স্ট্রিম সম্পাদকীয়
একটি এলএনজি টার্মিনাল অকেজো হয়ে পড়ার পর তা মেরামতে যে সময় লাগছে, সেটা যন্ত্রণাদায়ক। মাত্র দুটি টার্মিনালের একটি বিকল হয়ে পড়লে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, সেটা কারও অজানা নয়। এমনিতেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছিল না দীর্ঘদিন ধরে। টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি মেরামতে উদ্যোগী হতে অবশ্য দেরি করেনি। বিদেশ থেকে জনবল ও যন্ত্রাংশ আনতে সময় লেগেছে। সর্বশেষ খবর, আংশিক চালু করা গেছে টার্মিনালটি। তাতে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ও চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনজীবন থেকে নিয়ে শিল্পাঞ্চলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও মেরামত করে তা চালু করতে এতটা সময় সম্ভবত আর কখনো লাগেনি। এর কারণ হয়তো দুর্ঘটনার গভীরতা। আমাদের প্রত্যাশা, এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনাকারী দুটি প্রতিষ্ঠানই যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। একটা সময় পর্যন্ত আমরা এলএনজি আমদানি না করেই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটাতাম। সেই সরবরাহ কমে আসার প্রেক্ষাপটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এনে সেটাকে গ্যাসে রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। তখন এই জ্বালানির দামও ছিল কম। পরে ইউক্রেন যুদ্ধে এলএনজির দাম বাড়তে থাকলে সরকার সংকটে পড়ে। সেই পরিস্থিতি নতুন করে দেখা দিয়েছে ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায়। এর মধ্যে বাড়তি সংকট দেখা দিল একটি এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ায়। তাও ভালো, একই সময়ে অন্য টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল ছিল। দুর্যোগময় আবহাওয়াতেও অনেক সময় এলএনজি টার্মিনাল অচল হয়ে পড়তে দেখা যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, অন্তত একটি টার্মিনাল স্থলভাগে স্থাপন করা জরুরি ছিল। বর্তমান শাসনামলে অনুমতি পাওয়া তৃতীয় টার্মিনালটিও ভাসমান হবে বলে জানা গেল। এর সুবিধা-অসুবিধা যথেষ্ট বিচার করা হয়েছে বলেই আমরা ধরে নিতে চাইব। এই আশাও করব, যত দ্রুত সম্ভব তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোই এ ক্ষেত্রে ভালো সমাধান। সমস্যা হলো, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই কাজে অগ্রগতির বদলে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। সেটা অব্যাহত ছিল অন্তর্বর্তী শাসনামলের দেড় বছরেও। স্বাভাবিকের চাইতে বেশি সময় নিলেও তারা জ্বালানি খাত সংস্কারে নতুন কোনো উদ্যোগ নেননি বলেই প্রতীয়মান। উল্টো ‘বিশেষ আইন’ রদ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কিছু প্রকল্প তারা বাতিল করে দেন। এর মধ্যে নতুন দুটি এলএনজি টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ কীভাবে বাড়বে, সেটা চিন্তা করা হয়নি কেন বোধগম্য নয়। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে তারা জোর দিয়েছিলেন, এমনটিও পরিলক্ষিত হয়নি। তাতে যে নাজুক পরিস্থিতিতে আমরা ছিলাম, সেটা ধরেই শাসনভার হাতে নিতে হয় নির্বাচিত সরকারকে। অতঃপর দুর্ঘটনার কারণে একটি এলএনজি টার্মিনাল অকেজো হয়ে পড়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে গোটা অর্থনীতিই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত।
কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে আমরা যেন ভুলে না যাই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির নাজুকতা। গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও বাড়বে এবং তাতে স্বস্তি ফিরবে সংশ্লিষ্ট সব খাতে। এটা ধরে রাখার পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নয়নে গভীর মনোযোগ রাখতে হবে অটুট। বেসরকারি খাতকেও সুচিন্তিত বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সরকারের পাশে থাকতে হবে। এ খাতে বেশি অনিশ্চয়তা পুষে রেখে আমরা তো দৃঢ়তার সঙ্গে এগোতে পারব না।
একটি এলএনজি টার্মিনাল অকেজো হয়ে পড়ার পর তা মেরামতে যে সময় লাগছে, সেটা যন্ত্রণাদায়ক। মাত্র দুটি টার্মিনালের একটি বিকল হয়ে পড়লে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, সেটা কারও অজানা নয়। এমনিতেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছিল না দীর্ঘদিন ধরে। টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি মেরামতে উদ্যোগী হতে অবশ্য দেরি করেনি। বিদেশ থেকে জনবল ও যন্ত্রাংশ আনতে সময় লেগেছে। সর্বশেষ খবর, আংশিক চালু করা গেছে টার্মিনালটি। তাতে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ও চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনজীবন থেকে নিয়ে শিল্পাঞ্চলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও মেরামত করে তা চালু করতে এতটা সময় সম্ভবত আর কখনো লাগেনি। এর কারণ হয়তো দুর্ঘটনার গভীরতা। আমাদের প্রত্যাশা, এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনাকারী দুটি প্রতিষ্ঠানই যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। একটা সময় পর্যন্ত আমরা এলএনজি আমদানি না করেই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটাতাম। সেই সরবরাহ কমে আসার প্রেক্ষাপটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এনে সেটাকে গ্যাসে রূপান্তরের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা হয়। তখন এই জ্বালানির দামও ছিল কম। পরে ইউক্রেন যুদ্ধে এলএনজির দাম বাড়তে থাকলে সরকার সংকটে পড়ে। সেই পরিস্থিতি নতুন করে দেখা দিয়েছে ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায়। এর মধ্যে বাড়তি সংকট দেখা দিল একটি এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ায়। তাও ভালো, একই সময়ে অন্য টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল ছিল। দুর্যোগময় আবহাওয়াতেও অনেক সময় এলএনজি টার্মিনাল অচল হয়ে পড়তে দেখা যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, অন্তত একটি টার্মিনাল স্থলভাগে স্থাপন করা জরুরি ছিল। বর্তমান শাসনামলে অনুমতি পাওয়া তৃতীয় টার্মিনালটিও ভাসমান হবে বলে জানা গেল। এর সুবিধা-অসুবিধা যথেষ্ট বিচার করা হয়েছে বলেই আমরা ধরে নিতে চাইব। এই আশাও করব, যত দ্রুত সম্ভব তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোই এ ক্ষেত্রে ভালো সমাধান। সমস্যা হলো, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই কাজে অগ্রগতির বদলে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। সেটা অব্যাহত ছিল অন্তর্বর্তী শাসনামলের দেড় বছরেও। স্বাভাবিকের চাইতে বেশি সময় নিলেও তারা জ্বালানি খাত সংস্কারে নতুন কোনো উদ্যোগ নেননি বলেই প্রতীয়মান। উল্টো ‘বিশেষ আইন’ রদ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কিছু প্রকল্প তারা বাতিল করে দেন। এর মধ্যে নতুন দুটি এলএনজি টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ কীভাবে বাড়বে, সেটা চিন্তা করা হয়নি কেন বোধগম্য নয়। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে তারা জোর দিয়েছিলেন, এমনটিও পরিলক্ষিত হয়নি। তাতে যে নাজুক পরিস্থিতিতে আমরা ছিলাম, সেটা ধরেই শাসনভার হাতে নিতে হয় নির্বাচিত সরকারকে। অতঃপর দুর্ঘটনার কারণে একটি এলএনজি টার্মিনাল অকেজো হয়ে পড়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে গোটা অর্থনীতিই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত।
কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে আমরা যেন ভুলে না যাই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির নাজুকতা। গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও বাড়বে এবং তাতে স্বস্তি ফিরবে সংশ্লিষ্ট সব খাতে। এটা ধরে রাখার পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নয়নে গভীর মনোযোগ রাখতে হবে অটুট। বেসরকারি খাতকেও সুচিন্তিত বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সরকারের পাশে থাকতে হবে। এ খাতে বেশি অনিশ্চয়তা পুষে রেখে আমরা তো দৃঢ়তার সঙ্গে এগোতে পারব না।
.png)

টানা চার বছর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ থাকার পর ২০২৩ সালেও ৭৭ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম ঘনমাত্রা নিয়ে দূষণের শীর্ষেই ছিল বাংলাদেশ। তবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদল, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও কঠোর নীতি প্রয়োগের পর সেই দূষণমাত্রা কমে ৬৬ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের কূটনীতিতে কিছু বিবৃতি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। কারণ সেগুলো কেবল একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নীতির ঘোষণা। গত ৫ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিটি সেই ধরনের একটি দলিল। এটি দৈনন্দিন প্রেস রিলিজ নয়।
৭ ঘণ্টা আগে
মেট্রোরেল তার আধুনিক অবকাঠামো, সিসিটিভি নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক টিকিটিং ব্যবস্থার কারণে শুরুতে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ গণপরিবহন হিসেবে গণ্য হলেও, সাম্প্রতিক কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা এই নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অভূতপূর্ব ও জটিল সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের দ্বিমুখী অবস্থান এক প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে