দূষণের শীর্ষস্থান থেকে দ্বিতীয়তে বাংলাদেশ, পরিবেশগত অবক্ষয়, উন্নয়ন ও নীতি সংস্কার

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৪৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

টানা চার বছর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ থাকার পর ২০২৩ সালেও ৭৭ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম ঘনমাত্রা নিয়ে দূষণের শীর্ষেই ছিল বাংলাদেশ। তবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদল, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও কঠোর নীতি প্রয়োগের পর সেই দূষণমাত্রা কমে ৬৬ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে। ফলে বৈশ্বিক দূষিত দেশের তালিকায় এক ধাপ উন্নতি হয়ে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে।

শুধু বায়ুমানই নয়, ধ্বংসপ্রায় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা অপরিকল্পিত ও বিধ্বংসী উন্নয়নের পর পরিবেশ রক্ষার এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো কি সত্যিই আমাদের প্রকৃতিকে বাঁচাতে পারবে?

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে থাকা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। একটি বিশাল ব-দ্বীপ হিসেবে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং প্রবৃদ্ধি-নির্ভর অর্থনৈতিক নীতি পরিবেশ সুরক্ষাকে রাষ্ট্রের জন্য এক অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে। গত দেড় দশকে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে) বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে একই সময়ে দ্রুত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের জলপ্রবাহ, বাতাস ও বনাঞ্চলের অবক্ষয় ঘটেছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক তহবিল তৈরি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় অগ্রগতি হলেও নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি বহুল আলোচিত। বাংলাদেশের পরিবেশগত গতিপথ মূলত বিগত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বায়ুর মান, বন ও জীববৈচিত্র্য, জলাশয় এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুণগত পরিবর্তন ও ব্যবস্থার রূপান্তরকে নির্দেশ করে। এটি কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা অবকাঠামোগত প্রসারের পাশাপাশি পরিবেশগত সুশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ, নীতিগত সংস্কার এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের কার্যকারিতা পরিমাপের একটি সমন্বিত সূচক।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়েল এনভাইরনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইন্ডেক্সে (ইপিআই ২০২৪) বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৫তম (স্কোর ২৮ দশমিক ১) অবস্থানে তলানিতে নেমে যায়।

ছাত্র আন্দোলনের পূর্ববর্তী এক দশকে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও মেগা-অবকাঠামো অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হলেও পরিবেশগত সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি দৃশ্যমান ছিল। দেশের শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি পাওয়ার হাব ও কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইনের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে উপকূলীয় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংকুচিত হয়।

গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ ও এফএওর উপাত্ত অনুযায়ী, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও মেগা-প্রকল্পের প্রভাবে দেশের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বৃক্ষ আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এ ছাড়া ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে সারা দেশে হাজার হাজার অবৈধ ইটভাটা গড়ে ওঠে, যা কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি ধ্বংসের পাশাপাশি বায়ুদূষণকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। বায়ুর মানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সবচেয়ে আশঙ্কাজনক; আইকিউএয়ারের বিশ্ব বায়ুমান রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টানা চার বছর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করে এবং ২০২৩ সালেও ৭৭ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার গড় নিয়ে পিএম২.৫ ঘনমাত্রা নিয়ে শীর্ষ স্থানেই বহাল থাকে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়েল এনভাইরনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইন্ডেক্সে (ইপিআই ২০২৪) বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৫তম (স্কোর ২৮ দশমিক ১) অবস্থানে তলানিতে নেমে যায়। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলার কারণে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর পানির বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) দ্রবীভূত অক্সিজেনের নিরাপদ সীমার নিচে নেমে যায়, যা জলজ বাস্তুতন্ত্রকে চরম হুমকির মুখে ফেলে (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এনভাইরনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট)।

পাবলিক সেক্টর কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনিক তৎপরতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিবেশগত অবক্ষয় রোধে মনোযোগ দেয়। নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (এমওইএফসিসি) কর্তৃক ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কাঁচাবাজার ও সুপারশপগুলোতে সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারা দেশে বাজার তদারকি ও অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ হ্রাসের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবে ন্যাশনাল এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (২০২৪-২০৩০) অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নীতিগত কড়াকড়ির ফলে বায়ুর মানের সূচকে সাময়িক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়; আইকিউএয়ারের বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের গড় পিএম২.৫ ঘনমাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৭৮.০ মাইক্রোগ্রাম থেকে কমে প্রতি ঘনমিটারে ৬৬.১ মাইক্রোগ্রামে নেমে আসে, যার ফলে বৈশ্বিক দূষিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে। তবে অর্থনৈতিক বিকল্পের অভাব, শিল্প মালিকদের তদারকির ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কাঠামোর অপ্রতুলতার কারণে পলিথিন ও অন্যান্য প্লাস্টিক দূষণ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বৃক্ষরোপণের বিশাল প্রকল্প ঘোষণা ও দৃশ্যমান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে (এমওইএফসিসি, ২০২৬)।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী বর্তমান সরকার পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতাকে তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন নীতিমালার কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। কেবল আইনি কড়াকড়িতে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকার দেশের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বৃহৎ পরিসরে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের পরিকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বৃক্ষরোপণের বিশাল প্রকল্প ঘোষণা ও দৃশ্যমান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে (এমওইএফসিসি, ২০২৬)। এই উদ্যোগটি দেশের সংকুচিত সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইউএন কনভেনশন অন বায়োলোজিক্যাল ডাইভারসিটির (সিবিডি) আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ১৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি ২০২৩-২০৫০) বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা কমাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্পূরণ করতে এবং শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করেছে। ১৬ মার্চ ২০২৬ কাহারোলে সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যার প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলার ৫৩টি প্রধান খালের পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার কাজ চলমান রয়েছে। এই খাল পুনঃখনন ভূ-পৃষ্ঠীয় পানির প্রাপ্যতা বাড়িয়ে কৃষি সেচ সহজ করছে এবং শুষ্ক মৌসুমে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে হলে রাজনৈতিক স্থায়িত্বের পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবেশ আইনের নিরপেক্ষ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পালনে বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কনভেনশনে জমা দেওয়া থার্ড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনের (এনডিসি ৩.০) মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস, সার্কুলার ইকোনমি এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। তবে কয়েক দশকের সামগ্রিক পরিবেশগত অবক্ষয়ের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কারণে সাম্প্রতিক ইয়েল ইপিআই (২০২৬) রিপোর্টে বাংলাদেশ ১৭৫তম অবস্থান (স্কোর ২৩ দশমিক ৪৬) ধরে রেখেছে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম) তুলনায় এখনও বায়ুদূষণ বহুগুণ বেশি রয়ে গেছে। ফলে সরকারি মেগা-উদ্যোগগুলোর বাস্তব কার্যকারিতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সামগ্রিকভাবে বিগত তিন মেয়াদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি কেবল অবক্ষয় রোধের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সুনির্দিষ্ট মেগা-পরিকল্পনা ও প্রকৃতি-ভিত্তিক বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়কালে মেগা-অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রাধান্য পাওয়ায় পরিবেশ আইন প্রয়োগের শিথিলতায় বায়ু, পানি ও বনাঞ্চলের চরম ক্ষতি সাধিত হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনিক সংস্কার ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নীতিগত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সূচনা করে।

দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে হলে রাজনৈতিক স্থায়িত্বের পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবেশ আইনের নিরপেক্ষ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং চেয়ারম্যান, বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।
ই-মেইল: [email protected]

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত