মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২: ০৪
হাইকোর্ট ভবন। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালী পাহাড় মৌজার সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বনের ভেতর দিয়ে এই সড়ক নির্মাণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ইতিমধ্যে নির্মিত অংশ কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহিমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এলজিইডি ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এসসিআরডিপি)’ অধীনে ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই প্রস্তাবিত সড়কের ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটারই পড়েছে মহেশখালী পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর আয়তনের সংরক্ষিত বনের ভেতর। ১৯৫৭ সালে এই ভূমিকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া যেকোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

বেলার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই সংরক্ষিত বনের অসংখ্য গাছপালা ও পাহাড় কেটে এই রাস্তা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল এলজিইডি। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এলজিইডি আইনি বিধান লঙ্ঘন করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল, যা সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ এবং প্রচলিত বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে, পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, ভূমি সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক এবং কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত এই বনভূমিটি আরএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী বন বিভাগের নামে খতিয়ানভুক্ত এবং এটি অত্যন্ত জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ একটি এলাকা। পরিবেশবাদীরা দীর্ঘ দিন ধরে এই বনে উন্নয়নের নামে রাস্তা তৈরির বিরোধিতা করে আসছিলেন। আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত