হুইপ দুলুকে দেওয়া হলো স্বর্ণের ধানের শীষ, প্রধান শিক্ষক বললেন ‘সুবিধা পেতে’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

স্বর্ণের কোট পিন পরিয়ে দেওয়া হয় হুইপ দুলুকে

নাটোর নলডাঙ্গায় একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আগত জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে স্বর্ণের তৈরি কোট পিন উপহার দেওয়া হয়েছে। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের আকৃতির এই কোট পিনটি বানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য। শনিবার বিকেলে নলডাঙ্গার শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সোনার তৈরি কোট পিন উপহার দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন। তিনিই হুইপের পাঞ্জাবিতে কোট পিন পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপের ভাগনে শফিকুল ইসলাম বুলবুল।

শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলী জানিয়েছেন, বিদ্যালয় তহবিল থেকে ২৮ হাজার টাকা খরচ করে ধানের শীষ আকৃতির কোট পিনটি তৈরি করা হয়েছিল।

কেন স্বর্ণের কোট পিন উপহার দেওয়া হলো, জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আগামীতে বিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য একটা উপহার দিলাম, যাতে তাঁর মনে থাকে।’

স্বর্ণের কোট পিন উপহার দিলে ‘সমালোচনা হতে পারে’ আশঙ্কা করে আগেই আপত্তি করেছিলেন বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু অন্যান্য শিক্ষক এবং এলাকার কেউ কেউ এটা দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাই তিনি আর আপত্তি করেননি। ইউএনও মো. আল এমরান খাঁন তাদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তাই তাঁকে দিয়েই কোট পিনটি পরিয়ে দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন ইয়াসির আলী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও নলডাঙ্গার ইউএনও মো. আল এমরান খাঁন বলেন, ‘এটা দেওয়া ঠিক হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ এটা দিতে পারে না। আবার সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমিও এটা পরিয়ে দিতে পারি না। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ হুট করে আমাকে এনে দেয় পরিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন আর না করতে পারিনি। তবে আমার উচিত হয়নি।’

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের কোন তহবিল থেকে এই সোনার কোট পিন তৈরি করতে অর্থ খরচ করা হয়েছে এবং কেন তাকে পরিয়ে দিতে দেওয়া হলো তা জানতে তিনি প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববারের মধ্যে এ চিঠি ইস্যু করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সঙ্গে কথা বলতে রোববার দুপুরে কয়েকদফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যক্তিগত সহকারী শামসুল ইসলাম রনিকেও কয়েকদফা ফোন করা হয়। তবে তিনিও ধরেননি। তাই হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর মন্তব্যও জানা যায়নি।

সম্পর্কিত