অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ২১: ২৫
বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যা, ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুরে শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুমের মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন বিচারক।

এ ছাড়া ঘটনার সময় নাবালক ছিল এমন পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলো- সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা যান। ফলে তাঁর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ তাঁর কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এনামুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলেই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

রায়ে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিটি ধারায় অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিফাতের বাবা এনামুল হক। তিনি বলেন, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত