তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অধীর অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯: ১৪
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরের জন্য ভারত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার এমন মন্তব্য করেন।

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘এই বৈঠককে আমি একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি। খুবই ভালো ও উষ্ণ পরিবেশে আমাদের কথা হয়েছে। এখানে দুই দেশের সব ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, এমনকি ক্রিকেট নিয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আর আমি এখান থেকে খুবই খুশি হয়ে যাচ্ছি এবং আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে মাননীয় মন্ত্রীরা আমাকে তাদের এতটা সময় দিয়েছেন। আপনারা জানেন, আমরা ভিসা চালু করেছি। তাই ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক স্বার্থে উভয় পক্ষই অত্যন্ত আনন্দিত। আর এই সম্পর্কটি ঐতিহাসিক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করি না, আমরা ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। তাই বৈঠকটি খুবই ভালো হয়েছে এবং আমি এমন একটি সম্পর্কের প্রত্যাশা করছি, যার ভিত্তি হবে উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি ধারাবাহিক সম্পর্কের প্রত্যাশা করছি। যেমন সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সংগীত, এমনকি ক্রিকেট—সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। আর এটি কেবল শুরু, আমি নিশ্চিত। আমরা ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হব এবং আমি সেটির অপেক্ষায় আছি।’

ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত যাচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আর অবশ্যই, আমাদের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি নিশ্চিত, অদূর ভবিষ্যতেই এটি হবে। আমরা খুবই আশাবাদী এবং আমরা সবাই সেটির অপেক্ষায় আছি।’

তিস্তা চুক্তি নবায়ন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। আর সৌজন্য সাক্ষাতে যা হয়, কিছুটা বোঝাপড়া হয়। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মানুষের। মানুষে মানুষে যা উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য কল্যাণকর, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’

আলোচনায় গঙ্গা চুক্তির বিষয় ছিল কি না জানতে চাইলে ভারতের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে তাদের একটি কার্যকরী দল আছে। আমাদের ভারতেও আছে, বাংলাদেশেও আছে। কার্যকরী দলগুলোর অবশ্যই যোগাযোগ হবে। আর যেমন আমি বলেছি, এমন কোনো বিষয় নেই, যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘কার্যকরী দল অবশ্যই সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ করবে। আর আমি বারবার যেমন বলছি, যা-ই উভয় দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করলে সেটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে বলে আমি নিশ্চিত। আর কার্যকরী দলের নিজস্ব নথিপত্র থাকবে। তাই আমি সব ইতিবাচক বিষয়ের অপেক্ষায় আছি। আমি বলতে পারি, আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে একটি চমৎকার বৈঠক করেছি।’

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত