গান শুধু বিনোদনের জন্য নয়। যুগে যুগে, দেশে দেশে গান হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। ফোক থেকে হিপ-হপ, গণসংগীত থেকে রক—অন্যায়, বৈষম্য আর দমননীতির বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করেছে সুর। যখন কথা বলার পথ রুদ্ধ হয়েছে, তখন গানই জ্বালিয়েছে প্রতিরোধের আগুন, একত্র করেছে ভিন্ন মানুষকে একই লড়াইয়ে।
সুমন সুবহান

গান শুধু বিনোদনের জন্য নয়। অনেক সময় গান হয়ে ওঠে প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা। ইতিহাসজুড়ে শিল্পীরা গান ব্যবহার করেছেন অন্যায়, বৈষম্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। যখন প্রচলিত যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা ভয়ের কারণে নীরব বা অবরুদ্ধ থাকে, ঠিক তখনই গান সার্বজনীন আবেদন নিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে। সংগীত সেখানে প্রতিবাদের এক নতুন স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে তোলে এবং মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করে। আমরা সম্প্রতি জুলাই ২৪-এর আন্দোলনেও এর প্রমাণ দেখেছি, যেখানে র্যাপ কীভাবে দ্রুত প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল।
গানের একটি বিশেষ ও অনন্য ক্ষমতা হলো এটি যুক্তির চেয়েও আগে মানুষের গভীর আবেগ এবং অনুভূতিকে সরাসরি স্পর্শ করতে পারে। একটি মর্মস্পর্শী সুর অথবা একটি শক্তিশালী, সুচিন্তিত লিরিক মুহূর্তেই হাজার হাজার আলাদা মতের মানুষকে একই লক্ষ্যের জন্য একত্রিত করতে পারে। এটি সামাজিক পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য চেতনাকেও শানিত করে। এর ফলে সংগীত সবসময়ই একটি মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
প্রতিবাদী গান কোনো এক সময়ের হঠাৎ তৈরি হওয়া বিষয় নয়। মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে এই গান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। যখন রাষ্ট্রের দমননীতি আর সামাজিক নানা কারণে কথা বলার পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন গানই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। শোষিত মানুষের কষ্ট, ক্ষোভ আর বদলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গান খুব সহজেই তুলে ধরতে পারে। এই গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষকে সাহস জোগায়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়:
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও ফোক গান
১৯৫০ ও ৬০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে ফোক গান বড় ভূমিকা রেখেছিল। এই সময়ে শিল্পী বব ডিলান এবং জোন বায়েজ তাঁদের গানের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্য এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাঁদের গান শুধু শোনার জন্য ছিল না, ছিল আন্দোলনের ভাষা। বিশেষত ‘We Shall Overcome’ গানটি আন্দোলনের ঐক্য এবং অদম্য ইচ্ছার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে ডিলানের ‘Blowin' in the Wind’ গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওঠা মৌলিক প্রশ্নগুলোকে তুলে ধরে, যা ছিল প্রতিবাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। এই শিল্পীরা তাঁদের গানের সুর ও কথায় নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বরকে ধারণ করে আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছিলেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও শান্তির বার্তা
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকার তরুণ সমাজের ক্ষোভ আর প্রতিবাদের বড় মাধ্যম ছিল গান। যুদ্ধ নিয়ে সমাজে যখন বিভক্তি তৈরি হয়, তখন অনেক শিল্পী যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং শান্তির পক্ষে গলা তোলেন।
জন লেননের কালজয়ী গান ‘Give Peace a Chance’ দ্রুত আন্দোলনের মূল স্লোগানে পরিণত হয়। সহজ কথায় লেখা এই গান যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বব ডিলান বা কান্ট্রি জো অ্যান্ড দ্য ফিশ-এর গানও যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করে বহু তরুণকে রাস্তায় নামতে অনুপ্রাণিত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে মুক্তির সুর
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে গান ছিল সাহস আর ঐক্যের বড় উৎস। দমন-পীড়নের মধ্যেও এসব গান মানুষকে ভরসা দিত, লড়াইয়ে টিকে থাকার শক্তি জোগাত।

বিশেষত নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি এবং সব নাগরিকের জন্য সমতার দাবিতে এই গানগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পী মিরিয়াম মাকেবা তখন গান নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবির্ভূত হন। তাঁর গানগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। তিনি গানের মাধ্যমে বর্ণবাদের ভয়াবহতা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেন।
চিলিতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গান
১৯৭০–এর দশকে চিলিতে সামরিক শাসক অগাস্টো পিনোচেট–এর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক বড় নাম ছিলেন শিল্পী ভিক্টর জারা। তিনি গানকে ব্যবহার করেছিলেন সাধারণ মানুষের কষ্ট, অন্যায় আর ন্যায়ের দাবির কথা বলার জন্য। তাঁর ফোক গান খুব দ্রুত মানুষের মনে জায়গা করে নেয় এবং আন্দোলনে সাহস জোগায়।
সামরিক বাহিনী নির্মমভাবে আটক ও হত্যা করে তাঁর কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। অথচ শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, ভিক্টর জারার সংগীত আজও চিলির জনগণের মুক্তি এবং প্রতিবাদের এক অমর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলায় গণজাগরণ ও গণসংগীত
বাংলায় গণজাগরণ ও বিদ্রোহের ইতিহাসে গণসংগীতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও এই ধারার সংগীত ছিল গণমানুষের চেতনার প্রধান উৎস। হেমাঙ্গ বিশ্বাস এবং সলিল চৌধুরীর মতো দিকপাল শিল্পীরা তাঁদের গানের মাধ্যমে শ্রেণি-সংগ্রাম ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে কবি সিকান্দার আবু জাফরের মতো গীতিকাররা তাঁদের লেখনী দিয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেন। এই গানগুলো কেবল মনোরঞ্জনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা সাধারণ মানুষের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাত। ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ বা ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
পুয়ের্তো রিকোর প্রতিবাদ ও ‘কায়ে ১৩’
আধুনিক প্রতিবাদী সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো পুয়ের্তো রিকোর প্রভাবশালী ব্যান্ড কায়ে ১৩। ব্যান্ডের দুই ভাই, রেসিডেন্তে এবং ভিজিটান্তে তাঁদের গানের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন। তাঁদের গানের মূল বিষয়বস্তু ছিল রাজনৈতিক দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং নব্য-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা।
কায়ে ১৩ তাঁদের রেগেটন ও হিপ-হপের মিশ্রণে তৈরি সুরে ধারালো, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আবেগপূর্ণ লিরিক্স ব্যবহার করেন। তাঁদের গান ‘লাতিনো আমেরিকা’ মহাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।
একবিংশ শতাব্দীতেও গান প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা হয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে র্যাপ, হিপ-হপ আর রক গান তরুণদের প্রতিবাদের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন একটি প্রতিবাদী গান মুহূর্তেই দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
‘বুম বুম তেল আবিব’ ও লুকাস গেজ
২০২৫ সালের ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন গায়ক ও প্রযোজক লুকাস গেজ-এর ‘বুম বুম তেল আবিব’ গানটি মুক্তি পায়। গানটি ২০ জুন মুক্তি পায় এবং প্রকাশের পর থেকে রিল, স্টোরি, টিকটক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ সব প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গানটির মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। এই গানের জনপ্রিয়তার কারণ হলো ইসরায়েলের প্রতারণা, নিরীহ মানুষের ওপর হামলা এবং গাজায় চালানো বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা গানের কথা ও বিষয়বস্তুতে তুলে ধরা হয়েছে, যা শ্রোতা-দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
আরব বসন্তের হিপ-হপ: এল জেনারেল
২০১১ সালের আরব বসন্তে প্রতিবাদী সংগীতের বড় উদাহরণ তিউনিশিয়ার র্যাপার এল জেনারেল। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি গান লিখে তৎকালীন স্বৈরশাসক জাইন এল আবিদিন বেন আলী–এর দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন।
তাঁর জনপ্রিয় গান ‘রাইস লেবেল্ড ফ্যামিলি’-এ তিনি শাসকগোষ্ঠীর বিলাসিতা এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেকার বৈষম্য তুলে ধরেন। গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিউনিসিয়ার তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বিক্ষোভে স্ফুলিঙ্গ জোগায়। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে গানটি এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিবাদের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও জনগণের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার দ্রুত তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার প্রতিবাদ: পুসি রায়ট
রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে ফেমিনিস্ট পাঙ্ক ব্যান্ড পুসি রায়ট। ২০১২ সালে মস্কোর একটি গির্জায় তাদের ‘পাঙ্ক প্রেয়ার’ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। তারা সরকারের দমনমূলক নীতি এবং অর্থোডক্স চার্চের সঙ্গে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে গান গেয়েছিলেন।
এই প্রতিবাদী পারফরম্যান্স এবং গানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। এর ফলস্বরূপ গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। পুসি রায়ট প্রমাণ করে শিল্পের মাধ্যমেও ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া সম্ভব।
২০২৪ সালের আন্দোলনে বাংলা র্যাপের বিস্ফোরণ
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাংলা র্যাপ ছিল প্রতিবাদের উদ্দীপক কণ্ঠস্বর। ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার শঙ্কা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের তরুণ র্যাপার সেজান ১৬ জুলাই প্রকাশ করেন ‘কথা ক’ গানটি। গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সেজান প্রশ্ন তোলেন ‘আমার ভাই–বইন মরে রাস্তায়, তর চেষ্টা কইরে? কথা ক।’

হান্নান হোসাইনও ১৭ জুলাই লেখেন ‘আওয়াজ উডা’ গানটি, যা দ্রুত স্লোগানে পরিণত হয়। এই র্যাপারদের গান প্রকাশের দায়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়, এমনকি হান্নানকে গ্রেপ্তার হয়ে ১২ দিন কারাগারে থাকতে হয়। আন্দোলনের সময় অন্তত ৪০টি বাংলা র্যাপ গান প্রকাশিত হয়, যা অন্য যেকোনো ঘরানার চেয়ে অনেক বেশি। ‘বাংলা মা’, ‘বায়ান্ন’, ‘দেশ কার’, ‘রক্ত’-এর মতো গানগুলো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তীব্র উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
সংগীতের প্রতিবাদী শক্তি কালজয়ী এবং অনস্বীকার্য। গান তার গভীর আবেগ এবং স্পষ্ট বার্তার মাধ্যমে সমাজের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মনের কথা তুলে ধরার ক্ষমতা রাখে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রচারমাধ্যম সহজে অর্জন করতে পারে না।
এটি এমন এক সর্বজনীন ভাষা, যা ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমানা অতিক্রম করে মুহূর্তেই হাজারো মানুষকে একই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক সামাজিক বা রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তা সে আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলন হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই হোক অথবা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
বব ডিলান, ভিক্টর জারা, মিরিয়াম মাকেবা কিংবা আপেল মাহমুদ, প্রত্যেকেই সুরকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই ধারা অব্যাহত আছে যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো র্যাপ বা হিপ-হপের মতো নতুন ধারাকে বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেমনটি আমরা দেখলাম ‘বুম বুম তেল আবিব’ গানের ক্ষেত্রে। এটি প্রমাণ করে যে ক্ষমতাসীনদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও একটি প্রতিবাদের সুরকে দমিয়ে রাখা অসম্ভব।

গান শুধু বিনোদনের জন্য নয়। অনেক সময় গান হয়ে ওঠে প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা। ইতিহাসজুড়ে শিল্পীরা গান ব্যবহার করেছেন অন্যায়, বৈষম্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। যখন প্রচলিত যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা ভয়ের কারণে নীরব বা অবরুদ্ধ থাকে, ঠিক তখনই গান সার্বজনীন আবেদন নিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে। সংগীত সেখানে প্রতিবাদের এক নতুন স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে তোলে এবং মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করে। আমরা সম্প্রতি জুলাই ২৪-এর আন্দোলনেও এর প্রমাণ দেখেছি, যেখানে র্যাপ কীভাবে দ্রুত প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল।
গানের একটি বিশেষ ও অনন্য ক্ষমতা হলো এটি যুক্তির চেয়েও আগে মানুষের গভীর আবেগ এবং অনুভূতিকে সরাসরি স্পর্শ করতে পারে। একটি মর্মস্পর্শী সুর অথবা একটি শক্তিশালী, সুচিন্তিত লিরিক মুহূর্তেই হাজার হাজার আলাদা মতের মানুষকে একই লক্ষ্যের জন্য একত্রিত করতে পারে। এটি সামাজিক পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য চেতনাকেও শানিত করে। এর ফলে সংগীত সবসময়ই একটি মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
প্রতিবাদী গান কোনো এক সময়ের হঠাৎ তৈরি হওয়া বিষয় নয়। মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে এই গান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। যখন রাষ্ট্রের দমননীতি আর সামাজিক নানা কারণে কথা বলার পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন গানই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। শোষিত মানুষের কষ্ট, ক্ষোভ আর বদলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গান খুব সহজেই তুলে ধরতে পারে। এই গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষকে সাহস জোগায়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়:
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও ফোক গান
১৯৫০ ও ৬০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে ফোক গান বড় ভূমিকা রেখেছিল। এই সময়ে শিল্পী বব ডিলান এবং জোন বায়েজ তাঁদের গানের মাধ্যমে বর্ণবৈষম্য এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাঁদের গান শুধু শোনার জন্য ছিল না, ছিল আন্দোলনের ভাষা। বিশেষত ‘We Shall Overcome’ গানটি আন্দোলনের ঐক্য এবং অদম্য ইচ্ছার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে ডিলানের ‘Blowin' in the Wind’ গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওঠা মৌলিক প্রশ্নগুলোকে তুলে ধরে, যা ছিল প্রতিবাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। এই শিল্পীরা তাঁদের গানের সুর ও কথায় নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বরকে ধারণ করে আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছিলেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও শান্তির বার্তা
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকার তরুণ সমাজের ক্ষোভ আর প্রতিবাদের বড় মাধ্যম ছিল গান। যুদ্ধ নিয়ে সমাজে যখন বিভক্তি তৈরি হয়, তখন অনেক শিল্পী যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং শান্তির পক্ষে গলা তোলেন।
জন লেননের কালজয়ী গান ‘Give Peace a Chance’ দ্রুত আন্দোলনের মূল স্লোগানে পরিণত হয়। সহজ কথায় লেখা এই গান যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বব ডিলান বা কান্ট্রি জো অ্যান্ড দ্য ফিশ-এর গানও যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করে বহু তরুণকে রাস্তায় নামতে অনুপ্রাণিত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে মুক্তির সুর
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে গান ছিল সাহস আর ঐক্যের বড় উৎস। দমন-পীড়নের মধ্যেও এসব গান মানুষকে ভরসা দিত, লড়াইয়ে টিকে থাকার শক্তি জোগাত।

বিশেষত নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তি এবং সব নাগরিকের জন্য সমতার দাবিতে এই গানগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পী মিরিয়াম মাকেবা তখন গান নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবির্ভূত হন। তাঁর গানগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। তিনি গানের মাধ্যমে বর্ণবাদের ভয়াবহতা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেন।
চিলিতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গান
১৯৭০–এর দশকে চিলিতে সামরিক শাসক অগাস্টো পিনোচেট–এর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক বড় নাম ছিলেন শিল্পী ভিক্টর জারা। তিনি গানকে ব্যবহার করেছিলেন সাধারণ মানুষের কষ্ট, অন্যায় আর ন্যায়ের দাবির কথা বলার জন্য। তাঁর ফোক গান খুব দ্রুত মানুষের মনে জায়গা করে নেয় এবং আন্দোলনে সাহস জোগায়।
সামরিক বাহিনী নির্মমভাবে আটক ও হত্যা করে তাঁর কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। অথচ শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, ভিক্টর জারার সংগীত আজও চিলির জনগণের মুক্তি এবং প্রতিবাদের এক অমর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলায় গণজাগরণ ও গণসংগীত
বাংলায় গণজাগরণ ও বিদ্রোহের ইতিহাসে গণসংগীতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও এই ধারার সংগীত ছিল গণমানুষের চেতনার প্রধান উৎস। হেমাঙ্গ বিশ্বাস এবং সলিল চৌধুরীর মতো দিকপাল শিল্পীরা তাঁদের গানের মাধ্যমে শ্রেণি-সংগ্রাম ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে কবি সিকান্দার আবু জাফরের মতো গীতিকাররা তাঁদের লেখনী দিয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেন। এই গানগুলো কেবল মনোরঞ্জনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা সাধারণ মানুষের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাত। ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ বা ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
পুয়ের্তো রিকোর প্রতিবাদ ও ‘কায়ে ১৩’
আধুনিক প্রতিবাদী সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো পুয়ের্তো রিকোর প্রভাবশালী ব্যান্ড কায়ে ১৩। ব্যান্ডের দুই ভাই, রেসিডেন্তে এবং ভিজিটান্তে তাঁদের গানের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন। তাঁদের গানের মূল বিষয়বস্তু ছিল রাজনৈতিক দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং নব্য-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা।
কায়ে ১৩ তাঁদের রেগেটন ও হিপ-হপের মিশ্রণে তৈরি সুরে ধারালো, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আবেগপূর্ণ লিরিক্স ব্যবহার করেন। তাঁদের গান ‘লাতিনো আমেরিকা’ মহাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।
একবিংশ শতাব্দীতেও গান প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা হয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে র্যাপ, হিপ-হপ আর রক গান তরুণদের প্রতিবাদের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন একটি প্রতিবাদী গান মুহূর্তেই দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
‘বুম বুম তেল আবিব’ ও লুকাস গেজ
২০২৫ সালের ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন গায়ক ও প্রযোজক লুকাস গেজ-এর ‘বুম বুম তেল আবিব’ গানটি মুক্তি পায়। গানটি ২০ জুন মুক্তি পায় এবং প্রকাশের পর থেকে রিল, স্টোরি, টিকটক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ সব প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গানটির মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। এই গানের জনপ্রিয়তার কারণ হলো ইসরায়েলের প্রতারণা, নিরীহ মানুষের ওপর হামলা এবং গাজায় চালানো বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা গানের কথা ও বিষয়বস্তুতে তুলে ধরা হয়েছে, যা শ্রোতা-দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
আরব বসন্তের হিপ-হপ: এল জেনারেল
২০১১ সালের আরব বসন্তে প্রতিবাদী সংগীতের বড় উদাহরণ তিউনিশিয়ার র্যাপার এল জেনারেল। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি গান লিখে তৎকালীন স্বৈরশাসক জাইন এল আবিদিন বেন আলী–এর দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন।
তাঁর জনপ্রিয় গান ‘রাইস লেবেল্ড ফ্যামিলি’-এ তিনি শাসকগোষ্ঠীর বিলাসিতা এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার মধ্যেকার বৈষম্য তুলে ধরেন। গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিউনিসিয়ার তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বিক্ষোভে স্ফুলিঙ্গ জোগায়। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে গানটি এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিবাদের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও জনগণের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার দ্রুত তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার প্রতিবাদ: পুসি রায়ট
রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে ফেমিনিস্ট পাঙ্ক ব্যান্ড পুসি রায়ট। ২০১২ সালে মস্কোর একটি গির্জায় তাদের ‘পাঙ্ক প্রেয়ার’ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। তারা সরকারের দমনমূলক নীতি এবং অর্থোডক্স চার্চের সঙ্গে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে গান গেয়েছিলেন।
এই প্রতিবাদী পারফরম্যান্স এবং গানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। এর ফলস্বরূপ গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। পুসি রায়ট প্রমাণ করে শিল্পের মাধ্যমেও ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া সম্ভব।
২০২৪ সালের আন্দোলনে বাংলা র্যাপের বিস্ফোরণ
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাংলা র্যাপ ছিল প্রতিবাদের উদ্দীপক কণ্ঠস্বর। ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার শঙ্কা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের তরুণ র্যাপার সেজান ১৬ জুলাই প্রকাশ করেন ‘কথা ক’ গানটি। গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সেজান প্রশ্ন তোলেন ‘আমার ভাই–বইন মরে রাস্তায়, তর চেষ্টা কইরে? কথা ক।’

হান্নান হোসাইনও ১৭ জুলাই লেখেন ‘আওয়াজ উডা’ গানটি, যা দ্রুত স্লোগানে পরিণত হয়। এই র্যাপারদের গান প্রকাশের দায়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়, এমনকি হান্নানকে গ্রেপ্তার হয়ে ১২ দিন কারাগারে থাকতে হয়। আন্দোলনের সময় অন্তত ৪০টি বাংলা র্যাপ গান প্রকাশিত হয়, যা অন্য যেকোনো ঘরানার চেয়ে অনেক বেশি। ‘বাংলা মা’, ‘বায়ান্ন’, ‘দেশ কার’, ‘রক্ত’-এর মতো গানগুলো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তীব্র উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
সংগীতের প্রতিবাদী শক্তি কালজয়ী এবং অনস্বীকার্য। গান তার গভীর আবেগ এবং স্পষ্ট বার্তার মাধ্যমে সমাজের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মনের কথা তুলে ধরার ক্ষমতা রাখে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রচারমাধ্যম সহজে অর্জন করতে পারে না।
এটি এমন এক সর্বজনীন ভাষা, যা ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমানা অতিক্রম করে মুহূর্তেই হাজারো মানুষকে একই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক সামাজিক বা রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তা সে আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলন হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী লড়াই হোক অথবা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
বব ডিলান, ভিক্টর জারা, মিরিয়াম মাকেবা কিংবা আপেল মাহমুদ, প্রত্যেকেই সুরকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই ধারা অব্যাহত আছে যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো র্যাপ বা হিপ-হপের মতো নতুন ধারাকে বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেমনটি আমরা দেখলাম ‘বুম বুম তেল আবিব’ গানের ক্ষেত্রে। এটি প্রমাণ করে যে ক্ষমতাসীনদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও একটি প্রতিবাদের সুরকে দমিয়ে রাখা অসম্ভব।

জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর পাবনা অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদীতে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯২৩ সালে প্রকাশিত এল এস এস ওমালীর ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (পাবনা) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১৪ ঘণ্টা আগে
আমরা অনেকেই ভাবি যে মানুষ যখন কাউকে অপছন্দ করে, এর পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দৈনন্দিন ছোটোখাটো কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেও আমরা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠি। এই লেখায় এমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা অজান্তেই আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। চলুন জ
১ দিন আগে
নির্বাচন এলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে পোস্টার, মিছিল আর প্রতিশ্রুতির লম্বা তালিকা। কিন্তু এই চেনা ছবির বাইরে বিশ্বরাজনীতিতে এমন কিছু নির্বাচনী প্রচারণা হয়েছে, যা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। কোথাও প্রতিশ্রুতি মহাকাশ বন্দর, কোথাও ঘোড়া উপহার, কোথাও আবার সুইমিং পুলে বিনামূল্যে তোয়ালে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
১ দিন আগে
কোনো কিছু প্রবলভাবে ভালো লাগলে কিংবা আনন্দদায়ক হলে তরুণেরা বলেন ‘জোস্’। তরুণদের ভাষায় ফারসি থেকে বাংলা ভাষায় পরিগৃহীত ‘জোশ’ শব্দটিরও রূপান্তর ঘটেছে। ‘জোশ’ থেকে হয়েছে ‘জোস্’। ফারসিতে ‘জোশ’ শব্দের প্রধান অর্থ তাপ।
২ দিন আগে