কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে প্রস্তুতি নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যেখানে প্রশাসনও সব কিছু জানত। হামলার সময় কাছেই পুলিশ ছিল।
অর্থাৎ, ‘তৌহিদি জনতা’ নাম দিয়ে সাধারণ মানুষকে আবেগকে কাছে লাগিয়ে সংগঠিত করা হলেও এর পেছনে মূলত থাকে অর্থনৈতিক স্বার্থ, জমি দখল, মাজার দখলের পাঁয়তারা, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকায় নিজ গ্রুপে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয়ে না এসে এরা ধর্মীয় মোড়কে আবির্ভূত হয়। তবে এর মানে এই নয় যে সমাজে উগ্র ধর্মীয় মতবাদের উত্থান নেই। অবশ্যই আছে, কিন্তু এই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী মূলত তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্টে মাদ্রাসার ছাত্রদের হামলার ঘটনাটিকে আমরা যদি একটু তলিয়ে দেখি, তবে সমস্যার আরেকটি দিক উন্মোচিত হয়। মূলধারার গণমাধ্যম বলছে মাদ্রাসার ছাত্ররা পুলিশ লাইনে হামলা করে কনসার্ট বন্ধ করেছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার ছাত্রদের দাবি ছিল, নামাজের সময় এবং রাত ১২টার পর তাদের ঘুমানোর সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল। ফলে তাদের পরের দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সমস্যা হতো।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি বড় শর্ত হলো—আমার স্বাধীনতা যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়। অন্য নাগরিকের অসুবিধা করে যখন কোনো আয়োজন করা হয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের সমাজে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাব রয়েছে। সংঘাতের গোড়ায় গেলে দেখা যায়, উগ্রবাদী গোষ্ঠী হোক আর তথাকথিত ‘কালচার্ড’ গোষ্ঠীই হোক—উভয় পক্ষের মধ্যেই সামাজিক সংহতি বজায় রেখে বা অপরের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রাখার মানসিকতার ব্যাপক অভাব।
গান শুধু না অনেক জায়গায় বিশেষ করে শীত কালে উচ্চস্বরে মাইক লাগিয়ে ওয়াজও চলে। অপরের প্রতি দরদী না হয়ে আমরা এখনো সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার মধ্যে আটকে আছি; যেখানে যুক্তি-বিচার বোধ বা বিবেকের চেয়ে আমরা গায়ের জোরের বেশি দেখাই।
উগ্রতার বিরুদ্ধে একসময় রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরাই কথা বলতেন। প্রতিরোধ গড়তেন। কিন্তু আজ তারা কেন ব্যর্থ? কারণ, তারা ধর্মকে ঠিক সেভাবেই দেখেন, যেভাবে একজন অন্ধ মোল্লা দেখেন। আমি একে বলি ‘প্রগতিশীল মোল্লাতন্ত্র’। মোল্লারা যেমন ধর্মের কিছু আচার-অনুষ্ঠানকে খণ্ডিতভাবে হাজির করে একেই ছহিহ ধর্ম বলে অন্যদের মেনে চলতে হবে বলে জোর করে, তেমনি আমাদের প্রগতিশীলরাও মনে করেন মোল্লারা যা বলছে সেটাই বোধহয় প্রকৃত ইসলাম। তাই তারা ইসলামের নাম শুনলেই জুজুর ভয় পায় এবং নিজেদের অজ্ঞতা, জানা শুনার অভাব থেকে পাল্টা যুক্তি-তর্ক-ইতিহাস দিয়ে কথা না বলে অন্ধ বিরোধিতা শুরু করেন।
অথচ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চর্চায় মুসলমানদের একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। আব্বাসী আমলে, সেখানে যুক্তির চর্চা, বিজ্ঞানের চর্চা, দর্শনের চর্চা, ব্যাকরণ চর্চা, গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের অনুবাদসহ নানান প্রজ্ঞার চর্চা হয়েছে। ভারত বর্ষে মোগল শাসনে দেখা যায় তখনকার পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য, তখন সেখানে শিল্প, সাহিত্য, রাগ সংগীত (যেমন আমির খসরুর কাওয়ালি), চিত্রকলা, স্থাপত্য শিল্পের যে অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, ইসলাম তো সেখানে বাধা হয়নি। ইসলামের ঐতিহ্যে কালাম শাস্ত্র, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও প্রজ্ঞার যে গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, আমাদের দেশের তথাকথিত ইসলামি অথরিটি বা মোল্লারা তা চর্চা দূরে থাক ভাল করে জানেও না। এর প্রয়োজনীয়তাও বোঝেও না। তারা ধর্মকে কেবল কিছু রিচুয়ালের মধ্যে আটকে ফেলতে চায়। তারা বাংলাদেশের মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় পৃথিবীতে অবদান রাখতে পারে, সেইটা ভাবতে পারে না। দেশের একটা মাদ্রাসা পৃথিবীর জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হতে পারে, এমন করে ভাবতে পারে না বা ক্ষুদ্র স্বার্থে কেউ কেউ তাদের ভাবতে দিতে চায় না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক শিক্ষিত সমাজও এই মুসলমান বা ইসলামের ইতিহাস জানে না। তারা ইউরোপের বাস্তবতায় চার্চের বিরুদ্ধে যে সংঘাতের ইতিহাস, তা মুখস্থ করে এদেশের মসজিদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। অথচ এদেশের মসজিদ বা মন্দির কখনো ইউরোপের চার্চের মতো নিপীড়ক ছিল না। ফলে আমাদের বাস্তবতায় লড়াই এবং লড়াইয়ে ভাষা-কৌশল ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের দখল হওয়া কলোনিয়াল মস্তিষ্ক সেইটা এখনো ভাবতে পারে না। ফলে সমস্যাটা দুইদিক থেকেই।
আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষিত ‘কালচার্ড’দের কোনো সংযোগ নেই। অথচ এই প্রান্তিক সাধারণ মানুষেরা যুগ যুগ ধরে উগ্রতা, সংহিসতার বিরুদ্ধে সমাজে বহু পক্ষের সহ অবস্থান, সংলাপ ও প্রজ্ঞার লড়াই চালিয়ে গেছেন প্রেম-মহব্বত এবং বিনয় দিয়ে। যেখানে লালন ফকির, সুফি নানান ধারা ইসলামের একটা দার্শনিক প্রস্তাবনার জায়গা থেকে তারা জীবন যাপন করে। এছাড়াও আমাদের নানান অঞ্চলে রশিদ সরকার, রশিদ উদ্দীন, রাধারমণ দত্ত, জালাল উদ্দীন খা, হাসন রাজার মত ভাবুকরা ছিলেন। বয়াতি ও পীর-ফকিররা এখনো ব্যাপক ভাবে হাজির আছেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ (জগতের সকল প্রাণীর জন্য রহমত) গুণকে তাদের গানে, কবিতায়, আলাপে তুলে ধরেছেন।
আমাদের দয়াল নবী (সা:) মূলত তখনকার গোত্রবাদী মক্কার এলিটদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। নবীর সঙ্গে তখন সেই সমাজের সকল প্রান্তিক মানুষজন যুক্ত হয়েছিলেন। ফলে মহানবীর যে ইনসাফের লড়াই, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গ বেলালকে মুয়াজ্জিন করার যে ইনসাফের ইতিহাস—সেটি এই লোকায়ত সাধকরা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এইটা ইসলামের এক গভীর পাঠ। যেকারণে ভারতেও মুসলমান ওলি বা সুফিরা যখন আসেন, তখন প্রচুর নিম্ন বর্ণের মানুষ আকৃষ্ট হয়।
এর বাইরে এখন উগ্রবাদিদের যে ইসলাম সেখানে ইসলামের সকলকে ধারণ করার যে প্রজ্ঞা তা নাই। উগ্রতার বাইরে জ্ঞান এবং নিজের বিবেক-বিনয় বা সাধুত্ব দিয়ে ভিন্ন মতকে মোকাবিলা বা জয় করার কোন বোধ নাই। ফলে ধর্মের দোহাই দিয়ে বা তৌহিদী জনতার কথা বলে মাজার ও বাউলদের ওপর হামলা চালানোর মত ফৌজদারি অপরাধে তারা যুক্ত হয়ে পড়ছে। এইটা কাজে লাগাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং তাদের দালালরা। ফলে আলেম সমাজের বিবেকবান অংশের এখনই সাবধান হওয়া উচিত। এর রাজনৈতিক পরিণতি বুঝা উচিত।
আর আমাদের আধুনিক শিক্ষিত সমাজও আমাদের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের যে প্রজ্ঞার লড়াই যাকে তারা লোকায়ত ভাব বলে, সেই ভাষা ও ভাবের সঙ্গে গভীর পরিচয় দরকার। দরকার ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীর পরিচয়ের। নাইলে সমাজে পরস্পর সামাজিক ডায়ালগের কমন ভাষা আমরা গড়ে তুলতে পারব না।
সাংস্কৃতিক চর্চার সুস্থ পরিবেশ ফেরাতে হলে বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা শিল্পকলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজে প্রজ্ঞাবান ও সাংস্কৃতিক চিন্তার মানুষদের যুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোকে (বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য বৃহৎ দল) গত ১৫-২০ বছরে দেশের মানুষের চিন্তা ও মনস্তত্ত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তা অনুধাবন করতে হবে। নলেজ গ্যাপ বা জ্ঞানগত শূন্যতা দূর করে তাদের একটি সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক পলিসি জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।
তৃতীয়ত, আমাদের প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিকর্মীদের ‘সেলফ-ক্রিটিক্যাল’ বা আত্ম-সমালোচক করতে হবে। ইউরোপীয় তথাকথিত প্রগতিশীল কলোনিয়াল বাইনারি চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে এদেশের মানুষের ভাষা, ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু নতুন করে শেখার আছে।
সর্বোপরি, সবকিছু কেবল রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। সমাজের ভেতর থেকে একটি অর্গানিক বা স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজে যখন চিন্তার উন্মেষ ঘটে এবং সেই চিন্তা থেকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুভমেন্ট তৈরি হয়, তখনই রাষ্ট্রের ওপর চাপ পড়ে এবং প্রশাসন বাধ্য হয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে। সমাজ যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে রাষ্ট্র কখনোই একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমাদের এই সামন্তীয় মানসিকতার সমাজকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজে রূপান্তর করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট থেকে শুরু করে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ ও নোবেলের কনসার্ট বাতিল হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের নানা প্রান্তে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধাদানের খবর পত্রিকায় আসছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে এসব আয়োজনে কোনো বাধা নেই, অথচ মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করে দিচ্ছে। এই দৃশ্যপট আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে: বাধাটা আসলে কোথায়? এই সংকটের শেকড় কোথায়?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সমাজে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করার কথা ছিল, যেখানে সকল মত-পথের মানুষের যার যার বিশ্বাস চর্চার পরিসর থাকার কথা কিন্তু বাস্তবে আমরা তার বড় ঘাটতি দেখছি। এই যে নানা ধরনের বাধার খবর আমরা দেখছি, এটি নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের যে দৃঢ় ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তার অভাব স্পষ্ট। প্রশাসনের কাজ হলো সরকারের নীতিকে বাস্তবায়ন করা, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা বা দৃঢ়তার অভাবেই প্রশাসন আজ নানা জায়গায় একটি উগ্র গোষ্ঠীর কাছে নতজানু ভূমিকা পালন করছে।
গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা একটি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির দাপট দেখেছি। আর এখন দেখছি, ধর্মের দোহাই দিয়ে আরেকটি গোষ্ঠী উগ্রতা প্রকাশ করছে, ভিন্নমতের ওপর বাধা দিচ্ছে। মাজারে হামলা করছে। এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষের আনন্দ-ফুর্তির উৎসব নৌকা বাইচ—যার সঙ্গে এদেশের কৃষিজীবী, মৎস্যজীবী মানুষের জীবিকা ও নদীমাতৃক জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে—সেখানেও যখন বাধা আসে, তখন বুঝতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক পরিসর ভয়াবহভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর যে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখার কথা, প্রজ্ঞা ও কৌশল দেখানোর কথা ছিল, সেখানেও তারা চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ‘তৌহিদি জনতা’ বা স্থানীয় ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর নাম। কিন্তু এই শব্দবন্ধটির ব্যবহার বেশ রহস্যজনক। আমরা যদি সম্প্রতিকালের কুষ্টিয়ায় তথাকথিত ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে পীর শামীমকে হত্যার ঘটনাটি বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব সেখানে স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীরাও যুক্ত ছিল। তারা কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে প্রস্তুতি নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যেখানে প্রশাসনও সব কিছু জানত। হামলার সময় কাছেই পুলিশ ছিল।
অর্থাৎ, ‘তৌহিদি জনতা’ নাম দিয়ে সাধারণ মানুষকে আবেগকে কাছে লাগিয়ে সংগঠিত করা হলেও এর পেছনে মূলত থাকে অর্থনৈতিক স্বার্থ, জমি দখল, মাজার দখলের পাঁয়তারা, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকায় নিজ গ্রুপে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয়ে না এসে এরা ধর্মীয় মোড়কে আবির্ভূত হয়। তবে এর মানে এই নয় যে সমাজে উগ্র ধর্মীয় মতবাদের উত্থান নেই। অবশ্যই আছে, কিন্তু এই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন গোষ্ঠী মূলত তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্টে মাদ্রাসার ছাত্রদের হামলার ঘটনাটিকে আমরা যদি একটু তলিয়ে দেখি, তবে সমস্যার আরেকটি দিক উন্মোচিত হয়। মূলধারার গণমাধ্যম বলছে মাদ্রাসার ছাত্ররা পুলিশ লাইনে হামলা করে কনসার্ট বন্ধ করেছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার ছাত্রদের দাবি ছিল, নামাজের সময় এবং রাত ১২টার পর তাদের ঘুমানোর সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল। ফলে তাদের পরের দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সমস্যা হতো।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি বড় শর্ত হলো—আমার স্বাধীনতা যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়। অন্য নাগরিকের অসুবিধা করে যখন কোনো আয়োজন করা হয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের সমাজে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাব রয়েছে। সংঘাতের গোড়ায় গেলে দেখা যায়, উগ্রবাদী গোষ্ঠী হোক আর তথাকথিত ‘কালচার্ড’ গোষ্ঠীই হোক—উভয় পক্ষের মধ্যেই সামাজিক সংহতি বজায় রেখে বা অপরের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রাখার মানসিকতার ব্যাপক অভাব।
গান শুধু না অনেক জায়গায় বিশেষ করে শীত কালে উচ্চস্বরে মাইক লাগিয়ে ওয়াজও চলে। অপরের প্রতি দরদী না হয়ে আমরা এখনো সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার মধ্যে আটকে আছি; যেখানে যুক্তি-বিচার বোধ বা বিবেকের চেয়ে আমরা গায়ের জোরের বেশি দেখাই।
উগ্রতার বিরুদ্ধে একসময় রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরাই কথা বলতেন। প্রতিরোধ গড়তেন। কিন্তু আজ তারা কেন ব্যর্থ? কারণ, তারা ধর্মকে ঠিক সেভাবেই দেখেন, যেভাবে একজন অন্ধ মোল্লা দেখেন। আমি একে বলি ‘প্রগতিশীল মোল্লাতন্ত্র’। মোল্লারা যেমন ধর্মের কিছু আচার-অনুষ্ঠানকে খণ্ডিতভাবে হাজির করে একেই ছহিহ ধর্ম বলে অন্যদের মেনে চলতে হবে বলে জোর করে, তেমনি আমাদের প্রগতিশীলরাও মনে করেন মোল্লারা যা বলছে সেটাই বোধহয় প্রকৃত ইসলাম। তাই তারা ইসলামের নাম শুনলেই জুজুর ভয় পায় এবং নিজেদের অজ্ঞতা, জানা শুনার অভাব থেকে পাল্টা যুক্তি-তর্ক-ইতিহাস দিয়ে কথা না বলে অন্ধ বিরোধিতা শুরু করেন।
অথচ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চর্চায় মুসলমানদের একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। আব্বাসী আমলে, সেখানে যুক্তির চর্চা, বিজ্ঞানের চর্চা, দর্শনের চর্চা, ব্যাকরণ চর্চা, গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের অনুবাদসহ নানান প্রজ্ঞার চর্চা হয়েছে। ভারত বর্ষে মোগল শাসনে দেখা যায় তখনকার পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য, তখন সেখানে শিল্প, সাহিত্য, রাগ সংগীত (যেমন আমির খসরুর কাওয়ালি), চিত্রকলা, স্থাপত্য শিল্পের যে অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, ইসলাম তো সেখানে বাধা হয়নি। ইসলামের ঐতিহ্যে কালাম শাস্ত্র, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও প্রজ্ঞার যে গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, আমাদের দেশের তথাকথিত ইসলামি অথরিটি বা মোল্লারা তা চর্চা দূরে থাক ভাল করে জানেও না। এর প্রয়োজনীয়তাও বোঝেও না। তারা ধর্মকে কেবল কিছু রিচুয়ালের মধ্যে আটকে ফেলতে চায়। তারা বাংলাদেশের মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় পৃথিবীতে অবদান রাখতে পারে, সেইটা ভাবতে পারে না। দেশের একটা মাদ্রাসা পৃথিবীর জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হতে পারে, এমন করে ভাবতে পারে না বা ক্ষুদ্র স্বার্থে কেউ কেউ তাদের ভাবতে দিতে চায় না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক শিক্ষিত সমাজও এই মুসলমান বা ইসলামের ইতিহাস জানে না। তারা ইউরোপের বাস্তবতায় চার্চের বিরুদ্ধে যে সংঘাতের ইতিহাস, তা মুখস্থ করে এদেশের মসজিদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। অথচ এদেশের মসজিদ বা মন্দির কখনো ইউরোপের চার্চের মতো নিপীড়ক ছিল না। ফলে আমাদের বাস্তবতায় লড়াই এবং লড়াইয়ে ভাষা-কৌশল ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের দখল হওয়া কলোনিয়াল মস্তিষ্ক সেইটা এখনো ভাবতে পারে না। ফলে সমস্যাটা দুইদিক থেকেই।
আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষিত ‘কালচার্ড’দের কোনো সংযোগ নেই। অথচ এই প্রান্তিক সাধারণ মানুষেরা যুগ যুগ ধরে উগ্রতা, সংহিসতার বিরুদ্ধে সমাজে বহু পক্ষের সহ অবস্থান, সংলাপ ও প্রজ্ঞার লড়াই চালিয়ে গেছেন প্রেম-মহব্বত এবং বিনয় দিয়ে। যেখানে লালন ফকির, সুফি নানান ধারা ইসলামের একটা দার্শনিক প্রস্তাবনার জায়গা থেকে তারা জীবন যাপন করে। এছাড়াও আমাদের নানান অঞ্চলে রশিদ সরকার, রশিদ উদ্দীন, রাধারমণ দত্ত, জালাল উদ্দীন খা, হাসন রাজার মত ভাবুকরা ছিলেন। বয়াতি ও পীর-ফকিররা এখনো ব্যাপক ভাবে হাজির আছেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ (জগতের সকল প্রাণীর জন্য রহমত) গুণকে তাদের গানে, কবিতায়, আলাপে তুলে ধরেছেন।
আমাদের দয়াল নবী (সা:) মূলত তখনকার গোত্রবাদী মক্কার এলিটদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। নবীর সঙ্গে তখন সেই সমাজের সকল প্রান্তিক মানুষজন যুক্ত হয়েছিলেন। ফলে মহানবীর যে ইনসাফের লড়াই, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গ বেলালকে মুয়াজ্জিন করার যে ইনসাফের ইতিহাস—সেটি এই লোকায়ত সাধকরা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এইটা ইসলামের এক গভীর পাঠ। যেকারণে ভারতেও মুসলমান ওলি বা সুফিরা যখন আসেন, তখন প্রচুর নিম্ন বর্ণের মানুষ আকৃষ্ট হয়।
এর বাইরে এখন উগ্রবাদিদের যে ইসলাম সেখানে ইসলামের সকলকে ধারণ করার যে প্রজ্ঞা তা নাই। উগ্রতার বাইরে জ্ঞান এবং নিজের বিবেক-বিনয় বা সাধুত্ব দিয়ে ভিন্ন মতকে মোকাবিলা বা জয় করার কোন বোধ নাই। ফলে ধর্মের দোহাই দিয়ে বা তৌহিদী জনতার কথা বলে মাজার ও বাউলদের ওপর হামলা চালানোর মত ফৌজদারি অপরাধে তারা যুক্ত হয়ে পড়ছে। এইটা কাজে লাগাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং তাদের দালালরা। ফলে আলেম সমাজের বিবেকবান অংশের এখনই সাবধান হওয়া উচিত। এর রাজনৈতিক পরিণতি বুঝা উচিত।
আর আমাদের আধুনিক শিক্ষিত সমাজও আমাদের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের যে প্রজ্ঞার লড়াই যাকে তারা লোকায়ত ভাব বলে, সেই ভাষা ও ভাবের সঙ্গে গভীর পরিচয় দরকার। দরকার ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীর পরিচয়ের। নাইলে সমাজে পরস্পর সামাজিক ডায়ালগের কমন ভাষা আমরা গড়ে তুলতে পারব না।
সাংস্কৃতিক চর্চার সুস্থ পরিবেশ ফেরাতে হলে বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা শিল্পকলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে সমাজে প্রজ্ঞাবান ও সাংস্কৃতিক চিন্তার মানুষদের যুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোকে (বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য বৃহৎ দল) গত ১৫-২০ বছরে দেশের মানুষের চিন্তা ও মনস্তত্ত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তা অনুধাবন করতে হবে। নলেজ গ্যাপ বা জ্ঞানগত শূন্যতা দূর করে তাদের একটি সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক পলিসি জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।
তৃতীয়ত, আমাদের প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিকর্মীদের ‘সেলফ-ক্রিটিক্যাল’ বা আত্ম-সমালোচক করতে হবে। ইউরোপীয় তথাকথিত প্রগতিশীল কলোনিয়াল বাইনারি চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে এদেশের মানুষের ভাষা, ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু নতুন করে শেখার আছে।
সর্বোপরি, সবকিছু কেবল রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। সমাজের ভেতর থেকে একটি অর্গানিক বা স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজে যখন চিন্তার উন্মেষ ঘটে এবং সেই চিন্তা থেকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুভমেন্ট তৈরি হয়, তখনই রাষ্ট্রের ওপর চাপ পড়ে এবং প্রশাসন বাধ্য হয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে। সমাজ যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে রাষ্ট্র কখনোই একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমেই আমাদের এই সামন্তীয় মানসিকতার সমাজকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজে রূপান্তর করতে হবে।
.png)

বগুড়া থেকে চোখের চিকিৎসা করাতে রাজধানীতে এসেছিলেন স্কুলশিক্ষক রনজিনা পারভিন। ভোরবেলা রিকশায় করে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দিলে রাস্তায় পড়ে মারা যান তিনি। ঘটনাটি ঘটে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায়। এর আগে একই ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাণ গেছে সোহেলি ইসলাম ও মুক্তা আক্তার নামের দুই নারীর।
২ ঘণ্টা আগে-2d6530-720x405-cf1efb.webp)
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি কিংবা অনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা নতুন কোনো বিষয় না হলেও এই ধরনের অনৈতিক চর্চা একাডেমিক পরিসরে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আমরা সেই অনৈতিক চর্চা বারবার দেখতে পাই? বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে এবং বুঝতে হলে বাংলাদেশের একাডেমিক পরিসরে আমরা যে
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে এমন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খুব কমই এসেছে যার উত্তর শুধু চুক্তিতে সই করা বা না করার হিসেবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্নটি হলো- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ বাংলাদেশ কি যোগ দেবে?
৮ ঘণ্টা আগে
ঘটনাটি পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে বলে ভিডিওতে প্রতীয়মান হয়। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও কীভাবে কয়েকজন ব্যক্তি একজন নারীকে প্রকাশ্যে আঘাত করার সুযোগ পেলেন?
৯ ঘণ্টা আগে