leadT1ad

বাংলাদেশে দুর্নীতি নিরসন নিয়ে সৃষ্টিকর্তাও চিন্তিত: দুদক চেয়ারম্যান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ২৪
‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন। স্ট্রিম ছবি

বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা নিরসন নিয়ে খোদ সৃষ্টিকর্তাও চিন্তিত বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিই দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়।

বক্তব্যের শুরুতে দুদক চেয়ারম্যান রসিকতা করে বলেন, তিনি এমন একটি ‘বাজে’ প্রতিষ্ঠানে (দুদক) কাজ করেন যার নাম গর্বের সাথে বলার মতো হলে তিনি গর্ববোধ করতেন। এরপর তিনি আমেরিকা, রাশিয়া ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি কৌতুক শোনান। তিনি বলেন, আমেরিকার মুদ্রাস্ফীতি ১০০ বছরে এবং রাশিয়ার দারিদ্র্য ৮০ বছরে দূর হবে বলে সৃষ্টিকর্তা জানালেও, বাংলাদেশের দুর্নীতি কবে দূর হবে—এই প্রশ্নে সৃষ্টিকর্তা নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েন।

৫ আগস্ট ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ড. মোমেন বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশেই শাসকরা পালিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পালালেন, প্রধান বিচারপতি পালালেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পালালেন, সচিব-মন্ত্রীরা পালালেন। এমনকি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বায়তুল মোকাররমের খতিবও পালালেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও যখন পালাতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কোন পর্যায়ে ঢুকেছে।’

আমলাতন্ত্র ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে তিনি একটি প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেন। তিনি বলেন, এতদিন বলা হতো প্রশাসনের রাজনীতিকরণ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্যারাডাইম শিফট হয়েছে। এখন সরকারি কর্মকর্তারাই পদোন্নতি বা পদ ধরে রাখতে রাজনীতিবিদদের কাছে গিয়ে বলেন, “হুজুর, আমাকে পলিটিসাইজ করুন।” তিনি একে ‘ব্যুরোক্রেটাইজেশন অব পলিটিক্স’ বা রাজনীতির আমলাতন্ত্রীকরণ হিসেবে অভিহিত করার পরামর্শ দেন।

ফাওজুল কবির খানের বইয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বইটিতে রাজনীতি, সুশাসন এবং মালদ্বীপের ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইনের মতো সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি লেখককে তাঁর পরবর্তী বই হিসেবে ‘উপদেষ্টার দিনগুলি’ বা ‘উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর’ শিরোনামে অভিজ্ঞতার কথা লেখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাওজুল কবির খান নিজেই। যা নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান কৌতুক করে বলেন, নিজের বইয়ের প্রকাশনায় প্রধান অতিথি হওয়ার চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর নেই। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত