হুমায়ূন শফিক

স্বয়ংক্রিয় কর ফেরতের দাবির মধ্যেই উৎসে কর কর্তনকারীদের জন্য উইথহোল্ডিং আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ‘ডব্লিউআইএন’ আইডি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে এই স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
তবে কর বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিশোধিত কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা না দিলে এই ব্যবস্থা সৎ করদাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় একটি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
ডব্লিউআইএন হলো আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৩ ধারা অনুযায়ী উৎসে কর (টিডিএস) কর্তন বা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর। এটি মূলত উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ও কর পরিপালন তদারকি করতে ব্যবহৃত হয়।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও টিআইএন সংযোগ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (কর নীতি) মো. জাফর ইমাম বলেন, প্রতিস্থাপিত বিধান অনুযায়ী আয়কর আইনের অংশ-৭ এর অধীনে উৎসে কর কর্তন বা আদায় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন সবার ডব্লিউআইএন থাকবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) হবে ডব্লিউআইএন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নতুন আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৩ অনুযায়ী উৎস কর কর্তন ও সংগ্রহকারীদের জন্য ডব্লিউআইএন প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ধারা ২(৭) এর অধীনে যাদের উৎস কর কর্তন বা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে একটি করে ‘ডব্লিউআইএন’ নম্বর গ্রহণ করতে হবে। যেসব কর্তনকারীর টিআইএন রয়েছে, তাদেরও পরিবর্তিত আইন অনুযায়ী ডব্লিউআইএন নিতে হবে। অন্যদিকে যাদের টিআইএন নেই কিন্তু উৎস কর কর্তন করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রথমে নতুন টিআইএন প্রদান করে পরবর্তী সময়ে ডব্লিউআইএন দিতে হবে।
তিনটি শ্রেণিতে ডব্লিউআইএন বিতরণ
উৎসে কর কর্তনকারী ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোকে ডব্লিউআইএন প্রদানের সুবিধার্থে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
‘ক’ শ্রেণি (টিআইএনধারী কর্তনকারী): যেসব কর্তনকারীর ইতিমধ্যে টিআইএন রয়েছে, তাদের ই-টিডিএস সিস্টেমের মাধ্যমে ডব্লিউআইএন প্রদান করা হবে। এ জন্য টিআইএন সিস্টেমের সঙ্গে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংযোগ স্থাপন করে তথ্য যাচাই করা হবে। ডব্লিউআইএন জেনারেট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তনকারীর মোবাইলে বাল্ক এসএমএস-এর মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে।
‘খ’ শ্রেণি (আইবাস ব্যবহারকারী সরকারি দপ্তর): যেসব সরকারি দপ্তরের টিআইএন নেই কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস সিস্টেমে ১০ ডিজিটের প্রাতিষ্ঠানিক কোড রয়েছে, তাদের তথ্য আইবাস ও ই-টিডিএস সিস্টেমের মধ্যে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এরপর উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উদ্যোগে তাদের ডব্লিউআইএন দেওয়া হবে।
‘গ’ শ্রেণি (টিআইএন ও আইবাস কোডবিহীন প্রতিষ্ঠান): এই শ্রেণিতে মূলত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও), এতিমখানা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, বেসরকারি ব্যাংক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা বিভাগের আওতাধীন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট। পরবর্তী সময়ে ই-টিডিএস সিস্টেমে একটি বিশেষ মডিউল তৈরি করে তাদের ডব্লিউআইএন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ‘ট্যাক্স আদায় বা কালেকশন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অগ্রিম কর (অ্যাডভান্সড ট্যাক্স) কাটার ওপর এক ধরনের জোর দেওয়া হচ্ছে। অগ্রিম কর আদায়ের ওপর জোর দেওয়াটা হয়তো ভালো একটি উদ্যোগ হতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে এই অগ্রিম করের সমন্বয় কীভাবে হবে, সেই প্রক্রিয়াটি যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন না করা হয়, তবে তা ব্যবসায়ীদের ওপর বোঝা বাড়িয়ে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস কাজ করে যে আগে থেকে কর কেটে না রাখলে করদাতারা হয়তো পরে তা প্রদর্শন করবেন না। তবে সবার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি এক রকম নয়। আমরা যখন কর সমন্বয়ের কথা বলি, তখন যারা সৎ করদাতা, অগ্রিম কর কাটার এই ব্যবস্থাটি কার্যত তাদের জন্যই বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।’
‘তাই আপনি অগ্রিম করের ওপর যতটা গুরুত্ব দেবেন, সেই করদাতা যদি অতিরিক্ত কর দিয়ে ফেলেন, তবে তিনি কীভাবে তা ফেরত পাবেন—সেই বিষয়টির ওপর ঠিক সমপরিমাণ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে; কারণ অগ্রিম কর দেখানোর ক্ষেত্রেও কিন্তু ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থেকে যায়।’ বলেন তামিম আহমেদ।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি
ডব্লিউআইএন প্রদানের এই পুরো কার্যক্রম যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা উইং, আইসিটি উইং, উৎস কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট এবং ই-টিডিএস সিস্টেমের সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান।
এনবিআরের সিস্টেম ম্যানেজারের প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানান, টিআইএনধারী কর্তনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য টিআইএন সিস্টেমের সঙ্গে এপিআই-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক।
উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট শিগগিরই ডব্লিউআইএন দেওয়ার বিষয়ে একটি খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠাবে, যা পরবর্তীতে বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে জারি করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট কর্তৃক ইতিমধ্যে ঢাকা বিভাগে অবস্থিত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ, সংস্থা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তামিম আহমেদ বলেন, ‘এর আগে বিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছ থেকে আমরা যে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম তা হলো—পুরো প্রক্রিয়াটি তিনি অটোমেটেড করে দেবেন। অর্থাৎ রিটার্নটি প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে এবং অতিরিক্ত কর পরিশোধ করা হলে তা আর ম্যানুয়ালি ফরোয়ার্ড করতে হবে না। ফলে সেই বিষয়টি যদি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তবে উৎসে কর আদায়ের ক্ষেত্রে আপনি যে ধরনের প্রক্রিয়াই চালু করুন না কেন, তা কিন্তু মূলত একটি অগ্রিম কর—যা শেষ পর্যন্ত ফেরতযোগ্য। এখন এই অগ্রিম কর যদি যথাসময়ে ফেরত দেওয়া না যায়, তবে করদাতার ওপর কার্যকরী করের হার (ইফেক্টিভ ট্যাক্স রেট) অনেক বেড়ে যায়। আর আমরা জানি, করের হার যখন বেশি হয়, তখন কর ফাঁকি দেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই উভয় দিকেই সমান্তরালভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন এআইটি (অগ্রিম আয়কর)-এর ব্যাপারে নানাবিধ পদক্ষেপের কথা শুনছি, তেমনই কর ফেরতের (ট্যাক্স রিফান্ড) ক্ষেত্রে যে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হলো—সেটিও জানতে চাই। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ না করলে হয়তো কোনো কার্যকর ফলাফল বা ইফেক্টিভ আউটকাম আসবে না।’
এনবিআরের একজন প্রথম সচিব বলেন, উৎসে কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন আইবাস সিস্টেমে প্রাতিষ্ঠানিক কোড রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট আইডি রয়েছে। সুতরাং এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোডের সঙ্গে সংগতি বজায় রেখে ডব্লিউআইএন প্রদান করা যেতে পারে।
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব উৎসে কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তির টিআইএন রয়েছে, তাদের টিআইএনকে ডব্লিউআইএন-এ রূপান্তরের জন্য টিআইএন সিস্টেমে ও ই-টিডিএস সিস্টেমের মধ্যে এপিআই করা আবশ্যক।

স্বয়ংক্রিয় কর ফেরতের দাবির মধ্যেই উৎসে কর কর্তনকারীদের জন্য উইথহোল্ডিং আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ‘ডব্লিউআইএন’ আইডি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে এই স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
তবে কর বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিশোধিত কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা না দিলে এই ব্যবস্থা সৎ করদাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় একটি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
ডব্লিউআইএন হলো আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৩ ধারা অনুযায়ী উৎসে কর (টিডিএস) কর্তন বা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর। এটি মূলত উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ও কর পরিপালন তদারকি করতে ব্যবহৃত হয়।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও টিআইএন সংযোগ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (কর নীতি) মো. জাফর ইমাম বলেন, প্রতিস্থাপিত বিধান অনুযায়ী আয়কর আইনের অংশ-৭ এর অধীনে উৎসে কর কর্তন বা আদায় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন সবার ডব্লিউআইএন থাকবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) হবে ডব্লিউআইএন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, নতুন আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৩ অনুযায়ী উৎস কর কর্তন ও সংগ্রহকারীদের জন্য ডব্লিউআইএন প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ধারা ২(৭) এর অধীনে যাদের উৎস কর কর্তন বা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে একটি করে ‘ডব্লিউআইএন’ নম্বর গ্রহণ করতে হবে। যেসব কর্তনকারীর টিআইএন রয়েছে, তাদেরও পরিবর্তিত আইন অনুযায়ী ডব্লিউআইএন নিতে হবে। অন্যদিকে যাদের টিআইএন নেই কিন্তু উৎস কর কর্তন করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রথমে নতুন টিআইএন প্রদান করে পরবর্তী সময়ে ডব্লিউআইএন দিতে হবে।
তিনটি শ্রেণিতে ডব্লিউআইএন বিতরণ
উৎসে কর কর্তনকারী ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোকে ডব্লিউআইএন প্রদানের সুবিধার্থে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
‘ক’ শ্রেণি (টিআইএনধারী কর্তনকারী): যেসব কর্তনকারীর ইতিমধ্যে টিআইএন রয়েছে, তাদের ই-টিডিএস সিস্টেমের মাধ্যমে ডব্লিউআইএন প্রদান করা হবে। এ জন্য টিআইএন সিস্টেমের সঙ্গে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংযোগ স্থাপন করে তথ্য যাচাই করা হবে। ডব্লিউআইএন জেনারেট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তনকারীর মোবাইলে বাল্ক এসএমএস-এর মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে।
‘খ’ শ্রেণি (আইবাস ব্যবহারকারী সরকারি দপ্তর): যেসব সরকারি দপ্তরের টিআইএন নেই কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস সিস্টেমে ১০ ডিজিটের প্রাতিষ্ঠানিক কোড রয়েছে, তাদের তথ্য আইবাস ও ই-টিডিএস সিস্টেমের মধ্যে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এরপর উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উদ্যোগে তাদের ডব্লিউআইএন দেওয়া হবে।
‘গ’ শ্রেণি (টিআইএন ও আইবাস কোডবিহীন প্রতিষ্ঠান): এই শ্রেণিতে মূলত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও), এতিমখানা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, বেসরকারি ব্যাংক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা বিভাগের আওতাধীন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট। পরবর্তী সময়ে ই-টিডিএস সিস্টেমে একটি বিশেষ মডিউল তৈরি করে তাদের ডব্লিউআইএন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ‘ট্যাক্স আদায় বা কালেকশন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অগ্রিম কর (অ্যাডভান্সড ট্যাক্স) কাটার ওপর এক ধরনের জোর দেওয়া হচ্ছে। অগ্রিম কর আদায়ের ওপর জোর দেওয়াটা হয়তো ভালো একটি উদ্যোগ হতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে এই অগ্রিম করের সমন্বয় কীভাবে হবে, সেই প্রক্রিয়াটি যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন না করা হয়, তবে তা ব্যবসায়ীদের ওপর বোঝা বাড়িয়ে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস কাজ করে যে আগে থেকে কর কেটে না রাখলে করদাতারা হয়তো পরে তা প্রদর্শন করবেন না। তবে সবার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি এক রকম নয়। আমরা যখন কর সমন্বয়ের কথা বলি, তখন যারা সৎ করদাতা, অগ্রিম কর কাটার এই ব্যবস্থাটি কার্যত তাদের জন্যই বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।’
‘তাই আপনি অগ্রিম করের ওপর যতটা গুরুত্ব দেবেন, সেই করদাতা যদি অতিরিক্ত কর দিয়ে ফেলেন, তবে তিনি কীভাবে তা ফেরত পাবেন—সেই বিষয়টির ওপর ঠিক সমপরিমাণ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে; কারণ অগ্রিম কর দেখানোর ক্ষেত্রেও কিন্তু ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থেকে যায়।’ বলেন তামিম আহমেদ।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি
ডব্লিউআইএন প্রদানের এই পুরো কার্যক্রম যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবা উইং, আইসিটি উইং, উৎস কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট এবং ই-টিডিএস সিস্টেমের সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান।
এনবিআরের সিস্টেম ম্যানেজারের প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানান, টিআইএনধারী কর্তনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য টিআইএন সিস্টেমের সঙ্গে এপিআই-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক।
উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট শিগগিরই ডব্লিউআইএন দেওয়ার বিষয়ে একটি খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠাবে, যা পরবর্তীতে বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে জারি করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট কর্তৃক ইতিমধ্যে ঢাকা বিভাগে অবস্থিত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ, সংস্থা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তামিম আহমেদ বলেন, ‘এর আগে বিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছ থেকে আমরা যে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম তা হলো—পুরো প্রক্রিয়াটি তিনি অটোমেটেড করে দেবেন। অর্থাৎ রিটার্নটি প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে এবং অতিরিক্ত কর পরিশোধ করা হলে তা আর ম্যানুয়ালি ফরোয়ার্ড করতে হবে না। ফলে সেই বিষয়টি যদি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তবে উৎসে কর আদায়ের ক্ষেত্রে আপনি যে ধরনের প্রক্রিয়াই চালু করুন না কেন, তা কিন্তু মূলত একটি অগ্রিম কর—যা শেষ পর্যন্ত ফেরতযোগ্য। এখন এই অগ্রিম কর যদি যথাসময়ে ফেরত দেওয়া না যায়, তবে করদাতার ওপর কার্যকরী করের হার (ইফেক্টিভ ট্যাক্স রেট) অনেক বেড়ে যায়। আর আমরা জানি, করের হার যখন বেশি হয়, তখন কর ফাঁকি দেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই উভয় দিকেই সমান্তরালভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন এআইটি (অগ্রিম আয়কর)-এর ব্যাপারে নানাবিধ পদক্ষেপের কথা শুনছি, তেমনই কর ফেরতের (ট্যাক্স রিফান্ড) ক্ষেত্রে যে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হলো—সেটিও জানতে চাই। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ না করলে হয়তো কোনো কার্যকর ফলাফল বা ইফেক্টিভ আউটকাম আসবে না।’
এনবিআরের একজন প্রথম সচিব বলেন, উৎসে কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন আইবাস সিস্টেমে প্রাতিষ্ঠানিক কোড রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট আইডি রয়েছে। সুতরাং এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোডের সঙ্গে সংগতি বজায় রেখে ডব্লিউআইএন প্রদান করা যেতে পারে।
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব উৎসে কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তির টিআইএন রয়েছে, তাদের টিআইএনকে ডব্লিউআইএন-এ রূপান্তরের জন্য টিআইএন সিস্টেমে ও ই-টিডিএস সিস্টেমের মধ্যে এপিআই করা আবশ্যক।
.png)

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পাট খাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
২৮ জুলাই ২০২৬
তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবার বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।
২৭ জুলাই ২০২৬
টানা ১৫ দিন হামলার পর গত দুই রাতে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলাও স্থগিত রেখেছে ইরান।
২৭ জুলাই ২০২৬
ব্যাংকগুলোর শাখা বা সেবাকেন্দ্র স্থাপনে ভাড়ার চুক্তি হতে হবে কমপক্ষে ছয় বছর। চুক্তি চলাকালীন প্রথম তিন বছরের মধ্যে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। তিন বছর পর ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হলে, তা মূল ভাড়ার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া সার্ভিস চার্জ কোনোভাবেই মূল ভাড়ার ১০ শতাংশের বেশি হবে না।
২৭ জুলাই ২০২৬