জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর পাবনা অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদীতে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯২৩ সালে প্রকাশিত এল এস এস ওমালীর ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (পাবনা) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
তারেক অণু

১৮৭৭ সালে প্রকাশিত 'স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অফ বেঙ্গল'-এ লেখা হয়েছিল, ‘পাবনা জেলার বড় বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে মহিষ ও হরিণ। তবে দুটিই তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে বাঘ, চিতাবাঘ আর বুনো শুয়োর সবখানে প্রচুর পরিমাণে আছে। পাবনা অঞ্চলে বুনো শুয়োর সংখ্যায় অনেক বেশি এবং আকারেও বেশ বড়। এই কারণে এখানে বসবাসকারী ও ঘুরতে আসা ইউরোপিয়ানদের কাছে শুয়োর শিকার অত্যন্ত জনপ্রিয়।’
কিন্তু ১৯২৩ সালে এসে পাবনা অঞ্চল নিয়ে এসব বর্ণনা আর প্রযোজ্য নয়। চাষাবাদের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বুনো মহিষ, হরিণ ও বাঘ প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। বলা হয়ে থাকে যে ১৮৯০-এর দশকের শেষের দিকে পাবনা শহরের কাছে এক মানুষখেকো বাঘকে মারা হয়েছিল। এর আগেও কয়েকজন মানুষকে মেরে বাঘটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তবে চিতাবাঘ এবং বুনো শুয়োর এখনো অসংখ্য আছে।
যদিও চিতাবাঘের সংখ্যা ১৯২৩ সালে এসে অনেক কমে গেছে। তবুও চাটমোহর, দুলাই ও উল্লাপাড়ার জঙ্গলের ছোট ছোট অংশে তাদের দেখা যায়। এরা শুধু গবাদিপশুর ক্ষতি করে না; প্রতিবছর মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটায়। কিছু এলাকায় বুনো শুয়োর যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। আর ফসল নষ্ট করার জন্য কৃষকদের কাছে এরা অভিশাপের মতো। যদিও নদীর চরে এদের বেশি দেখা যায়। তবে ধান ও আখের জমির কাছাকাছি যেখানে ঝোপঝাড় আছে, সেখানেও এরা থাকে। বৃহত্তর পাবনা জেলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের জঙ্গলে নাকি অল্প কিছু নেকড়েও দেখা গেছে।
এছাড়া শিয়াল, দুই ধরনের বেজি, বনবিড়াল, একাধিক ধরনের খাটাশ, সজারু, খেকশেয়াল, খরগোশ আর দুই ধরনের ভোঁদড় দেখা যায়।
পাবনা জেলাটি ভারতবর্ষের দুটি বড় নদীর মাঝখানে অবস্থিত। ভেতরে অসংখ্য ছোট নদী ও খাল আছে এবং অনেক জলাভূমি রয়েছে। তাই এখানে জলচর পাখির প্রাচুর্য স্বাভাবিক। শীতকালে এখানে দাগি রাজহাঁস, মেটে রাজহাঁস এবং নাকতাহাঁস আসে। কিন্তু এদের শিকার করা বেশ কঠিন। পদ্মা ও যমুনার চরে ল্যাঞ্জাহাঁস, খুন্তেহাঁস, পিয়ংহাঁস, ভুতিহাঁস, নীলমাথা হাঁস, দেশি মেটেহাঁস এবং জোড়ায় জোড়ায় চখাচখি বেশ দেখা যায়। ছোট হাঁসদের মধ্যে পাতি তিলিহাঁস, সরালি দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ধলা বালিহাঁস। এই এলাকা চ্যাগা পাখি শিকারের আদর্শ জায়গা কারণ এখানে চার ধরনের চ্যাগা পাওয়া যায়।
অন্যান্য জলজ পাখির মধ্যে বক, কুট, ডুবুরি, লালপা, মাছরাঙা, ছোট পানকৌড়ি অন্যতম। স্থলভাগের পাখি পাবনা অঞ্চলে তুলনামূলক কম। জিরিয়া এবং হরিয়ালও প্রচুর দেখা যায়। নাটাবটের ও সাধারণ মেটে তিতির মাঝে মাঝে শিকারও করা হয়। কালো তিতির খুব বিরল নয়, তবে জলাভূমির তিতির (ক্যাহ) খুবই কম।
পাবনার নদী ও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে পদ্মা নদীতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। এই অঞ্চলের ইলিশ উত্তরবঙ্গের নানা জায়গা এবং কলকাতায় পাঠানো হয়। সত্যি বলতে ইলিশের মৌসুমে কলকাতার বাজারের ইলিশের বড় চালান এখান থেকে যায়। মাছ রেলে করে কলকাতায় পাঠানো হয় আর শত শত বাক্সে ইলিশ ভরে স্টিমারে করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
১৯০৭ সালের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাঁড়াঘাট (পাবনার ঈশ্বরদীতে) থেকে ৪,৭২২ মণ ইলিশ মাছ পাঠানো হয়েছিল। আর গোয়ালন্দ স্টেশন (রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ) থেকে শুধু বাংলার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল ৩২,০৪২ মণ মাছ।
ইলিশ ছাড়াও পাবনা অঞ্চলে থেকে আরো অনেক ধরনের মাছ ধরা হয়। সবচেয়ে দামি মাছগুলোর মধ্যে ছিল কার্প গোত্রের রুই ও মৃগেল আর ক্যাটফিশ গোত্রের বোয়াল ও মাগুর। পদ্মা থেকে ধরা রুই ও বোয়ালের ওজন কখনো কখনো ৩০ সেরেরও বেশি হয়। বাঘাইড় মাছ (বর্তমানে ‘মহাবিপন্ন’) দুই মণ পর্যন্ত ওজনের হয়। আর প্রায় প্রতি বছরই পদ্মা নদীতে কুমিরের আক্রমণে কিছু মানুষ মারা যায়। বর্ষার সময় কুমিরগুলো ছোট নদী আর খালেও ঢুকে পড়ে।
নিয়মিত মাছ ধরার পাশাপাশি পাবনা অঞ্চলের গ্রামবাসীদের মধ্যে গ্রীষ্মকালে ‘পলো দিয়ে মাছ ধরা’ একটি পুরোনো রীতি। শিঙা ফুঁকিয়ে সবাইকে মাছ ধরতে ডাকা হয়। নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে কখনো কখনো শত শত মানুষ পলো হাতে নিকটবর্তী জলাশয়ে ছুটে যায়। পলো হলো ঘণ্টার মতো আকৃতির চেরা বাঁশের ফাঁদ, ওপরে ছোট ছিদ্র, নিচে কোনো তলা নেই। জেলে পানিতে নেমে পলোটা সামনে চেপে ধরত, তারপর ওপরের ছিদ্র দিয়ে হাত ঢুকিয়ে কাদার মধ্যে আটকে পড়া মাছ খুঁজে বের করে। অল্প সময়েই পানি কাদায় পরিণত হয়, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো জলাশয় মাছশূন্য হয়ে পড়ে।

১৮৭৭ সালে প্রকাশিত 'স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অফ বেঙ্গল'-এ লেখা হয়েছিল, ‘পাবনা জেলার বড় বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে মহিষ ও হরিণ। তবে দুটিই তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে বাঘ, চিতাবাঘ আর বুনো শুয়োর সবখানে প্রচুর পরিমাণে আছে। পাবনা অঞ্চলে বুনো শুয়োর সংখ্যায় অনেক বেশি এবং আকারেও বেশ বড়। এই কারণে এখানে বসবাসকারী ও ঘুরতে আসা ইউরোপিয়ানদের কাছে শুয়োর শিকার অত্যন্ত জনপ্রিয়।’
কিন্তু ১৯২৩ সালে এসে পাবনা অঞ্চল নিয়ে এসব বর্ণনা আর প্রযোজ্য নয়। চাষাবাদের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বুনো মহিষ, হরিণ ও বাঘ প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। বলা হয়ে থাকে যে ১৮৯০-এর দশকের শেষের দিকে পাবনা শহরের কাছে এক মানুষখেকো বাঘকে মারা হয়েছিল। এর আগেও কয়েকজন মানুষকে মেরে বাঘটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তবে চিতাবাঘ এবং বুনো শুয়োর এখনো অসংখ্য আছে।
যদিও চিতাবাঘের সংখ্যা ১৯২৩ সালে এসে অনেক কমে গেছে। তবুও চাটমোহর, দুলাই ও উল্লাপাড়ার জঙ্গলের ছোট ছোট অংশে তাদের দেখা যায়। এরা শুধু গবাদিপশুর ক্ষতি করে না; প্রতিবছর মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটায়। কিছু এলাকায় বুনো শুয়োর যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। আর ফসল নষ্ট করার জন্য কৃষকদের কাছে এরা অভিশাপের মতো। যদিও নদীর চরে এদের বেশি দেখা যায়। তবে ধান ও আখের জমির কাছাকাছি যেখানে ঝোপঝাড় আছে, সেখানেও এরা থাকে। বৃহত্তর পাবনা জেলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের জঙ্গলে নাকি অল্প কিছু নেকড়েও দেখা গেছে।
এছাড়া শিয়াল, দুই ধরনের বেজি, বনবিড়াল, একাধিক ধরনের খাটাশ, সজারু, খেকশেয়াল, খরগোশ আর দুই ধরনের ভোঁদড় দেখা যায়।
পাবনা জেলাটি ভারতবর্ষের দুটি বড় নদীর মাঝখানে অবস্থিত। ভেতরে অসংখ্য ছোট নদী ও খাল আছে এবং অনেক জলাভূমি রয়েছে। তাই এখানে জলচর পাখির প্রাচুর্য স্বাভাবিক। শীতকালে এখানে দাগি রাজহাঁস, মেটে রাজহাঁস এবং নাকতাহাঁস আসে। কিন্তু এদের শিকার করা বেশ কঠিন। পদ্মা ও যমুনার চরে ল্যাঞ্জাহাঁস, খুন্তেহাঁস, পিয়ংহাঁস, ভুতিহাঁস, নীলমাথা হাঁস, দেশি মেটেহাঁস এবং জোড়ায় জোড়ায় চখাচখি বেশ দেখা যায়। ছোট হাঁসদের মধ্যে পাতি তিলিহাঁস, সরালি দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ধলা বালিহাঁস। এই এলাকা চ্যাগা পাখি শিকারের আদর্শ জায়গা কারণ এখানে চার ধরনের চ্যাগা পাওয়া যায়।
অন্যান্য জলজ পাখির মধ্যে বক, কুট, ডুবুরি, লালপা, মাছরাঙা, ছোট পানকৌড়ি অন্যতম। স্থলভাগের পাখি পাবনা অঞ্চলে তুলনামূলক কম। জিরিয়া এবং হরিয়ালও প্রচুর দেখা যায়। নাটাবটের ও সাধারণ মেটে তিতির মাঝে মাঝে শিকারও করা হয়। কালো তিতির খুব বিরল নয়, তবে জলাভূমির তিতির (ক্যাহ) খুবই কম।
পাবনার নদী ও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে পদ্মা নদীতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। এই অঞ্চলের ইলিশ উত্তরবঙ্গের নানা জায়গা এবং কলকাতায় পাঠানো হয়। সত্যি বলতে ইলিশের মৌসুমে কলকাতার বাজারের ইলিশের বড় চালান এখান থেকে যায়। মাছ রেলে করে কলকাতায় পাঠানো হয় আর শত শত বাক্সে ইলিশ ভরে স্টিমারে করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
১৯০৭ সালের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাঁড়াঘাট (পাবনার ঈশ্বরদীতে) থেকে ৪,৭২২ মণ ইলিশ মাছ পাঠানো হয়েছিল। আর গোয়ালন্দ স্টেশন (রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ) থেকে শুধু বাংলার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল ৩২,০৪২ মণ মাছ।
ইলিশ ছাড়াও পাবনা অঞ্চলে থেকে আরো অনেক ধরনের মাছ ধরা হয়। সবচেয়ে দামি মাছগুলোর মধ্যে ছিল কার্প গোত্রের রুই ও মৃগেল আর ক্যাটফিশ গোত্রের বোয়াল ও মাগুর। পদ্মা থেকে ধরা রুই ও বোয়ালের ওজন কখনো কখনো ৩০ সেরেরও বেশি হয়। বাঘাইড় মাছ (বর্তমানে ‘মহাবিপন্ন’) দুই মণ পর্যন্ত ওজনের হয়। আর প্রায় প্রতি বছরই পদ্মা নদীতে কুমিরের আক্রমণে কিছু মানুষ মারা যায়। বর্ষার সময় কুমিরগুলো ছোট নদী আর খালেও ঢুকে পড়ে।
নিয়মিত মাছ ধরার পাশাপাশি পাবনা অঞ্চলের গ্রামবাসীদের মধ্যে গ্রীষ্মকালে ‘পলো দিয়ে মাছ ধরা’ একটি পুরোনো রীতি। শিঙা ফুঁকিয়ে সবাইকে মাছ ধরতে ডাকা হয়। নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে কখনো কখনো শত শত মানুষ পলো হাতে নিকটবর্তী জলাশয়ে ছুটে যায়। পলো হলো ঘণ্টার মতো আকৃতির চেরা বাঁশের ফাঁদ, ওপরে ছোট ছিদ্র, নিচে কোনো তলা নেই। জেলে পানিতে নেমে পলোটা সামনে চেপে ধরত, তারপর ওপরের ছিদ্র দিয়ে হাত ঢুকিয়ে কাদার মধ্যে আটকে পড়া মাছ খুঁজে বের করে। অল্প সময়েই পানি কাদায় পরিণত হয়, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো জলাশয় মাছশূন্য হয়ে পড়ে।

কবি নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে ৩৩৪টি সংক্ষিপ্ত অথচ ভাবগভীর কবিতা, যেগুলোকে কবি নাম দিয়েছেন ‘ঝিনুককবিতা’।
২০ ঘণ্টা আগে
‘পোভার্টি পর্ন’ শব্দটি এখন বেশ প্রচলিত। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী, আশির দশকে এর জন্ম। অনেক সময় বিভিন্ন এনজিও দারিদ্র্যকে পুঁজি করে বিজ্ঞাপনের বিষয় বানিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করে। এই প্রবণতাকে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে তুলনা করেই শব্দটির উদ্ভব। ‘রইদ’ সিনেমা নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি পোভার্টি পর্ন নিয়ে এত কথা বলছি
২১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তান আন্দোলন শেষে ভারতবর্ষ ভেঙে পৃথক দেশ সৃষ্টি প্রায় আট দশক পুরোনো ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর লেখা হয়েছে বহু ভাষায়, বহু দেশে।
১ দিন আগে
২০০৫ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু হয়েছিল এক অদম্য স্বপ্নযাত্রা। দীর্ঘ ২০ বছরের নিরন্তর পথচলা শেষে চীনের শহর গুইলিংয়ে পা রাখার মাধ্যমে ১ হাজার শহর ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু।
১ দিন আগে