leadT1ad

চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে: জামায়াত আমির

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনসভায় জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সবখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার জন্য যে বিচার সবার জন্য একই বিচার নিশ্চিত করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে, এই বাংলাদেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে সর্বত্র গণজোয়ার তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জও তার গর্বিত অংশীদার। বিগত ৫৪ বছর এ দেশের মানুষ শাসন আর অপশাসন দেখে ক্লান্ত। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনীতির বন্দবস্ত আর দেখতে চায় না।’

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা তোমাদের হাতে অপমানের বেকার ভাতা তুলে দিব না। বরং প্রতিটি হাত দক্ষ করে গড়ে তুলব। মর্যাদাপূর্ণ কাজ তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমরাই দেশ গড়বে, তৈরি হয়ে যাও। তোমাদর হাতে দেশের ভার তুলে দিতে চাই। বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে যুবকরা, আমরা বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। এ দেশ তারা রকেট গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের জনসভা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের জনসভা

এর আগে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির। সেখানে আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীদের মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ-মামলাবাজ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির বাঁক পরিবর্তন এবং জাতিকে সঠিক পথে ওঠানোর নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে চব্বিশ এনে দিয়েছিল আমাদের, তাদের অনেকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচার চাই। এই বাংলাদেশ হবে নতুন বাংলাদেশ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘অনেকে বলে দেশ সিঙ্গাপুর হবে, কানাডা হবে। আমরা বলি না, এটা উত্তম বাংলাদেশ হবে। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ বলবেআলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন বাংলাদেশি। আরও সহজভাবে বলবে আমিই বাংলাদেশ।’

সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে, সমাজ তাদের মর্যাদা দেবে সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি। আমরা সেই শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেই শিক্ষাব্যবস্থা লড়াকু একজন সৈনিক তৈরি করবে যে দেশটাকে গড়ে দেবে। আমাদের যুবকেরা কারও কাছে বেকার ভাতা চায় না। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মস্থলে যে সমস্ত মায়েরা বোনেরা কাজ করেন তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায়। শিল্প এবং ঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। রাষ্ট্রকে তারা দিয়েই যাবে, আর তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না এটা হতে পারে না। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দিতে হবে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত