মামলা করতে চায় না পীর শামীম জাহাঙ্গীরের পরিববার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৩০
দৌলতপুরের ফিলিপনগরে শনিবার পীর শামীমের দরবারে হামলা। স্ট্রিম ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা চালিয়ে মারধরে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় মামলা করতে চাইছে না তাঁর পরিবার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

মামলা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার সকালে নিহত পরী শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা কোনো মামলা করতে চাই না।’ মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেলে (পীর শামীমের) দাফন সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্যরা বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, পীর শামীমের পরিবার ছাড়া যে কেউ মামলা দায়ের করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় (পীর শামীম হত্যাকাণ্ড) এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘পরিবার না করলেও নিহত পীর শামীমের ভক্ত-অনুসারী, বা অন্য যে কেউ মামলা করতে পারেন। আর যদি কেউ মামলা না করে, তাহলে আজই (সোমবার) পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থাপনাটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গতকাল পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, গোটা শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিকেলে (আসরের নামাজের পর) উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় গ্রামের একটি ঈদগাহে জানাজা শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

সম্পর্কিত