একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ঘিরে ১৩ দাবিতে জাকসুর অবস্থান কর্মসূচি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৫৩
একাডেমিক কাউন্সিল ঘিরে জাকসুর ১৩ দফা বাস্তবায়নে অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একাডেমিক কাউন্সিলের সভাকে ঘিরে ১৩ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও একাডেমিক সংস্কারের দাবিতে আজ দুপুর ৩টার দিকে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন জাকসু নেতারা। এ সময় একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে জাকসুর প্যাডে মুদ্রিত দাবিগুলো জানানো হয়।

জাকসুর উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালু, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, সেশনজট নিরসনে কার্যকর একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে যন্ত্রপাতিভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক ও পরীক্ষানিয়ন্ত্রক অফিসে জনবল সংকট নিরসন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রুতিলেখক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মানোন্নয়ন পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সুযোগ, চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু, বিশেষ পরিস্থিতিতে অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি দুপুর ১২টা থেকে কমিয়ে সকাল ১০টায় আনার দাবি জানানো হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে জাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান উদ্দীন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একাডেমিক সংস্কার শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের চাওয়া। আজ একাডেমিক কাউন্সিলের সব সদস্যের কাছে আমাদের দাবিগুলো পৌঁছে দিয়েছি। আমরা চাই, দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ গড়ে উঠুক।’

জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা বলেন, দীর্ঘ আট মাস পর একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে। কার্যকর একাডেমিক ক্যালেন্ডার না থাকায় ৭৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ছয় থেকে ১০ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এক সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হয়ে আরেক সেমিস্টারের পরীক্ষাও শুরু হয়ে যায়, কিন্তু আগের ফল প্রকাশ হয় না।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ সুযোগ সৃষ্টি হলে গবেষণার মান উন্নত হবে, আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল প্রকাশ বাড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা আশা করি, প্রশাসন দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত